রেলের অনিয়ম: ঘুষ-তদবীরেই সমাধান
বাংলাদেশ সরকারের সেবার মধ্যে রেলওয়ে একটি অন্যতম খাত। এই খাতে সেবা নির্বিঘ্নে চালাতে হাজার হাজার কোটি টাকা ভুর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে সরকার। দিচ্ছে নানা রকম সুযোগ সুবিধাও। তবু যেন লাগাম টানতে পারছেনা দুর্নীতি নামক কালো বিড়ালটির। যত সমস্যাই থাকুক না কেন জায়গা মতো তদবীরের মাধ্যমে সকল সমস্যাই সমাধান হয়ে যাওয়ার চিত্রই দিন দিন ফুটে ওঠছে। একের পর এক দুর্নীতিবাজ চিহ্নিত হলেও ঘুষ ও তদবীরের মাধ্যমে রেহাই পেয়ে ক্রমেই আরো ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠছেন তারা। দুর্নীতিবাজদের বিশাল বহরে যেন কোনঠাসা হয়ে আছেন গুটি কয়েক সৎ কর্মকর্তাও। অপরাধের দৃষ্টন্তমুলক শাস্তি না হওয়াকেই এই অবস্থার জন্য দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জনসংযোগ শাখা: পাবলিক রিলেসন্স এর দায়িত্বে থাকা এই দফতরটি সরাসরি জিএম এর তদারকিতে চলে। বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডের প্রচার গণমাধ্যমের সাথে সার্বিক যোগাযোগ ও বিজ্ঞাপন প্রদান ও প্রচারের দায়িত্বটি পালন করে থাকেন। যেখানে সাংবাদিকদের আনাগোনা অন্যান্য দফতরের চেয়ে একটু বেশি থাকে কিন্তু সাংবাদিকদের সাথেও অনিয়ম করতে বিন্দুমাত্র সমিহ করেনি এই দফতরটি। বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে থাকেন। বিজ্ঞাপনের অর্ডার আদায় করতে জড়িয়ে পড়েন অনৈতিক লেনদেনে। বিজ্ঞাপনের তালিকা পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে বন্টনে ব্যাপক বৈষম্য। বেশি প্রচার আছে এমন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন না দিয়ে অপেক্ষাকৃত প্রচার সংখ্যা কম এমন পত্রিকায় বিজ্ঞাপণ প্রকাশের অনুমতি দিয়ে থাকে। কয়েকটি পত্রিকা অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে সারা বছর হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকার বিজ্ঞাপণ আবার যারা নগদ টাকা দিতে চায়না বিজ্ঞাপন তাদের জন্য সোনার হরিণ। বছরের পর বছর ধর্ণা দিয়ে কার্যাদেশ পাওয়া যায়না।
প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক: অনিয়মের একটি বড় দফতর এটি। রেলের যাবতীয় কেনাকাটার বেশিরভাগই করে থাকেন তারা। জানা যায় যে কোন দফতরের পন্য সামগ্রী কেনার ক্ষেত্রে এই দফতরের কাছে চাহিদা পাঠানো হয়। কেনাকাটার প্রক্রিয়াটি এরাই সম্পন্ন করে থাকেন। এখানে বছরের সবসময়ই সরবরাহকারীদের আনাগোনা দেখা যায়। শুধু তাই নয় অফিসারদের কাছে করে থাকেন নানা তদবীর, অফার করা হয় লোভনীয় কমিশন। এছাড়াও রাজনৈতিক প্রভাবতো আছেই এমনকি মন্ত্রীর আত্মীয় স্বজন পরিচয়েও করা হয় ব্যবসা বা কাজ পাইয়ে দেওয়ার চুক্তি। এতে তদবীরকারী , সরবরাহকারী ও অফিসারদের সাময়ীক লাভ হলেও বিশাল ক্ষতির মুখে পতিত হয় সরকারী এই প্রতিষ্ঠানটি। যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে কমিশন বাণিজ্যের নামে নির্দ্বিধায় তাকে পথে বসাতে কার্পণ্য করছেনা। আর লোভে পড়ে বাজারের নিম্নমানের পণ্য কিনছেন অধিক মুল্য দিয়ে। বিভিন্ন সময় এসব অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার প্রমানও পেয়েছে তদন্ত কমিটি। কিন্তু শাস্তির ক্ষেত্রে তেমন কোন উদাহরণ চোখে পড়েনি। গত বছর কেনাকাটায় অনিয়মের সংশ্লিষ্টতা পেয়ে ২৯ কর্র্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করলেও তা না করায় বহাল তবিয়তে আছেন অনেকেই আবার তাদের কয়েকজনকে বদলী করা হয়েছে মাত্র।
