ঢাকেশ্বরী মন্দিরের অধিকার পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
লালবাগের সাবেক এমপি পিন্টুর নেতৃত্বে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের সেবায়েতের দাবিদার পল্টন দাস ও তার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হলে দীর্ঘদিনেও তাদের পুনর্বহাল করা হচ্ছে না। উচ্ছেদকৃত পরিবারটি বসতভিটা দীর্ঘদিনেও ফিরে পাননি। তাদের অধিকার প্রাপ্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করছেন ভুক্তভোগী পল্টন দাসের পরিবার। তবে তাদের এই দাবির বিষয়টি হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা কাজল দেবনাথ স্বীকার করে ঘটনাটি আদালতে বিচারাধীন বলে জানান।
জানা গেছে, ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সৃষ্টিলগ্ন থেকেই পল্টন দাসের পূর্বপুরুষরা সংশ্লিষ্ট ছিলেন। আঠার শতকের দিকে ভাওয়াল রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ রায় বাহাদুর এই মন্দিরের জমি সংক্রান্ত সীমানা নির্ধারণ করে ২০ বিঘা জমি মন্দিরকে, ১ বিঘা যৌথভাবে মন্দিরের সেবায়েত, তিওয়ারী ও পূজারী, গোস্বামী ও চক্রবর্তী পরিবারকে এবং মন্দির অভ্যন্তরে ৫ শতাংশ পরিচালনা ও মায়ের সেবার কাজের জন্যে দাস পরিবারকে বিধিমতে বন্দোবস্ত দেন। আর উনিশ শতকে ব্রিটিশ সরকারকর্তৃক জমির মালিকানা সংক্রান্ত প্রথম রেকর্ড সিএস জরিপ হয় এবং তাতে ১৬৮০১ খতিয়ানের ৩৬ নং দাগে, দাস পরিবারের পূর্বপুরুষ আনন্দ দাস গং নামে ৫ শতাংশ জমি রেকর্ডভুক্ত করা হয়। এরপর ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে মন্দিরে একের পর এক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়। প্রাণভয়ে অনেকেই দেশত্যাগ করেন। কিন্তু দাস পরিবারের সদস্যরা জীবনবাজি রেখে মন্দিরটি রক্ষণাবেক্ষণ করতে থাকেন। ১৯৪৫ সালের দিকে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে প্রজারা জমির মালিকানাসত্ত্ব লাভ করে। আর পাকিস্তান সরকারকর্তৃক এসএ রেকর্ড জরিপ সম্পন্ন হলে সেখানে খতিয়ান নং-৪০, দাগ নং-১০৮ দাস পরিবারের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়।
পাকিস্তান শাসন আমল থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ঢাকেশ্বরী প্রতিমা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান সম্পদ নিয়ে ভারতে পালিয়ে যান তৎকালীন সেবায়েত, তেওয়ারী, গোস্বামী ও চক্রবর্তীরা। তারা ভারতে যাওয়ার সময় মন্দিরের অধিকাংশ ভূমি হস্তান্তর করে যান। কিন্তু ঢাকেশ্বরী মন্দিরের হামলা লুটপাট ও ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জীবনবাজী রেখে কিছু সংখ্যক মুসলিমদের সহযোগিতায় মন্দির রক্ষা করেন পল্টন দাসের পূর্বপুরুষরা।
আর স্বাধীনতার পরে মন্দিরে চক্রবর্ত্তী পরিবারের কয়েকজন সদস্য ফিরে আসেন। অন্যরা কলকাতার শোভাবাজারের কুমারটুলি ও ভারতের অন্যান্য স্থানে থেকে যান। দেশ স্বাধীনের পর বাংলাদেশ সরকারের অধীনে জরিপ আরএস রেকর্ডে ৪৪৮০ খতিয়ানের ৪৯১ দাগে সুধীর দাস গং নামে জমি রেকর্ডভুক্ত হয়। অনেকে তখন তাদের জমির অংশ রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে সুধীর দাসের নিকট বিক্রি করে মালিকানাও অধিকার ত্যাগ করেন। আর মন্দিরের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আনন্দ চন্দ্র দাসের ছেলে সুধীর চন্দ্র দাসের প্রচেষ্টায় মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার সি আর দত্ত (বীর উত্তর), বিচারপতি দেবেশ ভট্টাচার্য্য, কে বি রায় চৌধুরী, শুধাংশু শেখর হাওলাদারসহ অন্যান্যদের উৎসাহ ও সার্বিক সহযোগিতায় মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি হয়।
মন্দির সংক্রান্ত এক মামলায় উচ্চ আদালতে বেতনভুক্ত পূজারি প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী কৌশলে বেতনভুক্ত পূজারি হতে নিজেকে নেক্সট ফ্রেন্ড বানিয়ে নেন। প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং তার সহযোগিরা বাহিরাগত কোনো কমিটিকে মন্দিরে সাহযোগিতা না করায় দাস পরিবারের ওয়ারিশ পল্টন দাসের বাবা-মা নিজের বসতঘরের একটি বড় অংশ ছেড়ে দেন।
