উপকূলে ঘেরে ঘেরে চিংড়ির মড়ক,খরচ তোলা নিয়েই দুঃশ্চিন্তা
জলবায়ুর পরিবর্তনে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত লবণাক্ততা ও অপুষ্ট পোনার কারণে মৌসুমের শুরুতেই ‘সাদাসোনা’ খ্যাত বাংলাদেশর সর্ব দক্ষিণ উপকূল কয়রায় বাগদা চিংড়ি ঘেরে মড়ক লাগায় চাষিরা আতঙ্কের মধ্যে পড়ে গেছেন; খরচ তোলা নিয়েই দুঃশ্চিন্তায় তারা। এক মাস ধরে উপজেলার সাত ইউনিয়নের কমবেশি বাগদা চিংড়ি মারা যাচ্ছে।
জানা যায়, কয়রা উপজেলায় ৯ হাজার ২৪০ হেক্টর জমিতে চিংড়ি চাষ হয়েছে। এ উপজেলায় ঘেরের সংখ্যা ৫ হাজার ৯০টি। এ উপজেলায় হেক্টর প্রতি ৫৭৯ কেজি চিংড়ি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে, চলতি চিংড়ি মৌসুমের শুরুতেই অধিকাংশ ঘেরে ভাইরাস দেখা দিয়েছে।
কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশি গ্রামের মৎস্য চাষি গোপাল ঘোরামি বলেন, “তিন বিঘার দুটি ঘেরে তিন লাখ টাকা খরচ করে মাছ ছাড়ি। এ পর্যন্ত আমি হাজার বিশেক টাকা মাছ ধরে বিক্রি করেছি। সম্প্রতি আমার ঘেরে ভাইরাস লেগে মাছ মরে গেছে। সময়মতো পানি না পাওয়া ও পানিতে অতিরিক্ত লবণ থাকার মাছ মারা গেছে। এ বছর আমার খরচের টাকাই উঠবে না।”
মহেশ্বরীপুর গ্রামের তায়ফুর রহমান তুহিন বলেন, “দেড় বিঘা জমিতে ৮০ হাজার টাকা খরচ করে চিংড়ি চাষ করেছিলাম। আমি এখনও এক টাকার মাছও ধরতে পারিনি। হ্যাচারির খারাপ পোনা ছাড়ার কারণেই মনে হয় সব মাছ মরে গেছে। বর্তমানে হ্যাচারির পোনার মান ভাল না।”পোনার মান ঠিক রাখতে সরকারের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান এই চাষি।
তিন একর জমিতে আড়াই লাখ টাকা খরচ করে বাগদা চিংড়ি চাষ করেছিলেন বাগালী ইউনিয়নের আহসান সানা । এই এলাকায় ২০০ বেশি মানুষ মাছের চাষ করে।আহসানের ঘেরে মড়ক লেগে সব মাছ মারা গেছে। তার ধারণা, সময়মতো বৃষ্টি না হওয়া ও অতিরিক্ত লবণ পানির কারণে মাছ মরে যায়। আহসান সানার মতো একাধিক মৎস্য চাষি বলেন , এ সমস্যা আমার একার না, এই এলাকার অধিকাংশ ঘেরের মাছ মরে গেছে। এই এলাকার অধিকাংশ মানুষ এই ঘেরের উপর নির্ভরশীল। ঘেরের আয় দিয়ে আমাদের চলতে হয়। ঘেরে আমরা যে হ্যাচারির বাগদার পোনা ছাড়ি তা অপুষ্ট। এই পোনার মান ভাল কী মন্দ তার উপর সরকারের কোনো নজরদারি নেই।হ্যাচারি মালিকরা যা বাজারে বিক্রি করছে আমরা তাই কিনে এনে ঘেরে ছাড়ছি। অপুষ্ট রোগাক্রান্ত পোনার কারণে এই মড়ক লেগে থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞরাই ভাল বলতে পারবেন।
তাই পোনার বিষয়ে সরকারের উচিত হ্যাচারিগুলোর ওপর নজরদারি করা। চিংড়ি শিল্পকে বাঁচাতে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেন চাষিরা।
কয়রা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল হক বলেন, “জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে গত এক মাস ধরে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি পর্যন্ত ওঠানামা করছে। এ কারণে ঘেরের চিংড়ি ঘেরেকিছুটা মারা যাচ্ছে। এ ছাড়া চাষিদের ঘেরে নিন্মমানের পোনা ছাড়ার কারণেও মাছ মরে যাচ্ছে বলে ধারণা করছি।মারা যাওয়া চিংড়ি সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে চিংড়ি মারা যাওয়ার সঠিক কারণ জানতে পারবে মৎস্য বিভাগ।চাষিদের পরামর্শ দিয়েছি, ঘেরের পানির তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখতে। তারা যখন ঘেরে পোনা ছাড়বে অবশ্যই যেন তা পকেট ঘেরে পরিচর্যা করে ছাড়ে। এই পরামর্শ মেনে চললে চিংড়ির মড়ক কমে আসবে।তবে মড়ক লাগায় চলতি অর্থবছরে চিংড়ি রপ্তানিতে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন এই মৎস্য কর্মকর্তা।তিনি বলেন, “কারণ এখন মাত্র চিংড়ির মৌসুম শুরু হয়েছে। আগামীতে নতুন করে পোনা ছেড়ে এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন চাষিরা।
এমএসএম / এমএসএম
জয়পুরহাটে শিশু অধিকার দিবস ও শিশু মেলা-২০২৬ উদ্বোধন
সাভারে ওএমএস অনিয়ম অনুসন্ধানে গিয়ে হামলার শিকার ৪ সাংবাদিক, মিথ্যা মামলায় জেলের অভিযোগ
আদমদীঘিতে বিভিন্ন মামলায় নারীসহ তিনজন গ্রেফতার
পটুয়াখালীতে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ২১ টন ভারতীয় জিরাসহ কার্গো বোট জব্দ
সখীপুরে স্বামী ও দেবরের নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর সংবাদ সম্মেলন
সুনামগঞ্জে শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী ও শিশু সপ্তাহ উদযাপিত: প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী ভাষণ উপভোগ
ধুনটে ঔষধ সেবনের পর মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যু
ধামইরহাটে আদালতের রায় অমান্য করে বসতবাড়িতে হামলা ও হয়রানীর বিরুদ্ধে ভুক্তভুগির সংবাদ সম্মেলন
পটিয়ার চক্রশালা কৃষি উচ্চ বিদ্যালয়ের আইসিটি ল্যাবে চুরি
মোহনগঞ্জে মাদক সেবনের দায়ে ৬ জনের কারাদণ্ড
নওগাঁয় ড্রিল মেশিন দিয়ে মাথা ফুটো করে হত্যা, আসামির যাবজ্জীবন
কালিহাতীতে চীন থেকে আমদানিকৃত ব্যতিক্রমী পণ্যের সমাহার নিয়ে ‘নিও চায়না মার্ট’
পাবনায় নিখোঁজের একদিন পর হলুদ ক্ষেত থেকে ব্যবসায়ীর আগুনে ঝলসানো লাশ উদ্ধার
Link Copied