ঢাকা শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬

কঠিন পরিশ্রম করেও সুখ আসেনা জেলেদের, অভাব নিত্য সঙ্গী


সম্রাট, কয়রা photo সম্রাট, কয়রা
প্রকাশিত: ৩১-৫-২০২২ দুপুর ৩:৫১

ঋণ বা দাদনের জালে অনেকটাই বন্দি হয়ে পড়েছেন উপকূলের জেলেরা।সারা মাস কষ্ট তাদের হলেও তারা সুখের মুখ দেখতে পারেন না। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় আয়-রোজগার থাকবে না। এ কারণে সংসার চালাতে কিংবা পরিবারের সদস্যদের মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দিতে জেলেরা হাত পাতছেন বিভিন্ন এনজিও ও দাদন ব্যবসায়ী (কোম্পানী নাম ধারী)  কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর  কাছে।ঋণ নিয়ে তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধান করলেও পরবর্তী সময়ে যা আয় করছেন তা দিয়ে চালাচ্ছেন দীর্ঘমেয়াদি কিস্তি। আর অসাধু কোম্পানী ব্যবসায়ী এ সুযোগে করেন সদব্যবহার সারা বছর তাদের আয়ের একটা পথ নেন তৈরী করে। ঋণ-দাদনের কিস্তির টাকা দিতে গিয়ে বাড়তি কোনো টাকা আর সঞ্চয় রাখতে পারছেন না। ফলে ঘুরেফিরে কঠিন পরিশ্রম করেও সংসারে আসে না সুখ অভাব লেগেই থাকে। সরেজমিন বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে সুন্দরবন বেষ্টিত নদী কেন্দ্রিক জেলা খুলনার কয়রা উপকূলীয় এলাকা কয়রা ঘুরে জানা যায়,নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোর জেলেরা হতদরিদ্র। তারা সুন্দরের মৎস্য শিকারের উপর তাদের জীবন জিবিকা নির্বাহ করে থাকে। জীবিকার প্রয়োজনে দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয় তাঁদের। তবে জেলেদের কষ্টের আয়ের প্রায় সবটাই চলে যায় দাদন ব্যবসায়ীদের (কোম্পানী) পকেটে।

এর পর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের মামলার শিকার হতে হয় ওই জেলেদের সেটাও ওই অসাধু ব্যবসায়ীরকে খুশি করতে অভয়ারণ্যে বা বন্ধের সময় মাছ ধরতে যেয়ে তার দায় ভার ও মামলা চালানোর সকল খরচ জেলেদেরই বহন করতে হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়রা উপজেলা চারি পাশে নদী ও সুন্দরবন বেষ্টিত,উপজেলা ৪নং কয়রা, ৫নং কয়রা, ৬নং কয়রা, তেঁতুলতলার চর, চৌকুনী, গিলা বাড়ি, হাতিয়ার ডাঙ্গা, ভাগবা, সুতির অফিস, কাটকাটা, গাজি পাড়া, আংটিহারা, গোলখালী, মাটিয়াভাঙ্গা, চরামুখা, জোড়শিং এসব গ্রামের ৭০% শতাংশ লোক নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। জেলেরা সারা দিন ও রাতে মাছ ধরে কয়রা বাজার মৎস্য আড়ৎ, হোগলা মৎস্য আড়ৎ, চাঁদআলী মৎস্য আড়ৎতে বিক্রি করেন। কয়েকজন জেলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলেরা হতদরিদ্র। মাছ ধরার জাল, নৌকা ও ট্রলার কেনার জন্য উপজেলার আড়তদার ও মহাজনদের কাছ থেকে প্রতিবছর ঋণ নেন জেলেরা। স্থানীয় ব্যক্তিরা একে দাদন ব্যবসা বলেন। জেলেরা যে পরিমাণ টাকা দাদন নেন, প্রতিদিন সেই টাকার ১৫ শতাংশ দাদন ব্যবসায়ীদের দিতে হয়। পাশাপাশি জেলেদের নিজ নিজ দাদন ব্যবসায়ীর আড়তে এনে মৌখিক নিলামে মাছ বিক্রি করতে হয়। আর নিলামে ওঠার আগেই জেলেদের মজুত মাছের এক-দশমাংশ আড়তদার সরিয়ে রাখেন। সরিয়ে ফেলা মাছ পরে আবার নিলামে তুলে বিক্রি করা হয়। বিভিন্ন সময় সদরের, আমাদী, গিলাবাড়ী মৎস্য আড়ৎতে গিয়ে দেখা যায়, জেলেরা নিজ নিজ দাদন ব্যবসায়ীর আড়তে এনে মাছ তুলে থাকেন। মাছ আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রথমে আড়তের লোকজন নির্দিষ্ট পরিমাণ মাছ নিজেদের আয়ত্তে নিচ্ছেন। এরপর বাকি মাছের নিলাম করছেন। নিলামে তোলার পর মোট টাকা থেকে ১০-২০ টাকা হারে দৈনিক সুদ কেটে নেওয়া হচ্ছে। জোড়শিং গ্রামের জেলে আবুল বাসার  বলেন, আড়তদার ও কোম্পানীদের  সাথে চুক্তি অনুযায়ী মাছ ও টাকা নিয়ে নেন, প্রথমে মাছ, এরপর নগদ টাকা কেটে নেন।

এভাবে মাছ বিক্রির অর্ধেক টাকা তাঁদের পকেটে চলে যায়। এ কারণে দিনরাত পরিশ্রম করেও আমাদের সুখ আসেনা সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকে। কয়রা সদরের মৎস্য আড়তের আড়তদার সাইফুল্লাহ  বলেন, উপজেলায় কয়েক হাজার জেলে আছে। প্রায় সব জেলে আমাদের কারও না কারও কাছ থেকে অথবা কোম্পানীরদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে মাছ ধরেন। আমরা কাউকে জোর করে দাদনের টাকা দিই না। জেলেরা গরিব। নিজেদের প্রয়োজনে আমাদের কাছে এসে তাঁরা টাকা নেন। সারা দেশের মতো একই নিয়মে আমরা জেলেদের কাছ থেকে মাছ ও টাকা আদায় করি।’ ৫নং কয়রা ও ৬নং কয়রা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, অনেক জেলে ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা দুপুরের খাওয়া শেষে ঘুমাচ্ছেন। আবার অনেকে ছোট মাছ ধরার জাল বুনছেন। কেউ কেউ নদীতে মাছ ধরতে গেছেন। ৫নং কয়রা গ্রামের জেলে সোয়েব আলী বলেন, দাদন ব্যবসা ও মহাজনের কবলে পড়ে এ গ্রামের জেলেরা নিঃস্ব হয়ে গেছেন। নদীতে আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। আর প্রতিদিন মাছ নিয়ে আড়তে না গেলে আড়তদারদের লোকজন বাড়িতে এসে জেলেদের অনেক বড় কথা ও অনেক সময় মারধরও করেন। ৬নং গ্রামের জেলে রজব আলী বলেন, ‘সরকারই পারে সুদমুক্ত ঋণ দিয়ে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে। নতুবা আমাদের অভাব কোনো দিন শেষ হবে না।’ কয়রা উপজেলা সিনিয়র  মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল হক বলেন, ‘আমরা একাধিকবার চেষ্টা করেও জেলেদের দাদন ব্যবসা থেকে দূরে রাখতে পারিনি। জেলেদের যে সুবিধা দেয় হয় জেলে কার্ডের মাধ্যমে তা সামান্য। সরকারিভাবে প্রমোদণা ও জেলেদের জন্য সুদবিহীন ঋণের ব্যবস্থা করা হলে হয়তো দাদন ব্যবসা বন্ধ হবে সাথে সাথে জেলেদের জীবন মানের উন্নয়ন হবে। 

এমএসএম / এমএসএম

তারাগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

২ জনের মরদেহ উদ্ধার, ১১ জন জীবিত উদ্ধার, বাসে ছিল ৪৫ জন

রূপগঞ্জে জামদানী ভিলেজ প্রকল্প পরিদর্শনে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম

ঈদ উপলক্ষে ঘুরতে গিয়ে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন নিহত

ব্রিজ ভেঙে নদীতে পড়ল শতাধিক মানুষ, দুই সহোদরসহ ৪ শিশু নিহত

চাঁদপুরে শুটিং করতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার শুটিং ইউনিট!

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ২০ কিলোমিটার যানবাহনের ধীরগতি

নবীগঞ্জে দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্টের পুরস্কার বিতরণ ও ইফতার মাহফিল

সান্তাহারে হাজারো যাত্রী নিয়ে দুর্ঘটনার কবলে নীলসাগর এক্সপ্রেস

বগুড়ার শেরপুরে মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত

নড়াইলে গরীব, দুস্থদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের নগদ অর্থ বিতরণ

ঈদে সাময়িক দর্শক বাড়লেও সারা বছর লোকসান টিকে থাকার লড়াইয়ে শ্রীমঙ্গলের সিনেমা হল

বগুড়ায় মাংস সমিতি’র ৭৭ লাখ টাকা নিয়ে জামায়াত নেতা উধাও