আর সুধীর দাস আশির দশকে তার নিজের উত্তরাধিকারদের সেবায়েত হিসেবে ঘোষণার মাধ্যমে প্রয়াত সেক্টর কামান্ডার সি আর দত্তের মধ্যস্ততায় নিজের সমস্ত সম্পত্তি দান করে দেন ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রয়োজনে। ১৯৯০ সালে সাম্প্রদায়িক হামলায় লুটপাট, অগ্নিসংযোগ করে মন্দির ও সুধীর দাসের বসতবাড়িতে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট এইচ এম এরশাদ, বিরোধী দলীয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর ঢাকেশ্বরি মন্দিরে অনেক উন্নয়নমূলক সহযোগিতা করা হলেও মমতা রানী দাস ও তার পরিবার কোনো সহযোগিতা পাননি। বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে বিএস/সিটি জরিপের কার্যক্রম হয়। আর দানের তথ্য দৃশ্যমান না থাকায় সুধীর দাসের নামেই ডিপি খতিয়ান ও মাঠ পর্চা রেকর্ডভুক্ত হয়। এরপর মালিকানা সংশোধন করে সুধীর দাসের বসবাসের তথ্য ঢাকেশ্বরী মন্দিরের খতিয়ানে নং ৪৬১৬ তে মন্তব্যের কলামে রেকর্ডভুক্ত করা হয়। এরপর ১৯৯৯ সনে সুধীর দাস বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যাওয়ার পর তার ছেলে রঞ্জিত দাসের পরিবারের সঙ্গে বিরোধ হয়। আর সেই বিরোধে মহানগর পূজা কমিটি ও পূজা উদ্যাপন পরিষদের কতিপয় নেতা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করে। আর দ্রুতবিচার আইনে গ্রেফতার করা হয় রঞ্জিত দাসকে। একাধিক মামলায় জড়িয়ে রঞ্জিত দাসের পৈতৃক বাড়ি ভাঙচুর ও দখল করা হয়। পরিবার নিয়ে অসহায় অবস্থায় মন্দির হতে স্বপরিবারে পল্টন দাসের বাবা রঞ্জিত দাস। তার কিছুদিন পরই তিনি ২০০৪ সালে মারা যান। রঞ্জিত দাসের ছেলে পল্টন দাস ২০১৮ সালে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের অনিয়ম রোধে সরকারের বিভিন্ন মহলের প্রতি সহযোগিতা কামনা করেন।
পল্টন দাসের পরিবারের অভিযোগ, যারা সেবায়েতের কাছে ১৯৮৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর অনুমতি চেয়ে পূজা করতে প্রবেশ করে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে, তারাই এখন ঢাকেশ্বরী মন্দিরের দায়িত্বে। আর যিনি অনুমতি দিলেন, সেই পরিবারই এখন ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রবেশ করতে পারেন না।
পল্টন দাস বলেন, পূজা উদ্যাপন কমিটি ক্ষমতা বলে আমাদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে। এ ঘটনায় উচ্চ আদালতে রিট করা হয়েছে। পরে আদালত চার সপ্তাহের রুল জারি করেন। রুলে ধর্ম মন্ত্রণালয়, ঢাকা জেলা প্রশাসক ও হিন্দু ট্রাস্টের সভাপতিকে জবাব দিতে বলা হয়। এরপর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজল দেবনাথ সকালের সময়কে পল্টন দাসের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে প্রথমে টেলিফোনে কথা বলতে অস্বীকার করেন। এরপর তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তারা আদালতে গেছেন। আর আদালতের বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য বা কথা বলা ঠিক হবে না বলে জানান তিনি।
এমএসএম / এমএসএম
শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগ্রামের বিকল্প নেই
হজক্যাম্প হতে সৌদি রিয়াল চুরির ঘটনায় গ্রেফতার ২, সাড়ে ১৭ হাজার রিয়াল উদ্ধার
ডেমরা থানা কমিটির পক্ষ থেকে মহান মে দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালী ও বিশাল সমাবেশ
বাংলাদেশ কংগ্রেস নেতাকে হত্যার হুমকি
তেজগাঁওয়ে জামায়াতের ইউনিট প্রতিনিধি সম্মেলন
সমন্বিত নিরাপত্তা জোরদারে আনসার ও বিসিবির চুক্তি স্বাক্ষর
বিদেশে বিনিয়োগকৃত কোম্পানীর বিরুদ্ধে বিতর্কিত নথি ব্যবহারে প্রবাসী কর্মীকে বঞ্চিত করার অভিযোগ
শ্রমিক দিবস প্রতিবছর আসে মেহনতী পরিবহন শ্রমিকরা অবহেলিত থেকে যায়
উত্তরায় ২,৬০০ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
বাংলাদেশে নেপাল ফটো সাংবাদিক সফরত বিপিজেএ উদ্যাগে কক্সবাজার ভ্রমন
উত্তরায় ২,৬০০ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
ডেমরায় কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ারের ৪ ইউনিট