এস্টেট শাখা: রেলওয়ে পুর্বাঞ্চলের প্রধান ভূ-সম্পত্তির দফতর থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় পুর্বাঞ্চলের মোট জমি আছে ২৪,৪৪০ একর, এর মধ্যে অপারেশন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে ১৫,০৩১ একর আর অব্যবহৃ ৩৫৮৫ একর ও ৬২০ একর জমি অবৈধ দখলে থাকার হিসাব দেখালেও প্রকৃতপক্ষে অব্যবহৃত জমির বেশিরভাগই অবৈধ দখলদারের কব্জায় আছে। আবার অপারেশন কাজে ব্যবহারের জায়গা অর্থাৎ রেললাইন লাগোয়া জমিও দখল করে চুক্তি ভিত্তিক ভাড়ায় লগিয়ত করেছে এক শ্রেণির অসৎ কর্মকর্তার যোগসাজসে কথিত ক্ষমতাদরেরা। অথচ এসব দেখবালের দায়িত্বপ্রাপ্তরা একে অপরের উপর দায় চাপিয়ে কোনরকমে পার পেয়ে যেতে চেষ্টায় রত আছেন। আবার অনেকেই আছেন সামান্য কিছু জমি ইজারা নিয়ে অধিক জমি দখল করে রেখেছেন আর সংশ্লিষ্ট দায়ত্বশীলরা নিয়মিত মাসোয়ারা আদায় করে নিজের ভুড়ি বাড়িয়ে চলছে অনবরত।
নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি): রেলওয়ের সম্পত্তিতে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানোসহ যাবতীয় নিরাত্তার কাজটি এদেরই করার কথা কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য রেলের শতশত একর জমির অবৈধ দখলদারদের সাথে রয়েছে তাদের গোপন সখ্যতা, মাসিক টাকার চুক্তিতে তাদের নিরাপত্তা দিয়ে থাকেন। রেলের লাইন ডিপোসহ সকল মালামালের চুরি বা যেকোন ক্ষতি ঠেকাতে এরা বদ্ধ পরিকর হলেও বিভিন্ন সময়ে চুরি হয়ে যাচ্ছে মুল্যবান যন্ত্রাংশসহ পুরাতন লোহা প্রতিরোধের ব্যবস্থাতো দুর্বল বটেই এমনকি মাঝে মাঝে চোর চক্রের সাথে এই বাহিনীর কতিপয় সদস্যের আঁতাত থাকার বিষয়টিও ওঠে এসেছে।
প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী (সিএমইর দফতর): যান্ত্রিক যেকোন বিষয় দেখাশোনার দায়িত্বে আছেন চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ও তার দফতর। রেলের সেবার মান উন্নত করা ও ভুর্তুকির পরিমান কমিয়ে আনার জন্য এই দফতরের গুরুত্ব অনেক। কিন্তু মালামাল সরবরাহে সিন্ডিকেট, কেনাকাটায় অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, নিম্নমানের যন্ত্রাংশের ব্যবহারসহ নানারকম দায়িত্বে অবহেলার ফলে মুখ থুবরে পড়ছে উন্নয়ন। চালুর আগেই অচল হয়ে আছে হুন্দাইয়ের আধুনিক ইঞ্জিন, অস্তিত্ব সংকটে আছে ডেমু ট্রেন। রাস্তায় রাস্তায় অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে শতশত কোচ ও ইঞ্জিন। নিজস্ব কারখানা থাকা সত্ত্বেও মালামাল তৈরি না করে খোলা বাজার থেকে নিম্নমানের মাল ক্রয় করে রেলের অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে চলছে দিনের পর দিন।
প্রধান প্রকৌশলী: সিভিলের যাবতীয় কাজ এই দফতরের মাধ্যমেই করা হয়ে থাকে অবকাঠানো নির্মাণ রক্ষণা বেক্ষণ ও লাইন মেরামতের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো এই দফতর করে থাকেন। কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে এই দফতরেও ঠিকাদারদের এটা সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি কমিশন বাণিজ্যের ফলে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কোন রকমে দায় সাড়া কাজ করছেন ফলে কাজের স্থায়ীত্ব হয় খুব অল্প সময়। এরা আরো একটু সচেতন হলে এই প্রতিষ্ঠানের অনেক অর্থ সেভ করা সম্ভব।
