দখল-দূষণে বিপন্ন রাঙ্গুনিয়ার ইছামতি নদী
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় দখল ও দূষণে বিপন্ন হয়ে পড়েছে সরকারি ডোবা, পুকুর ও খাল-নদীগুলো। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চট্টগ্রাম-কাপ্তাই রোয়াজারহাট সড়ক। এ সড়ক রাঙ্গুনিয়ার যোগাযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দু বলে জানা যায়। রাঙ্গুনিয়ার ঐতিহ্যবাহী বাজার হিসেবে সুপরিচিত রোয়াজারহাট বাজার। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অনেক খাল ও ডোবা সংরক্ষণের অভাবে অস্তিত্ব হারাচ্ছে। এই নদীর উপরে ব্রিজ দিয়ে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত কিন্তু সে ইছামতি নদী আবর্জনায় বিপন্ন। আগে ছিল খানিকটা পাড়জুড়ে, কিন্তু ধীরে ধীরে ইছামতির সবখানেই ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। ব্রিজ থেকেই এসব ময়লা-আবর্জনা দেখা যায়। আর এদিকে যেতে হলে হাত দিয়ে নাক চেপে ধরতে হয়। নদীর পাড়ে কলোনী থেকে যত্রসব ময়লা পাইপ দিয়ে ফেলা হয় নদীতে। পরিবেশকর্মীরা এ জন্য সংশ্লিষ্ট পরিবেশ দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনকে দায়ী করছেন।
গত কয়েক দিন রাঙ্গুনিয়ার ইছামতি নদীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, যে যার মতো নদীর বুকে ফেলছে আবর্জনা। আর এতে দূষিত হয়ে পড়েছে পানি। অনেক স্থানে পানির রঙ বদলে গেছে। ইছামতি বাঁচাতে তথ্যমন্ত্রীর সহযোগিতায় নদীর পাড়ে কিছু এলাকায় চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্লক স্থাপন করেছেন। এছাড়াও একটি প্রকল্পের কাজ চলমান আছে, কিন্তু এরপরও দূষণ থেকে মুক্তি পাচ্ছে না এ নদী। পরিবেশ অধিদপ্তর দিবস এলে জেগে ওঠে দপ্তর কর্তারা। ইছামতি নদীর জায়গা দখল করে অনেকেই দোকান দিয়েছে। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
পরিবেশ কর্মীরা জানান, রোয়াজারহাট ইছামতি নদীর পাশেই মাছের বাজার, মুরগীর বাজার, গরুর বাজার ও পাইকারি বাজার। অথচ এসব বাজারে কোনো সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড নেই। নদীর আশেপাশের সবজি বাগানের সব ময়লা ফেলা হচ্ছে সরাসরি নদীতে।
১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে নদী, খাল, পুকুর ভরাট ও দূষণ করা যাবে না, এমনকি শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না বলেও উল্লেখ রয়েছে। একইভাবে ২০১৩ সালের পানি অধিকার আইনেও বলা হয়েছে- পানি নিস্কাশনে বাধা দেওয়া যাবে না বা দূষণ করা যাবে না। এ ছাড়া ২০০০ সালের জলাধার আইনেও নদীর শ্রেণি পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো, ফেরদৌস আনোয়ার জানান, বজ্য পরিস্কার করা পৌরসভার কাজ। তবে নদী দূষণ হলে আমরা ব্যবস্থা নিব।
পৌরসভার ৮ নং কাউন্সিলর মো, কফিল উদ্দিন সিকদার জানান, আমরা সকলকে নদীতে ময়লা ফেলতে নিষেধ করি। কিন্তু পৌর এলাকার ট্রাকভর্তি ময়লা নদীর পাড়ে ফেলতে হয়। এক্ষেত্রে নদী ও পরিবেশ দুইটি দূষণ হচ্ছে। সমন্বয়হীনতা ও মতানৈক্যতার কারণে আমরা সমাধানে যেতে পারেনি। তবে আগামী আলোচনা সভায় পৌর মেয়র ও কাউন্সিলর বসে এ বিষয়ে সিদ্বান্ত নিতে হবে।
স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এসব আইনের কথা তাদের জানা নেই। এদিকে উপজেলার ব্যস্ততম এই নদীর উপর দিয়ে বাজার সমিতির লোকজন, পৌর মেয়র, কাউন্সিলর ও প্রশাসন প্রতিনিয়ত যাতায়াত করে আসছে। তাদের কারো এই বিষয়ে কোন মাথা ব্যাথা নেই।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজীব চৌধুরী জানান, এ বিষয়টি আমরা নদী রক্ষা কমিশনকে জানিয়েছি। এক্ষেত্রে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।
ইছামতি নদীটি রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকা হতে উৎপত্তি লাভ করেছে। নদীটির দৈর্ঘ্য ৩৭ কিলোমিটার এই নদীর জলধারা চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগর ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে কর্ণফুলী নদীতে নিপতিত হয়েছে। রাজানগর, পারুয়া, হোসনাবাদ, রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়ন দিয়ে প্রবাহকালে বেশ কয়েকটি ছোট খাল ও ছড়া এই নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
শাফিন / জামান
কক্সবাজার সমুদ্র এলাকায় কোস্ট গার্ডের অভিযান
মোংলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে অপহৃত নারী উদ্ধার; ১ অপহরণকারী আটক
কালকিনিতে টানা ৬ষ্ঠবারের মতো শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান মোল্লারহাট ফাযিল মাদরাসা
লামায় বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল
নেত্রকোনায় মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় যুবককে ছুরিকাঘাতে জখম
কুড়িগ্রামে আহত অবস্থায় বিরল প্রজাতির ময়ূর উদ্ধার
রায়গঞ্জে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সচেতনতায় উঠান বৈঠক
রৌমারীতে ইমারত নির্মান শ্রমিকের নব নির্মিত অফিস শুভ উদ্বোধন
বাগেরহাটে এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক সহ ১২ সদস্যর আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ
বিপুল পরিমান অস্ত্রসহ ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার, শ্রমিক ফেডারেশনের বিবৃতি
ক্ষমতাকে আমানত হিসেবে রাখার ঘোষণা আবু সুফিয়ানের
সাবেক ছাত্রলীগ নেতার পদোন্নতি নিয়ে কেজিডিসিএলে তোলপাড়
শালিখার দুঃস্ত মহিলাদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ
Link Copied