কয়রায় শত শত একর জমি অনাবাদি, হতাশায় কৃষক
কখনো টিপটিপ করে, কখনো এক পশলা বৃষ্টি হচ্ছে। খুলনার কয়রায় কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় শত শত হেক্টর জমিতে এখনো আমন চারা রোপণ করাই সম্ভব হয়নি। অনেক কৃষক জ্বালানি পুড়িয়ে সেচ দিয়ে যেসব জমিতে চারা রোপণ করেছেন, এখন অব্যাহতভাবে সেসব জমিতে পানি সেচ দিতে হিমশিম অবস্থা তাদের আশানুরূপ বৃষ্টি না হওয়ায়। গত বছরের আগস্টে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছিল, চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত এর এক-চতুর্থাংশও হয়নি। এ কারণে আমন চাষে অধিক খরচ লাগছে কৃষকদের। খরচ তুলতেও দুশ্চিন্তায় কৃষকরা।
সরেজমিন খুলনার কয়রা উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, আমনের চারা রোপণের সময় ফুরিয়ে এলেও পানির অভাবে চারা লাগাতে পারেননি অধিকাংশ কৃষক। অনেকে আবার সেচ দিয়ে চারা রোপণ করলেও পানির অভাবে রোপণকৃত চারা হলুদ হয়ে যাচ্ছে। শত শত একর জমি অনাবাদি পড়ে আছে। বীজতলায় পড়ে থাকা চারার বয়স অতিক্রান্ত হলেও বৃষ্টির অভাবে জমি চাষ করতে পারছেন না তারা। যেসব কৃষক সেচ পাম্প চালিয়ে জমি চাষ করে চারা রোপণ করেছিলেন, এখন তাদের অনেকের প্রতি সপ্তাহেই সেচ দিয়ে চারা সজীব রাখতে হচ্ছে। এ কারণে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে এ বছর ১৪ হাজারর ৭২০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ হলেও এখন পর্যন্ত ৮ হাজার হেক্টরে চারা রোপণ করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু পানির অভাবে জমি আবাদ করা যাচ্ছে না, তাহলে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পুরণ হবে কিভাবে?
কয়রা সদর ইউনিয়ের কৃষক আজিজুল ইসলাম ঢালী জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর কম জমিতে ধান লাগিয়েছি বৃষ্টি ভাব ভালো না দেখে। তাও যে ৮ বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছি, আশানুরুপ বৃষ্টি না হওয়ায় খরচ ওঠা নিয়ে চিন্তায় আছি। তারপর জিনিসপত্রের যে দাম।
একই কথা জানালেন উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের কৃষ্ণপদ মণ্ডল, হরিদাষ মণ্ডল, হাসেন আলীসহ কয়েকজন কৃষক। তারা বলছেন, আগের তুলনায় এবার অর্ধেক জমিতে আমন চাষ করছি। কিন্তু চিন্তার শেষ নেই, হঠাৎ করে একটু বৃষ্টির দেখা দিলেও তাতে খুব একটা লাভ হচ্ছে না। যেটুকু বৃষ্টি হচ্ছে, তাতে জমি ভিজছে না। অন্যদিকে আমনের চারার বয়স বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে সেচ দিয়ে চাষ করছেন তারা। এতে বিঘাপ্রতি খরচ হচ্ছে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। তারপরও বন্যা ও খরার ঝুঁকি তো আছেই।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এই মৌসুমে কমপক্ষে ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টির প্রয়োজন হয় আমনের চারা রোপণ করতে। কিন্তু গেল এক মাসে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ১৫০ মিলিমিটারের মতো। আর সে কারণে খালি পড়ে আছে অনেক জমি।
তিনি আরো বলেন, বৃষ্টির সময় এখনো রয়েছে। তবে কৃষকদের উঁচু জমিতে সেচ দিয়ে ধান রোপণ করার পরামর্শ দেন তিনি। এটা ঠিক, এতে তাদের একটু কষ্ট হবে। বৃষ্টি হলে তাদের জন্য কাজটি করা অনেক সহজ হতো। এ বছর উপজেলায় ১৪ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অনাবৃষ্টির কারণে অনেক জায়গায় বীজতলা নষ্ট হয়েছে। মাঠপর্যায়ে আমাদের কর্মীরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে। দ্রুত বৃষ্টি হলে এ অবস্থার উন্নতি হবে।
এমএসএম / জামান
তারাগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন
২ জনের মরদেহ উদ্ধার, ১১ জন জীবিত উদ্ধার, বাসে ছিল ৪৫ জন
রূপগঞ্জে জামদানী ভিলেজ প্রকল্প পরিদর্শনে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম
ঈদ উপলক্ষে ঘুরতে গিয়ে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন নিহত
ব্রিজ ভেঙে নদীতে পড়ল শতাধিক মানুষ, দুই সহোদরসহ ৪ শিশু নিহত
চাঁদপুরে শুটিং করতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার শুটিং ইউনিট!
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ২০ কিলোমিটার যানবাহনের ধীরগতি
নবীগঞ্জে দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্টের পুরস্কার বিতরণ ও ইফতার মাহফিল
সান্তাহারে হাজারো যাত্রী নিয়ে দুর্ঘটনার কবলে নীলসাগর এক্সপ্রেস
বগুড়ার শেরপুরে মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত
নড়াইলে গরীব, দুস্থদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের নগদ অর্থ বিতরণ
ঈদে সাময়িক দর্শক বাড়লেও সারা বছর লোকসান টিকে থাকার লড়াইয়ে শ্রীমঙ্গলের সিনেমা হল
বগুড়ায় মাংস সমিতি’র ৭৭ লাখ টাকা নিয়ে জামায়াত নেতা উধাও
Link Copied