সিসিএম: বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে রেলের রাজস্ব আহরণে অনেক বড় ভুমিক রয়েছে এই বিভাগের। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে টিকেট প্রাপ্তিতে মানুষের ভোগান্তি যেমন সীমাহীন আবার তেমনি বিনা টিকেটেও বহন করছে প্রচুর যাত্রী যার ফলে অর্জিত হচ্ছেনা কাঙ্খিত রাজস্ব। স্টেশন এলাকায় দোকান বরাদ্দ ও ভাড়া আদায়ের কাজটিও এরা করে থাকেন প্রায় প্রতিটি স্টেশনেই দেখা যায় ডিসিও, স্টেশন মাস্টার বা সংশ্লিষ্ট কারো ছত্রছায়ায় বাসা বেধেছে অবৈধ দখলদাররা। এতে করে রেল কর্তৃপক্ষ রাজস্ব না পেলেও কতিপয় অসৎ অফিসাররা তাদের পকেট ভারি করছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের সাথে সখ্যতার ফলে বকেয়া আদায়ে তেমন আগ্রহ দেখা যায়না।
নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার বিষয়ে সাজা প্রাপ্ত, দুদক বা তদন্ত কমিটির তদন্তে দোষী প্রমানিত হওয়া কর্মকর্তারাও আছেন স্বপদে আসীন। রেলের প্রতিটি ক্ষেত্রেই অনিয়মের মাত্রায় নতুন রেকর্ড যোগ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। দুর্নীতির দায়ে মামলা করা হয়েছে এন কিছু লোকও আছেন বহাল তবিয়তে। আবার এসব ব্যক্তিদের আসীন করেছেন গুরুত্বপূর্ণ পদে। এজন্যই বলা হয় এখানে যত অপরাধই হোকনা কেন কোন সমস্যা নাই যথা সময়ে যথা স্থানে তদবীরের মাধ্যমে ঘুষের প্যাকেট পৌছে দিতে পারলেই সকল কিছুর সমাধান সম্ভব সরকারী এই প্রতিষ্ঠানটিতে।
এসব অনিয়মের লাগাম টানতে রেলওয়ের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে রেলওয়ে পুর্বাঞ্চলের মহ-ব্যবস্থাপক (জিএম) জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন সিসিএস এর বিষয়টি আমাদের অধিনে নয় এটা রেল ভবন থেকে মনিটরিং করা হয়। আর সবধরণের অনিয়ম হয়তো আমরা একদিনে বন্ধ করতে পারবোনা কিন্তু আমরা চেষ্টা করছি যাতে কোনরকম অনিয়ম না হয়। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে হয়তো একদিন দুর্নীতিমুক্ত রেল উপহার দিতে সক্ষম হবো।
শাফিন / শাফিন
কক্সবাজার সমুদ্র এলাকায় কোস্ট গার্ডের অভিযান
মোংলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে অপহৃত নারী উদ্ধার; ১ অপহরণকারী আটক
কালকিনিতে টানা ৬ষ্ঠবারের মতো শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান মোল্লারহাট ফাযিল মাদরাসা
লামায় বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল
নেত্রকোনায় মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় যুবককে ছুরিকাঘাতে জখম
কুড়িগ্রামে আহত অবস্থায় বিরল প্রজাতির ময়ূর উদ্ধার
রায়গঞ্জে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সচেতনতায় উঠান বৈঠক
রৌমারীতে ইমারত নির্মান শ্রমিকের নব নির্মিত অফিস শুভ উদ্বোধন
বাগেরহাটে এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক সহ ১২ সদস্যর আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ
বিপুল পরিমান অস্ত্রসহ ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার, শ্রমিক ফেডারেশনের বিবৃতি
ক্ষমতাকে আমানত হিসেবে রাখার ঘোষণা আবু সুফিয়ানের
সাবেক ছাত্রলীগ নেতার পদোন্নতি নিয়ে কেজিডিসিএলে তোলপাড়