ঢাকা মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামে বাসায় গিয়ে দুদক কর্মকর্তা ও পরিবারকে প্রাণ নাশের হুমকী


চট্টগ্রাম ব্যুরো photo চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: ৩১-১-২০২২ দুপুর ১১:২৬

 দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর সাবেক উপ সহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিনকে বাসায় গিয়ে অশোভন আচরণসহ প্রাণ নাশের হুমকী দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।  গত রোববার (৩০ জানুয়ারী) সন্ধ্যা ৭.০৬ কর্নফুললী গ্যাস ডিস্টিবিউশন গ্যাস কোম্পানী লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পেট্রোবাংলার পরিচালক (পরিকল্পনা) আইয়ুব খান চৌধুরী (৫৯) (বর্তমানে পিআরএল ভোগরত) ও অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তিসহ তার বাসার নিচে গিয়ে এই হুমকী প্রদান করেন । এই ঘটনায় আইনগত সহায়তা প্রদানের জন্য স্থানীয় খুলশী থানায় ওইদিন রাতেই একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। খুলশী থানার জিডি নং- ১৬৪৫ তারিখ ৩০ জানুয়ারী ২০২২। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শরীফ উদ্দিন।   
জিডি সুত্রে জানা যায় দুর্নীতি দমন কমিশন পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ সহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিন  ৩ দিনের ছুটিতে নগরীর খুলশী থানাধীন ভুইয়া গলির এয়ারবেল মোস্তফা ডি ম্যানশনের ১০৩৮ নং বাড়ির ৩/এ এর ভাড়া ফ্ল্যাটে এসেছিলেন। ওই সময়ে শরীফ উদ্দিন ভবনের নিচে অন্য একজন অতিথির সাথে আলাপ করার সময় উল্লেখিত ব্যক্তিরা অনধিকার প্রবেশ করে দাড়োয়ানের উপস্থিতিতে অশোভন আচরণ করতে থাকে । একপর্যায়ে আইয়ুব আলী খান চৌধুরী ও এলজিইডির  পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তি জানতে চান কেন তাদের বিরুদ্ধে নিউজ করানো হয়েছে। চট্টগ্রামে থাকাকালীন সময়ে বাদীর কারনে অনেক লোকের জীবন ধ্বংস হয়ে গেছে উল্লেখ করে বলেন চাকরী কিভাবে করে দেখে নিবে এবং দুদক দিয়ে বাদীর জীবন নষ্ট করে দিবে একপর্যায়ে ফোন দিয়ে বাইরে থেকে লোকজন আনে এবং বাদী ও বাদীর পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকী প্রদান করে। 

উল্লেখ্য  ২০২০ সালে ২২ সেপ্টেম্বর কর্ণফুলী গ্যাসের ৩৭ ভুয়া কর্মকর্তাকে রাতের আঁধারে পদোন্নতি দেয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। নিয়োগ পরীক্ষায় ৩৭ কর্মকর্তা ফেল করেন। এদের অনেকের শিক্ষাগত যোগ্যতাও ছিল না। তবু ১০ বছর আগে ৩৭ জন লোক ‘নিয়োগ’ পেয়েছিলেন সহকারী ব্যবস্থাপক পদে। জালিয়াতি ধামাচাপা দিতে এমনকি তাদের কোনো নথিপত্রও রাখা হয়নি। এদের নিয়োগ পরীক্ষার কোনো নথি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার খাতার কিছুই পাওয়া যায়নি। কারও কারও সনদও জাল। কেউ কেউ পাসের আগে পাস দেখিয়ে সার্টিফিকেট জমা দিয়েছেন নিয়োগের সময়। এমনকি নজিরবিহীন কাণ্ডে নিয়োগ পাওয়া সেই কথিত ‘কর্মকর্তারা’ গত ১০ বছরে পদোন্নতিও বাগিয়ে নিয়েছেন। নিয়োগ-জালিয়াতির বিষয়ে অনুসন্ধান করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সেই অনুসন্ধানের তথ্য গোপন করে দেয়া হয় পদোন্নতি। এ ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় দুদকের ভুয়া ক্লিয়ারেন্স।

