ঢাকা সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬

কর্ণফুলীতে ডিজিটাল সেন্টারে উদ্যোক্তার ব্যাপক অনিয়ম


চট্টগ্রাম ব্যুরো photo চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: ৪-২-২০২২ দুপুর ৩:১৫

জনগণের দোড় গোঁড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করলেও চট্টগ্রাম কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আর এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ ও ইউএনও'র হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ইউনিয়নবাসী। 

চরপাথরঘাটার ডিজিটাল সেন্টারে সেবার বদলে চলছে রমরমা অর্থ বাণিজ্য। এখানে সরকার নির্ধারিত ফি'র চেয়ে বেশি  অর্থের বিনিময়ে জন্মনিবন্ধন সনদের বয়স কম-বেশি করাসহ মোটা অংকের অর্থ হলেই মিলে বিভিন্ন প্রকার সনদ! এমনকি চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের এক যুবলীগ নেতার ছেলেমেয়েদের জন্মসনদ সংশোধন করতে নগরীর কাজির দেউড়ি এলাকার 'রোদেলা বিকেল' নামক রেস্টুরেন্টে বসে টাকার বিনিময়ে দফারফা করার অভিযোগ উদ্যোক্তা রিজা খানের বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে গিয়ে দেখা গেছে, উদ্যোক্তা রিজা খান ডিজিটাল সেন্টারে নিজের ভাইকে পরিষদে বসিয়ে জন্মসনদ প্রদানে সরকারি নির্ধারিত ফি থেকে তিনগুণ বেশি টাকা আদায় করছেন। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে হয়রানি করে আসছেন। বিভিন্ন ভাতায় সেবা প্রার্থীদের অন্তর্ভুক্তির নামে দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করছেন। 

পরিষদের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভোলা জেলার লালমোহন থানার নাজমুল হাসানসহ একাধিক জনকে জন্মসনদ তৈরি করে দিয়েছেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিষদ সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ উদ্যোক্তা লিজা খাঁন নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। তার বাহিরে কেউ কথা বলতে পারে না। পরিষদের সদস্যদের বিভিন্ন প্রকল্পের প্রদানকৃত তালিকা তিনি নিজে কাটছাঁট করে থাকেন। তার ক্ষমতার উৎস কোথায়, নিজেরাই জানেন না। তার বিষয়ে অনেক অভিযোগ, এসব অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যানের কোন প্রতিকার নেই। ওদিকে, ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা হয়ে কীভাবে তার দায়িত্বের বাইরের কাজগুলোতে নিয়ন্ত্রণ করছেন, বিষয়টি সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে।

ভুক্তভোগিদের এসব বিষয় সম্পর্কে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান হাজী ছাবের আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে মুঠোফোনে বলেন, ওর বিরুদ্ধে লোকজন নানা অভিযোগ জানায় সেটা সত্য। আর আগে সরকারি ফি ছিলো ৫০ টাকা। তখন সে বেশি নিতো। এখন গত কয়েকদিন আগে সরকার যখন একটা ঘোষণা দিলো তখন থেকে আর নেয় না।' 

জানা যায়, ডিজিটাল সেন্টারের এই উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ আসায় চেয়ারম্যান অতিষ্ট হয়ে কিছুদিন পূর্বে নতুন করে উদ্যোক্তা নিয়োগ দিতে পরীক্ষা নেন। সব প্রক্রিয়া শেষে চরপাথরঘাটার ইকবাল হোসেন নামে এক যুবককে বাছাই করা হলেও শেষ মুহুর্তে নিয়োগ দিতে পারেনি চেয়ারম্যান। এর পেছনের ঘটনায় জানা যায়, চেয়ারম্যানের অক্ষমতা ও বর্তমান উদ্যোক্তা রিজা খান চেয়ারম্যানের কথায় দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়া ও কম্পিউটারের পাসওয়ার্ড লুকিয়ে রাখা।

কেন নতুন করে উদ্যাক্তা নিতে পারলেন না এ বিষয়ে জানতে চাইলে চরপাথরঘাটার চেয়ারম্যান হাজী ছাবের আহমদ বলেন, ঐ সময় আসলে উদ্যোক্তা রিজার ভাইসহ ভালো ভাবে কাজ করবে বলায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিলো। এরচেয়ে বেশি কিছু আর বলতে পারব না। আমার যা জানানোর তা জানালাম। আপনারা ইউএনও ম্যাডামের কাছে যান। উনাকে বিষয়টি জানান। আর উদ্যোক্তা আমার কথা শুনবে না। তা হতে পারে না। সে রকম হলে তো আমি বের করে দেবো। এটা ঠিক না।'

চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের বর্তমান ও সাবেক একাধিক ইউপি সদস্য ও এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই উদ্যোক্তা রিজা খান অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জন্মনিবন্ধন, বিধবা ভাতা কার্ড সংশোধন ও নানা কাগজ উত্তোলনে টাকা আদায় করে অযথা জনগণকে হয়রানি করছেন। বিষয়টি জানার পরও চেয়ারম্যান কোন ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। কারণ ঔ উদ্যেক্তা চেয়ারম্যানের কথাও পাত্তা দেন না বলে শুনেছি। 

এছাড়াও বিভিন্ন ছোটখাটো কাজেও অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হয় সেবাপ্রার্থীদের। এমনকি পরিষদ অফিস কক্ষে তিনি কাজ বাদ দিয়ে আড্ডা দেন। এজন্য এলাকাবাসী তার ওপর আরো বেশী ক্ষিপ্ত।

পাশাপাশি আরো জানা যায়, উদ্যোক্তা রিজার সাথে গোপন লেনদেনে পরিষদের দুজন ইউপি সদস্য জড়িত। যারা হোয়াটস আপ/ ইমোতে জন্মসনদ সংশোধন ও নতুন করে সংগ্রহ করে মাসে অর্ধ লক্ষ টাকা আয় করছেন।'

এসব বিষয়ে অভিযুক্ত চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা রিজা খান বলেন, আমি কিংবা আমার ভাই কেউ ফর্ম জমা নিই না। আমার স্টাফ নেয়। বেশি টাকা কিভাবে নিলাম। প্রতিবেদক জানতে চাইলেন স্টাফটা কে? তখন কোন সদুত্তর নেই রিজার। তিনি বুঝাতে চাইলেন তিনি কোনো কাজে অতিরিক্ত অর্থ নেন না। নিয়ম মেনেই তিনি কাজ করছেন। 

চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব দীপক কুমার পাল বলেন, এই বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। আপনারা চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলুন।

কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা সুলতানা প্রতিবেদককে বলেন, এব্যাপারে কেউ আমাকে লিখিত অভিযোগ করে নাই। আমি তো কারো মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে পারি না। চেয়ারম্যান-মেম্বার কিংবা জনগণ যদি লিখিত অভিযোগ করে তবে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো।'

চট্টগ্রাম স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ বদিউল আলম প্রতিবেদককে বলেন, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে নির্দিষ্ট সামান্য অর্থ নেয়া ছাড়া অবৈধ অর্থ  লেনদেনের কোন সুযোগ নেই। নিঃসন্দেহে এটি একটি গর্হিত কাজ। খোঁজ নিয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি।

এমএসএম / এমএসএম

কক্সবাজার সমুদ্র এলাকায় কোস্ট গার্ডের অভিযান

মোংলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে অপহৃত নারী উদ্ধার; ১ অপহরণকারী আটক

কালকিনিতে টানা ৬ষ্ঠবারের মতো শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান মোল্লারহাট ফাযিল মাদরাসা

লামায় বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল

নেত্রকোনায় মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় যুবককে ছুরিকাঘাতে জখম

কুড়িগ্রামে আহত অবস্থায় বিরল প্রজাতির ময়ূর উদ্ধার

রায়গঞ্জে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সচেতনতায় উঠান বৈঠক

রৌমারীতে ইমারত নির্মান শ্রমিকের নব নির্মিত অফিস শুভ উদ্বোধন

বাগেরহাটে এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক সহ ১২ সদস্যর আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ

বিপুল পরিমান অস্ত্রসহ ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার, শ্রমিক ফেডারেশনের বিবৃতি

ক্ষমতাকে আমানত হিসেবে রাখার ঘোষণা আবু সুফিয়ানের

সাবেক ছাত্রলীগ নেতার পদোন্নতি নিয়ে কেজিডিসিএলে তোলপাড়

শালিখার দুঃস্ত মহিলাদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