ঢাকা মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে পুকুরের ভাসমান পদ্মফুল


সাপাহার  প্রতিনিধি photo সাপাহার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২২-৮-২০২২ দুপুর ২:২১
নওগাঁর সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রবেশপথের রাস্তায় আঁকা মনমুগ্ধকর আলপনা। যেন শিল্পীর নিখুঁত ছোঁয়ার বহিঃপ্রকাশ। সেই রাস্তা দিয়ে সোজা এগিয়ে গিয়ে ডান দিকে চোখে পড়বে একটি পুকুর। শান বাঁধানো রঙিন ঘাট! পুকুরের পানির দিকে তাকাতেই যেন চোখ স্থির হয়ে যায়। পুকুর ভরা ভাসমান পদ্মফুল ফুটে আছে অপরূপ সাজে। যেন সৌন্দর্য বিলাতে একটুও কার্পণ্য নেই ফুল ও পদ্ম পাতাগুলোর।
 
 অপরূপ এই সৌন্দর্য যেমন উপভোগ করেন স্থানীয়রা তেমনি বিভিন্ন এলাকা থেকে আসেন দর্শনার্থীরাও! পুকুর ঘাটে বসে পদ্মফুলের সৌন্দর্যে মোহিত হয়ে ক্লান্তি দূর করে বাড়ী ফেরেন দর্শনার্থীরা। স্থানীয় ও বাইরের কিশোর যুবকদেরও আনাগোনা হয় এই পুকুর পাড়ে। তাদের উদ্দেশ্য ছবি উঠানো। পুকুরে ভাসমান গোলাপী রঙের পদ্মফুল যেন সৌন্দর্যের এক অনন্য প্রতীক
 
একটা সময় ছিলো, যে সময় পুকুরটি ছিলো ময়লার ভাগাড়। দুর্গন্ধে যাওয়া যেতোনা পুকুরের আশ-পাশে। এছাড়াও রোগীদের নোংরা কাপড়-চোপড় পরিস্কার করায় পুকুরটি ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছিলো। কিন্তু বর্তমান দ্বায়িত্বে থাকা উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডাঃ রুহুল আমিনের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠা ও অসম্ভব সুন্দর রুচির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে পুরো হাসপাতাল চত্বরে। বর্তমানে হাসপাতালের পুকুরটি পদ্মফুলের পাতা ও ফুলের সৌন্দর্য মোহিত করছে মানুষকে। হাসপাতালের পুকুর থেকে শুরু করে যেদিকেই তাকানো যায় সেদিকেই কোন না কোন করুকার্যে ভরপুর। হয় ফুল গাছ, নয়তো পাতা বাহার। এমনকি টবে লাগানো রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির শাক। এটি যেন একটি নতুনত্বের প্রকাশ। 
স্থানীয় উপজেলাবাসীর স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮২ সালে। 
 
বর্তমানে ৫০শয্যা বিশিষ্ট ও শিশুবান্ধব হাসপাতাল নামে পরিচিতি লাভ করেছে সর্বমহলে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চারিপাশে  অনেক জায়গা পতীত ছিলো। বড়ো বড়ো ঘাস আর লতায় পরিপূর্ণ ছিলো এসব জায়গাগুলো। সাপ-খোপের ভয়ে এসব এলাকায় কোন মানুষ যেতো না। কিন্তু হাসপাতালে মানসিক প্রশান্তি সৃষ্টির জন্য এক ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডাঃ রুহুল আমিন। চারিদিকের আবর্জনা পরিস্কার করিয়ে ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন করতে থাকেন হাসপাতালের বাহিরের রূপ। চারিদিকে নানান জাতের বাহারী ফুল, ফল,বনজ, ও ঔষধী গাছ লাগিয়ে পাল্টে ফেলেন হাসপাতালের রূপ। জরুরী বিভাগের সামনে গড়ে তোলেন চমৎকার একটি ফুল বাগান। যেখানে শোভা পাচ্ছে পুরনো বিভিন্ন জিনিসের সমন্বয়ে ফুলের টব বা ঘেরানী।
 
এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালে তিনি উদ্যোগ গ্রহণ করেন পুকুরটাকে সাজানোর জন্য। এই চিন্তাধারা বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন জায়গা থেকে পদ্মফুলের গাছ সংগ্রহ করতে থাকেন তিনি। প্রাথমিক অবস্থায় গাছগুলোর একটু সমস্যা ছিলো। কিন্তু দমে যাননি ডাঃ রুহুল আমিন। ২০১৮ সাল থেকে তিন ধাপে গাছ লাগিয়ে সফল হয়েছেন তিনি। বর্তমানে সেই পদ্মপাতা আর ফুল সৌন্দর্য বিলিয়ে দিচ্ছে।
 
এছাড়াও পুকুরের একপাশে তিনি শান বাঁধানো ঘাট নির্মাণ করেন। ঘাটের উপরে আঁকিয়ে নে মনের মতো আলপনা। যা দর্শনার্থীদের মন কাড়তে বাধ্য। সম্প্রতি ডাঃ রুহুল আমিন আরেকটি ব্যতিবক্রমী উদ্যোগ গ্রহন করেছেন পুকুরটিকে নিয়ে। ঘাট থেকে অদূরেই বানিয়েছেন “খোয়াঘাট” নামক স্থান। যেখানে ছোট্ট ঘাটে বাঁধা থাকে একটি ডিঙি নৌকা। নৌকাটি চালানোর জন্য নয় বরং পুকুরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য। 
 
সরেজমিনে পুকুর পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, যুবক,কিশোর এমনকি বৃদ্ধরাও বসে আছেন পুকুর ঘাটে। কেউ ছবি তুলছেন পদ্মফুলের কেউবা ঘাটে বসে পানিতে পা দিয়ে জলকেলি করছেন। 
 
সস্ত্রীক পুকুর ঘাটে বসা নজরুল ইসলাম নামে এক বৃদ্ধকে কেন ঘাটে বসে আছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বাবা তোমার চাচীকে চিকিৎসা করতে এনেছি। চিকিৎসা শেষ হয়ে গেছে। এজন্য এই পুকুর পাড়ে বসে একটু বিশ্রাম নিচ্ছি।” আপনি কি পূর্বে এই পুকুর পাড়ে এসেছিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছর আগে এই পুকুরের পানি ছিলো কালো। গিজগিজ করে পোকা পানিতে ঘুরত। আজ দেখলাম বেশ কয়েকজন গোসল করলো। পুকুরের সৌন্দর্য আরো চাগুণ বৃদ্ধি করেছে এই পদ্মফুল।”
 
স্থানীয় যুবক নাজমুল হোসাইন খুব মনযোগ দিয়ে ছবি তুলছিলেন পদ্মফুলের। কেন এতো মনযোগের সাথে ছবি তুলছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি একজন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার। এতোসুন্দর ভাসমান পদ্মফুল আর পাতার ছবি না তুলে কি থাকা যায়? সেজন্য বিভিন্ন এঙ্গেলে ছবি তুলছি। 
 
শুধু তাই নয়, তীব্র গরমে অতীষ্ট হয়ে সন্ধ্যা নামতেই এলাকার কিশোরেরা আসে পুকুর পাড়ে শরীর ও মন জুড়াবার জন্য। এজন্য রয়েছে আলাদা নিরাপত্তার ব্যবস্থা। পুকুরপাড়ে ঝকঝকে আলোর ব্যবস্থা সহ নিরাপত্তাকর্মী রাখা হয়েছে পাহারা দেবার জন্য।  
 
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রুহুল আমিন এই প্রতিবেদককে  বলেন, “পদ্মফুল সৌন্দর্যের প্রতীক। গোবরে পদ্মফুল, পদ্ম পাতায় জল- বাংলা সাহিত্যে বাগধারা হিসেবে বহুল প্রচলিত। ধামইরহাটের ঐতিহাসিক আলতাদিঘীতে ভাসমান রাশি রাশি পদ্মফুল আমাকে বিমোহিত করে। তারপর ব্যাপারটা তার মাথায় আসে। সেই থেকে হাসপাতাল ক্যাম্পাসের পুকুরটাতে পদ্মরাশির স্বপ্ন দেখা শুরু।”
 
তিনি আরো বলেন, তারিখটা স্পষ্ট মনে আছে ২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর। সেই থেকে তিন দফা গাছ লাগিয়ে তিন বছরের চেষ্টায় স্বপ্ন সত্যি হলো। একটা সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছি। বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা থেকে শুরু করে বাইরের সব দৃশ্য সর্বস্তরের মানুষের নজর কেড়েছে। যার কারনে রোগীরা চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি নিজের মানসিক প্রশান্তিও পাচ্ছেন।
 
সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা বৃদ্ধিকরণের পাশাপাশি পরিবেশ উন্নয়নের আরেক নাম ডা. রুহুল আমিন। 
 
তার এই ধরণের পরিবেশবান্ধব মানসিকতা নজর কেড়েছে সাধারণ মহলসহ দাপ্তরিক মহলেও। ভবিষ্যতে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বাংলাদেশের মধ্যে একটি মডেল হাসপাতাল হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এমনটাই ধারণা করছেন সচেতনরা। 

এমএসএম / জামান

তাহিরপুরে ধুমধাম করে ১৩ বছরের কিশোরীকে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি ভেঙে দিলেন উপজেলা প্রশাসন।

চবিতে ‘একেএম ফজলুল কাদের চৌধুরী হল’ নামকরণের দাবিতে মানববন্ধন

‎আনোয়ারায় পূর্ব শত্রুতায় জেরে স্থানীয় যুবদল নেতার উপর হামলার অভিযোগ

পঞ্চগড়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে চা বাগান দখল চেষ্টার অভিযোগ

পেকুয়ায় বন বিভাগের অভিযানে মিশিয়ে দেওয়া হলো অবৈধ বালুর স্তূপ

গুরুদাসপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল মতিন গ্রেপ্তার

বেশি দামে সার বিক্রি, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

বেনাপোল স্থলবন্দর পরিচালক বদলি,আলোচনায় সাবেক পরিচালক মামুন

গৌরনদী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের ওপর হামলার প্রতিবাদে সাংবাদিকদের মানববন্ধন, থানায় মামলা, গ্রেফতার ২

মধুখালীতে নবাগত ইউএনও এর সাথে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির ফুলের শুভেচ্ছা বিনিময়।

হাটহাজারীতে চাঞ্চল্যকর নুরুল আজিম হত্যার প্রধান আসামী গ্রেফতার

চুয়াডাঙ্গার সিমান্তগুলোতে স্বর্ণ পাচারের বাহকরা ধরা পরলোও অধরাই নেপথ্যের হোতারা

পেকুয়ায় রাতের আঁধারে বেড়িবাঁধ কাটার চেষ্টা, জব্দ স্কেভেটর ও ১৫ নাসি