ভুয়া নিয়োগ এবং পদোন্নতির অভিযোগটি অনুসন্ধান (চট্টগ্রাম-২’র ই/আর নং-২৬/২০১৮) শেষে সংস্থার সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ কমিশনে প্রতিবেদন পাঠায়। তাতে কর্ণফুলী গ্যাসের তৎকালিন ব্যবস্থাপনা পরিচালক আইয়ুব খান চৌধুরী ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে আংশিক অনুসন্ধান বিশদ (মধ্যরাতের পদোন্নতি ও ৩৭ ভুয়া কর্মকর্তার নিয়োগের বিষয়ে) বিবরণ ছিল। প্রতিবেদনে ৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা রুজুর সুপারিশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দুদকে অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন থাকা, গত ২০১১ সালের সহকারী ব্যবস্থাপক (সাধারণ) পদের মূল নিয়োগ নথি অসৎ উদ্দেশ্যে বিলোপসাধন করে এবং নিয়োগপ্রাপ্ত মো: মহিউদ্দিন চৌধুরীর ব্যক্তিগত নথি জব্দ থাকা, গত ২০১৫ সালের উপ-ব্যবস্থাপক (কারিগরি) পদের নিয়োগ নথি এবং দুদক কর্তৃক মো: আশেক উল্লাহ চৌধুরী ও শাপলা দেওয়ানজির ব্যক্তিগত নথি জব্দ থাকা, গত ৩১/১২/২০১৭ ও ৩১/১২/২০১৮ তারিখের রেটিং শীট জব্দ থাকা এবং দুদকের ছাড়পত্র ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অনুমোদন ছাড়াই ৩৩ দিন মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আপন ছোট ভাই প্রকৌশলী রফিক খানকে ব্যবস্থাপক হতে উপ-মহাব্যবস্থাপক (কারিগরি) পদে পদোন্নতির জন্য তড়িগড়ি করে এবং নিয়মের তোয়াক্কা না করে অসৎ উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে একে অপরের যোগসাজশে নিজেরা লাভবান হওয়ার নিমিত্তে সর্বমোট ৫৭ জনকে পদোন্নতি প্রদানের সাথে জড়িত থেকে অপরাধমূলক অসদাচারণ করে অভিযুক্ত (১) প্রকৌশলী মো: সারওয়ার হোসেন, মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জি: সার্ভিস), কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লি:, পিতা: মৃত আব্দুস শুকুর খান, স্থায়ী ঠিকানা ৬-ডি/২২-১৬, মীরপুর, ঢাকা-১২১৬, (২) লুৎফুল করিম চৌধুরী, উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন), কেজিডিসিএল, প্রধান কার্যালয়, ষোলশহর, চট্টগ্রাম; পিতা-মরহুম মো: নূরুন্নবী চৌধুরী, স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: শোবন্দী, ডাকঘর: বরমা, উপজেলা: চন্দনাইশ, জেলা: চট্টগ্রাম ও (৩) সুলতান আহম্মেদ, ব্যবস্থাপক, কেজিডিসিএল, ফৌজদারহাট, চট্টগ্রাম, পিতা মৃত তোরাব আলী মন্ডল, মাতা মৃত জহুরা খাতুন, গ্রাম-তারাবাড়িয়া, ডাকঘর-সাতবাড়িয়া, থানা-সুজানগর, জেলা-পাবনা, দণ্ডবিধি’র ২০১/৪০৯/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজুর সুপারিশ করে এ আংশিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন (মধ্যরাতের পদোন্নতি ও ৩৭ ভুয়া কর্মকর্তার নিয়োগের বিষয়ে) দাখিল করা হয়েছিল।

শাফিন / শাফিন

রাঙ্গুনিয়ায় ১৭ মামলার পরোয়ানার আসামি গ্রেফতার

পটুয়াখালীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক নার্স দিবস পালিত

হাটহাজারীতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের উদ্ধোধন করেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলান

রান্নাঘরের ইঁদুরের গর্ত থেকে বিষধর কোবরা উদ্ধার

সুবর্ণচরে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন

ধুনটে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেফতার

চারটি নতুন ইনস্টিটিউট যুক্ত হচ্ছে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে

জুড়ী উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় তুফায়েল আহমেদ

‎আনোয়ারায় ভূমির মালিকানা নিয়ে কেইপিজেড ও স্থানীয়দের উত্তেজনা

বড়লেখায় অবৈধ বাঁধ অপসারণ ও রিং জাল ধ্বংস

হোমনায় তালিকাভুক্ত দুই মাদক ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন মেয়াদে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল জরিমানা

নাজিরপুরে রেড ক্রিসেন্টের উদ্যোগে বন্যাদুর্গতদের সহায়তা প্রদান

হাতিয়ায় পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু