সীমান্তে ফসল রক্ষায় রাত জেগে পাহারা
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তর্তী নাকুগাঁও গ্রামে বন্যহাতির আক্রমণে গত কয়েক দিনে ওই এলাকার ৮ জন প্রান্তিক কৃষকের সাড়ে ৩ একর বোরো ফসল হাতির পাল আংশিক খেয়ে এবং পা দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করে দিয়েছে। বাকি ফসল রক্ষায় কৃষকরা দুশ্চিন্তায় রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। বর্তমানে ৪০-৪৫টি ছোট-বড় হাতির দলটি নাকুগাঁও ও ভারত সীমান্তের বানেরটিলায় অবস্থান করছে।
ময়মনসিংহ বন বিভাগ, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সীমান্তবর্তী নাকুগাঁও গ্রামে পাহাড়ের ঢালে প্রায় শতাধিক প্রান্তিক কৃষক ১৫০ একর জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। গত সোম ও মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর হঠাৎ ৪০-৪৫টি বন্যহাতির পাল নাকুগাঁওয়ের বানেরটিলা চলে আসে। পরে ২০-২৫টি হাতি নাকুগাঁও গ্রামের ফসলি জমিতে নেমে পড়ে। এ সময় নাকুগাঁও গ্রাামের ইদ্রিস আলীর ৪০ শতক, আবদুল খালেকের ৩০ শতক, ফুলেমা চিসিমের ৫০ শতক, সাগর মারাকের ৪০ শতক, আলিম উদ্দিনের ৩০ শতক, প্রণব চিসিমের ৫০ শতক, দুলু মিয়ার ৩০ শতক ও তোতা মিয়ার ৪০ শতক আবাদি জমির ফসল খেয়ে এবং পা দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করে ফেলে।
হাতির দলটি নাকুগাঁওয়ের বানেরটিলায় সীমান্তবর্তী ১১১৫ নং পিলারের কাছে অবস্থান করায় স্থানীয় কৃষকরা দুশ্চিন্তায় সময় পার করছেন। গ্রামবাসী হাতি তাড়াতে বন বিভাগ ও সরকারিভাবে উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ইদ্রিস আলী বলেন, আমি নাকুগাঁও স্থলবন্দরে শ্রমিকের কাজ করি। এ কাজ করে বাবা-মাসহ পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতে হয়। ১৬ হাজার টাকা খরচ করে এক একর জমিতে বোরো ধান করেছি। গত সোমবার সন্ধ্যায় বন্যহাতির পালটি ক্ষেতে নেমে আমাদের ফসল নষ্ট করে দিয়েছে। বাকি ফসল রক্ষা না করতে পারলে আমাদের মহাবিপদে পড়তে হবে।
প্রান্তিক কৃষক আলিম উদ্দিন বলেন, ‘ঋণ কইরা ১০ কাডা (৫০ শতক) জমিতে বোরো ধান লাগাইছি। হঠাৎ কইরা হাতির পাল খেতে নাইমা পইড়া দুই কাডা জমি খাইয়া আর পাও(পা) দিয়া ফসল মাডির (মাটির) লগে মিশাইয়া ফালাইছে। গ্রামবাসী সবাই হইহেুাল্লুর কইরা খেত থাইকা হাতি সড়ানো অইছে। অহন রাইত জাইগা সবাই হাতি পাহাড়া দিতাছি।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, ১০০ একর জমির ফসল নিয়ে স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। হাতি প্রতিরোধে লাইট ও মশাল জ্বালাতে তেল প্রয়োজন। ফসল রক্ষায় এলাকাবাসী রাত জেগে পাহারা বসিয়েছেন।
নয়াবিল ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, হাতির আক্রমণে কৃষকদের ফসল আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।। ফসল রক্ষায় হাতি তাড়াতে মশাল জ্বালাতে তেল কিনতে কিছু অর্থ দেয়া হয়েছে। প্রতিরাতে হাতি তাড়াতে গ্রামবাসী রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।
ময়মনসিংহ বন বিভাগের মধুটিলা ইকোপার্কের রেঞ্জার আবদুল করিম বলেন, তিন দিন ধরে ৪০-৪৫টি বন্যহাতির দল নাকুগাঁও বানেরটিলায় অবস্থান করছে। সন্ধ্যার পর পর হাতির দলটি কয়েকটি দলে বিভিক্ত হয়ে ক্ষেতে নেমে পড়ে ফসলি জমি পা দিয়ে নষ্ট করে ফেলেছে। আমি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নিয়ম মেনে ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করতে বলেছি।
এমএসএম / জামান
মোহনগঞ্জে স্কুলে শিশুদের খবারে অনিয়ম, ঠিকাদারের দায়িত্বে সরকারি চাকরিজীবী
খুলনায় নবনির্মিত কর ভবনের উদ্বোধন
কাজী মইনুল ইসলাম মনুর আয়োজনে ৪৮ নং ওয়ার্ড আন্তঃ ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন
রাণীনগরে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ;ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা
দায়িত্বশীলতার অনন্য দৃষ্টান্ত: নালিতাবাড়ীতে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিলেন ট্যাগ অফিসার
আসছে নানা আয়োজনে মারমা সাংগ্রাইং জল উৎসব
ভিড়-চাপ সামলে ২৪ ঘণ্টা সেবা দিচ্ছে নিগি পাম্প
বাঁশখালীতে মা হত্যা মামলার পলাতাক ২ আসামী পুত্র ও পুত্রবধু গ্রেফতার
দাউদকান্দিতে জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ, প্রাণনাশের শঙ্কায় সাংবাদিক শরিফুল
গোদাগাড়ীতে পাম্পে তেল নিতে এসে ৭ মোটরসাইকেল আরোহীকে জরিমানা
অটিজম ও মানবতা– প্রতিটি জীবনেরই মূল্য আছে’—(ইউএনও)রুমানা আফরোজ
মহাদেবপুরে রাস্তা নিতে প্রতিপক্ষের বাড়ি ভাঙচুর