পাংশায় অবৈধভাবে পদ্মা নদীর ফসলি জমি থেকে চলছে মাটি ও বালু উত্তোলনের মহোৎসব
রাজবাড়ীর পাংশায় চলছে পদ্মা নদী থেকে প্রকাশ্য দিবালকে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের মহোউৎসব। প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ করেই চলছে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন করছে এলাকার প্রভাবশালী একটি মহল। এতে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসলি জমির পরিবার এবং হুমকির মুখে রয়েছে নদীর বেড়িবাঁধ এলাকার কয়েকশ পরিবার।
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী পদ্মা নদী থেকে ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের আকবার মল্লিকের ছেলে সুরুজ মল্লিক ও একই এলাকার হারেজ সরদারের ছেলে সুমন সরদারসহ কয়েকজন মিলে প্রকাশ্য দিবালোকে দীর্ঘদিন ধরে মাটি ও বালু উত্তোলন করে আসছে বলে জানান স্থানীয়রা। মাটি ও বালু উত্তোলনের কারণে বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি হলেই এসব জমিতে ফলানো ফসল বিলীন হয়ে যায়।
বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় কমিটির মিটিংয়ে আলোচনা হলেও যথাযথ ফলপ্রসূ হয়নি। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বালু ও মাটি উত্তোলন বন্ধে নির্দেশনা দিলেও তা এখনো বন্ধ হয়নি।
প্রভাবশালী বালু ও মাটিখেকোদের ভয়ে নাম প্রকাশ করতে চান না এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। তবে তারা বলেন, প্রায় প্রতি বছরই এই এলাকায় নদীতে চর জাগে। আমরা সেখানে ধান, আখ, বাদামসহ বিভিন্ন ফসল ফলাই। কিন্তু এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ভেকু দিয়ে মাটি ও বালু উত্তোলন করে। প্রায় ২৫-৩০ ফুট ভেদ করে বালু ও মাটি কাটায় আমাদের ফসলি জমি ভেঙে পড়ে। পরে আমরা বাধ্য হই তাদের কাছে মাটি কাটা চুক্তিতে জমি লিজ দিতে। বর্ষা মৌসুমে সেটাই আমাদের আতঙ্কের করণ হয়ে দাঁড়ায়।
তারা আরো জানান, এভাবে ভেকু মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে অবিরত বালু এবং মাটি কাটা চলতে থাকলে আগামী বর্ষা মৌসুমে কোনোভাবেই বেড়িবাঁধ রক্ষা করা সম্ভব হবে না এবং ভিটামাটিহারা হবে এই ইউনিয়নের (হাবাসপুর) কয়েকশ পরিবার।
জানা যায়, ভেকু মেশিন দিয়ে উত্তোলন করা বালু ও মাটি ড্রামট্রাক এবং বাটাহাম্বারযোগে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন অবৈধ ইটভাটায়। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাস্তাঘাট। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। প্রকাশ্য দিবালোকে এমন কর্মযজ্ঞ চললেও নাগালের বাইরে এই মাটি ও বালুখেকোরা।
অভিযুক্ত সুরুজ মল্লিক বলেন, গত ৪-৫ দিন আগে থেকেই শুরু করেছি। তবে জমির মালিকদের কাছ থেকে জমির মাটি ও বালু কাটার চুক্তি করে নিয়েই ভেকু নামিয়েছি।
উপজেলা কৃষি অফিসার রতন কুমার ঘোষ জানান, গত বছর প্রায় ১৫ হেক্টর জমির ফসল নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। চলতি বছরেও উপজেলার হাবাসপুর ও বাহাদুরপুর দুটি ইউনিয়নের পদ্মা নদীতে জাগা মাটিতে প্রায় ৫ শতাধিক জমিতে ধান ও আখসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করেছেন কৃষকরা।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আল আমিন বলেন, আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের বিষয়টি আমি অবগত নই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মাদ আলী বলেন, বিষয়টি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় কমিটির মিটিংয়ে অবগত হওয়ার পর থানা পুলিশের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রশাসন গেলে সেখানে কাউকে পাওয়া যায় না। তবে উপজেলার অবৈধ মাটি ও বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন সব সময়ই তৎপর রয়েছে।
এমএসএম / জামান
নোয়াখালীর কবিরহাটে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ
ঘোড়াঘাটে দাদী হত্যায় জড়িত নাতীসহ গ্রেফতার-৩
উল্লাপাড়ায় ১২’শ লিটার ডিজেল জব্দ
পটুয়াখালীতে কালেক্টেরেট স্কুল এন্ড কলেজের গেট ভেঙে পড়ে শিক্ষার্থী আহত
মাদারীপুরে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উদযাপন
মধুখালীতে ছায়া সংসদে বিতর্ক উৎসবে বিজয়ী দল সরকারি আইনউদ্দীন কলেজ
ভূরুঙ্গামারীতে চিকিৎসকের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও রাহাজানি:সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবাদ, থানায় অভিযোগ
কুমিল্লায় ভারী বৃষ্টিতে সড়কে হাঁটুপানি, ভোগান্তিতে নগরবাসী
গ্লোবাল অ্যাকশন সপ্তাহ উপলক্ষে আমঝুপিতে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ
নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মেহেরপুরে ফ্যামিলি সমাবেশ অনুষ্ঠিত
বাঁশখালীতে লোকালয়ে ইটভাটা, আইন লংঘনের দায়ে ২ লাখ টাকা জরিমানা
টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উদযাপন