ঢাকা শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬

অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন, হুমকিতে বাঁধ-বসতি


জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক  photo জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩-২-২০২২ বিকাল ৬:৯

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নে যমুনা নদী ও নদীতে জেগে ওঠা চরে খননযন্ত্র  (ড্রেজার) বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তেওতা ইউনিয়নের নেহালপুর থেকে জাফরগঞ্জ পর্যন্ত ৯টি পয়েন্টে মোট ১৯টি ড্রেজার বসানো হয়েছে। এসব ড্রেজার দিয়ে দিন-রাত বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। পাশাপাশি বালু তুলে ভিটেবাড়ি ভরাটের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে হুমকির মধ্যে পড়েছে যমুনা নদীর পূর্ব তীর সংরক্ষণ বাঁধ ও বসতভিটা।

ড্রেজার মালিকরা বলছেন, স্থানীয় প্রশাসন ও সাংবাদিকদের ম্যানেজ করেই যমুনা নদী ও নদীতে জেগে ওঠা চরে খননযন্ত্র বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছেন তারা। তবে ড্রেজার মালিকদের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি, অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।  

আর স্থানীয়রা বলছেন, অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করায় তাদের বসতভিটা ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ড্রেজার মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না তারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো নজরদারী নেই বলেও দাবি তাদের।

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০-এর (৪)-এর(খ) ও (গ) ধারা অনুযায়ী, সেতু, কালভার্ট, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু তোলা যাবে না। নদের তীর ভাঙনের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও বালু তোলা নিষেধ।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের নেহালপুর এলাকায় যমুনা নদীতে ভারী খননযন্ত্র বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এই এলাকায় দুটি খননযন্ত্র বসানো হয়েছে। যার একটি উপজেলা যুবলীগ নেতা রবিউস সানি ও অন্যটি স্থানীয় ড্রেজার ব্যবসায়ী মনিরের। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন তারা। এই ড্রেজার দুটি বসানো হয়েছে যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ থেকে একশ মিটারের মধ্যে।

এছাড়া সমেজঘর তেওতা এলাকায় দুটি খননযন্ত্র বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বিশ^জিৎ দাসের আর একটি তেওতা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাদেরের। এই ড্রেজার দুটি যমুনা নদীর তীর থেকে ৬০-৭০ মিটারের মধ্যে। নদীর তীরে রয়েছে জনবসতি।

তেওতা এলাকায় একটি ড্রেজার বসিয়ে বালু তুলছেন উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও তেওতা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী আবুল বাশার সুমন। এই ড্রেজারটি বসানো হয়েছে তেওতা বাজারের ১০০-১৫০ মিটারের মধ্যে।

দক্ষিণ তেওতা এলাকায় দুটি ড্রেজার বসিয়ে বালু তুলছেন ড্রেজার ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম ও নেহালপুরের ড্রেজার ব্যবসায়ী মনির। ড্রেজার দুটি বসানো হয়েছে যমুনা নদীতে জেগে ওঠা চরে। গাংডাইল এলাকায় রয়েছে তেওতা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের ও তার কাকাতো ভাই মুক্তারের দুটি ড্রেজার। তেওতা বাছেট এলাকায় আবুল ও বাচ্চু নামের দুই ব্যবসায়ী আরো দুটি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। এই ড্রেজার দুটিও বসানো হয়েছে যমুনা নদীর জেগে ওঠা চরে।

তেওতা মালুচি এলাকায় যমুনার জেগে ওঠা চরে আরও দুটি ড্রেজার বসিয়েছেন আব্দুল হালিম ও রেজা নামে দুই ড্রেজার ব্যবসায়ী। রেজার ড্রেজারের অংশীদার হিসেবে রয়েছেন তেওতা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের। এই ড্রেজার দুটি বসানো হয়েছে যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের ১০০ মিটারের মধ্যে। 

জাফরগঞ্জের গোয়ারিয়া এলাকায় যমুনা নদীর জেগে ওঠা চরে দুটি ড্রেজার বসিয়ে বালু তুলছেন নান্নু নামে এক ড্রেজার ব্যবসায়ী ও করিম চেয়ারম্যানের ছেলে রাকিব। আর জাফরগঞ্জের ধুবলিয়া এলাকায় যমুনা নদীর জেগে ওঠা চরে বসানো হয়েছে আরও চারটি ড্রেজার। এগুলো বসিয়েছেন ড্রেজার ব্যবসায়ী ফরহাদ, আজগর, জাকির ও জিয়া। এই ড্রেজারগুলো বসানো হয়েছে যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের ৫০-১০০ মিটারের মধ্যে।

অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের কথা স্বীকার করেন রবিউস সানি, বিশ^জিৎ দাস, জাকির, নান্নু ও বাচ্চু। এদের মধ্যে সানি ও বাচ্চু এই প্রতিবেদককে ম্যানেজের চেষ্টা করেন। আর তেওতা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ড্রেজার বসানোর কথা অস্বীকার করেন। একাধিক ড্রেজার ব্যবসায়ী জানান, সকলের পক্ষ থেকে ড্রেজার ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম স্থানীয় প্রশাসন ও সাংবাদিকদের ম্যানেজ করেন। তবে আগামী মাস থেকে রওশন মেম্বার এই দায়িত্ব পালন করবেন।

অবৈধ ড্রেজারের বিষয়ে স্থানীয়দের বক্তব্য, নদী থেকে বালু উত্তোলনকারীদের দমন করতে না পারলে যমুনার তীর সংরক্ষণ বাঁধ ভেঙে যাবে। নদীতে বিলীন হয়ে যাবে তাদের বসত ভিটা।

জানতে চাইলে শিবালয় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুল ইসলাম বলেন, অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধে জেলা প্রশাসক জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। ইতোমধ্যে আমরা অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীদের একটি তালিকা তৈরি করেছি। ষষ্ঠ ধাপে অনুষ্ঠিত শিবালয় উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কারণে আমরা অভিযান চালাতে পারিনি। এখন আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। অবৈধ ড্রেজার বন্ধে যা করণীয়, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হবে।

জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ বলেন, অবৈধ ড্রেজারের বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স। ইতোমধ্যে আমরা নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছি। নেহালপুর থেকে জাফরগঞ্জ পর্যন্ত যেসব ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, সেসব ড্রেজারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিষয়টি আমি দেখছি।

 

শাফিন / জামান

অতিরিক্ত বিলের নামে অর্থ আদায়, পল্লীবিদ্যুতের ডিজিএমকে আইনি নোটিশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান মে দিবস পালিত

রাজারহাটে যথাযোগ্য মর্যাদায় শ্রমিক দিবস পালিত

তারাগঞ্জে ৪৪৬ লিটার পেট্রোল জব্দ-পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ

পেকুয়ার হত্যাচেষ্টা মামলার আসামী সোহেল চট্টগ্রামে আটক

নবীনগরে ধান মাড়াই মেশিনে যুবকের কব্জি বিচ্ছিন্ন

কুড়িগ্রামে মোবাইল কোর্টে ফিলিং স্টেশনকে আড়াই লক্ষ টাকা জরিমানা

ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদের তীব্র ভাঙন:স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

ইতালিতে ছোট ভাইকে হত্যা করে পরিবারকে মরদেহ দেখাল বড় ভাই

তারাগঞ্জে শিকলবন্দী কিশোরীকে উদ্ধার করল প্রশাসন

মাদারীপুরে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হাফেজ নির্বাচনে হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা

বিজিবির অভিযানে কুমিল্লায় কোটি টাকার অবৈধ ভারতীয় শাড়ি-থ্রি-পিস জব্দ

কুমিল্লায় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত