ফটিকছড়ির চা বাগানগুলোতে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য
ফটিকছড়িতে ১৮টি চা বাগানের প্রায় ২০ হাজার চা শ্রমিক কাজে যোগদানের মাধ্যমে বাগানগুলোতে পুরোদমে শুরু হয়েছে কার্যক্রম। ফলে ফিরেছে পূর্বের ন্যায় প্রাণচাঞ্চল্য।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন চা বাগানে দেখা যায়, শ্রমিকদের কেউ কেউ পাতা তুলছেন। আবার কেউ কেউ বাগান থেকে পাতা তুলে মেপে বুঝিয়ে দিচ্ছেন। কেউ কেউ গাড়ি করে কারখানায় আনছেন। কারখানার শ্রমিকরা চা পক্রিয়াজাত করছেন। এক কথায় শ্রমিকরা কাজে ফেরায় পুরোদমে শুর হয়েছে কার্যক্রম।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকে গত ৯ আগস্ট (মঙ্গলবার) থেকে সারাদেশের ২৪১টি চা বাগানের শ্রমিকরা ১২০ টাকা বেতন ৩০০ টাকা করার দাবীতে কর্মবিরতির পাশাপাশি আন্দোলন শুরু করে। ২০ অগাস্ট শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে চা শ্রমিক নেতাদের বৈঠকের পর ২৫ টাকা বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা নতুন মজুরি ঘোষণা করা হলেও পরবর্তী উপজেলার বিভিন্ন বাগানের শ্রমিকরা আন্দোলন অব্যাহত রাখে।
২৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মালিক পক্ষের সাথে বৈঠক করে বাড়িয়ে ১৭০ টাকা নতুন মজুরি ঘোষণা করলে ফটিকছড়ির চা বাগানের শ্রমিকরা কাজে যোগদান করে।
জানা যায়, ফটিকছড়ির ১৮টি চা বাগানে স্থায়ী অস্থায়ী প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক কাজ করে। ২০ হাজার শ্রমিক পরিবারে রয়েছে প্রায় অর্ধ লাখ মানুষ। মালিক পক্ষ থেকে প্রত্যেক চা শ্রমিক সপ্তাহে ২ টাকা ৩০ পয়সা দরে ৩ কেজি ২শত ৭০ গ্রাম চাল পান। তবে যাদের চাষের জন্য জমি দেয়া হয়েছে তাদের কাছ থেকে দেড় কেজি চাল কেটে রাখা হয়। দুই বছরের একবার ঘরের চাউনির ছনগুলো পরিবর্তন করে দেন মালিক পক্ষ। কোন শ্রমিক মারা গেলে গ্র্যাজুইটি পাওয়ার কথা থাকলেও অনেক সময় সেই টাকা দিতে গড়িমসি করে বিভিন্ন বাগানের মালিকরা।
একাধিক শ্রমিক জানান, কোন শ্রমিক মারা গেলে গ্র্যাজুইটি পাওয়ার কথা। কিন্তু গ্র্যাজুইটির টাকা নিয়েও মালিকপক্ষ টালবাহানা করে। এছাড়া চুক্তি অনুযায়ী শ্রমিকরা মাটওয়াল তুললে কাঠ ও টিন বাবদ ৫ হাজার ৬শত টাকা দেয়ার কথা। কিন্তু ঘরটি ১৪/৮ হাত থেকে সামান্য বড় হলে ওই টাকাও দিতে চাননা মালিকপক্ষ। ছোট একটি ঘরে ৫-৬ সদস্য থাকতে পারে না। শুধু তাই নয় শ্রমিকদের জন্য ছাতাসহ অন্যান্য সরঞ্জম বরাদ্দ থাকলেও মালিক পক্ষ সেগুলোও দিতে চান না।
তবুও প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজে ফিরেছেন বলে জানান শ্রমিকরা।
ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুর থানাধীন নিউ দাঁতমারা চা বাগানের শ্রমিক গুনমনি কর্মকার বলেন,আমাদের দাবি ছিল দৈনিক ৩শত টাকা মজুরি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ১৭০ টাকা নির্ধারণ করেছেন। তবুও প্রধানমন্ত্রীর কথা মেনে নিয়ে আমরা কাজে যোগ দিয়েছি। আমরা আশা করছি বঙ্গবন্ধু কন্যা আমাদের সুবিধা-অসুবিধাগুলো দেখবেন। তিনি বলেন, আমার পরিবারের ৩ জন সদস্য রয়েছে। তিন কেজি চাল দিয়ে এক সপ্তাহ যায় না আমাদের। ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই দুঃচিন্তায় রয়েছি। আশা করছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুবিধা বঞ্চিত চা শ্রমিকদের কথা ভাববেন।
বারামাসিয়া চা বাগান শ্রমিক নেতা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আপন কূর্মী বলেন, ৩০০ টাকা বেতনের দাবী থাকলেও প্রধানমন্ত্রী সিন্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে শ্রমিকরা কাজে যোগদান করেছে।
কর্ণফুলী চা বাগান শ্রমিক নেতা প্রেম লাল মানব্রাজি বলেন, আমরা এতোদিন আন্দোলন করেছি ৩০০ টাকা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন ১৭০ টাকা বেতনের সিন্ধান্ত দেয়েছেন তাই আমরা যোগদান করেছি।
দাঁতমারা ট্রি স্টেটের বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি প্রদুস কর্মকার জানান, চা-বাগানের কোন সদস্য অসুস্থ হলে মাত্র দুইটি প্যারাসিটেমল দেয়া হয়। এতে অসুখ সাড়ে না। পরে নিজের অর্থ খরচ করে অসুস্থ শ্রমিক বাইরে থেকে চিকিৎসা নেন।
শ্রমিক বিজলী কর্মকার বলেন, যে মজুরি পাই তা দিয়ে মাসে একবার ছেলে মেয়েদের মাছ খাওয়াতে পারি না। তবুও প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে কাজে ফিরেছি। আশা করছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সমস্যাগুলো গুরুত্ব সহকারে দেখবেন।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন চট্টগ্রাম ভ্যালি শাখার সভাপতি নিরঞ্জন নাথ মন্টু জানান, প্রধানমন্ত্রী ১৭০ টাকা মজুরী ঘোষণার পর তার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে কাজে ফিরেছেন শ্রমিকরা। তবে ১৭০ টাকা মজুরি চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বলবৎ থাকে। আগামী বছরে নতুন করে মজুরি নির্ধারণ করতে হবে।
নিউ দাঁতমারা চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. তসলিম হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রী নতুন করে মজুরি ঘোষণার পর সব কয়টি বাগানের শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছে। তিনি আরো জানান, চা শ্রমিকদের বছরে ২০ দিন অসুস্থতা ছুটি (সিকলিফ) দেয়া হয়।
কর্ণফুলী চা বাগানের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও উদালিয়া চা বাগান ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন,শ্রমিকরা কাজ শুরু করেছে। ফলে চা উৎপাদন কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
এমএসএম / জামান
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ১৪ মার্চ থেকে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু: প্রধানমন্ত্রী
কামারখন্দে ইউপি সদস্য মদ খেয়ে মাতাল হয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ভাঙচুর
কোটালীপাড়ায় ৫৮ প্রান্তিক জেলে পেল বকনা বাছুর, বিকল্প আয়ে নতুন আশার আলো
রামুতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ ৩ ডাকাত আটক
সীতাকুণ্ডে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত ১
সাভারে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে আহত : থানায় দুই পক্ষের অভিযোগ
নরসিংদীর পলাশে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
সবুজে ঘেরা চায়ের রাজ্য মৌলভীবাজার: প্রকৃতিপ্রেমীদের স্বর্গরাজ্য
গজারিয়ায় হাশেম প্রধান ফাউন্ডেশন এর আয়োজনে ঈদ উপহার বিতরণ
চেক ডিজঅনার মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ১৫মাস পর গ্রেপ্তার
তানোরে বোরো পরিচর্যা ও আলু উত্তোলনের ধুম, বাড়ছে শ্রমিকের কদর
ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক নিহত
আত্মত্যাগের স্মরণে শহীদ পুলিশ পরিবারের পাশে যশোর জেলা পুলিশ
Link Copied