হালদা নদীতে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন
বিষ প্রয়োগ করে অবাধে মাছ শিকার করছে দুষ্কৃতকারীরা। ফলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের বংশবিস্তার বাধাগ্রস্তসহ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে বলে জানান বিশেষজ্ঞগণ। হালদা নদী বাংলাদেশের একমাত্র জোয়ার-ভাটার মিঠা পানির প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র, যাকে বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ বলে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকার। এর উৎসস্থল রামগড় উপজেলা। এটি ফটিকছড়ি উপজেলা হয়ে প্রধান প্রজনন ক্ষেত্রে সংযোগ হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের ৬ শতাংশ হালদা নদী থেকে আসে। এ সময় দেশের মোট চাহিদার ৭০ ভাগেরও বেশি পোনার চাহিদা পূরণ করতো হালদা। হালদা বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় উঠে এসেছে- হালদার ৫ কেজি ওজনের ডিমওয়ালা একটি কার্প (রুই, কাতল, মৃগেল ও কালিবাউস) মাছ থেকে বছরে সাড়ে তিন কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অসাধু চক্রটি ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর রাবার ড্রাম অংশের পর থেকে পাইন্দং যোগিনী ঘাটা ব্রীজ অংশের হালদা নদীতে মধ্যরাতে বিষ ঢেলে চিংড়ি সহ বিভিন্ন প্রকার মাছ শিকার করে। বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার করায় ছোট মাছগুলো মারা যায়। এমনকি বিভিন্ন পোকামাকড়সহ মরে যায় এ বিষে। এছাড়া প্রাকৃতিকভাবে তৈরি মাছের খাবার নষ্ট এবং মাছের বংশ বিস্তার বাধাগ্রস্তসহ হুমকির মুখে পড়ছে জীববৈচিত্র্য। এ অংশে পানি কমে যাওয়ায় শিকারিরা বিষ প্রয়োগে চিংড়িসহ হরেক প্রজাতির মাছ আহরণ করে।এছাড়া সম্প্রতি হালদার বিভিন্নস্থানে ডলফিনসহ বিভিন্ন মরা মাছ ভেসে উঠছে। ফটিকছড়ি অংশে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন। সব মিলিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হালদা পাড়ের সাতগড়িয়া পাড়ার দিদার ভান্ডারী বলেন, এক ধরনের বিষাক্ত পদার্থ (বিষ) যা পানিতে প্রয়োগ করলে চিংড়ি আধামরা হয়ে গভীর পানি থেকে ভেসে কূলে উঠে আসে। নদীর পানিতে ভেসে ওঠা এ সব মাছের বেশির ভাগই চিংড়ি। বিষয়ক্রিয়ায় মরে অসংখ্য চিংড়ি সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোঁনা নদীর কূলে ভাসতে থাকে। যারা বিষ দেয় তারা রাতেই মাছ ধরে ফেলে। ভোর সকালে আমরা নদীতে গেলেও মরা মাছ গুলো দেখি। এ নিয়ে এখনো কাউকে কোন পদক্ষেপ নিতে দেখলাম না। এছাড়া প্রশাসনের চক্ষু ফাঁকি দিয়ে হালদার বিভিন্নস্থানে বড়শি ও জাল দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয় মো. আলী নামের এক যুবক বলেন, আমরা আজ অনেকদিন ধরে এসব দেখতে দেখতে অতিষ্ট হয়ে গেছি। বিষ দিয়ে যে মাছ গুলো মেরে ফেলা হচ্চে এগুলো রাষ্ট্রীয় সম্পদ। আমরা এর সুষ্টু তদন্তের মধ্য দিয়ে যারা এসবের সাথে জড়িত তাদের বিচার চাই।
যোগিনী ঘাটা ব্রীজের পাশের একটি মসজিদের ঈমাম জানান, ১০-১২দিন পরপর সকালে উঠে দেখি মানুষ দৌঁড়াদৌঁড়ি করে হালদায় মরা মাছ ধরার জন্য। মূলত রাতের সময়ে বিষ দিয়ে মাছ গুলো মারা হয়। চিংড়ি মাছের সংখ্যা বেশি। রাতের আধাঁরে যারা বিষ দিয়ে মাছ মারে তাদের শাস্তি হওয়া উচিৎ। বিশস্ত একটি সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, কয়েকদিন পর পর রাতের আধাঁরে ৪-৫টি স্থানীয় চক্র মধ্যরাতে নদীতে বিষ দেয়। স্থানীয়রা তাদের হাতেনাতে ধরতে পারছেনা। মধ্যরাতে বিষ দিয়ে মশারি বা জাল দিয়ে মাছ ধরে নিয়ে যায় তারা।এসব শিকারির জালে বড় আকারের চিংড়ি আটকা পড়লেও ছোটগুলো নদীতে ভেসে ওঠলে সকালে নদীর পাড়ের বাসীন্দারা মাছ ধরে।
হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিচার্স ল্যাবরেটরির কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া বলেন,বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন হালদার নদীর উপর চরম প্রভাব পড়বে। প্রশাসন পদক্ষেপ নিয়ে এখনই বন্ধ করতে হবে বিষ প্রয়োগে মাছি নিধন। তিনি জানান,এভাবে দিনের পর দিন মিঠা পানির মা-মাছ ও ডলফিনের মৃত্যু এবং বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন অব্যাহত থাকলে হালদা এক সময় মাছ ও ডলফিন শূন্য হয়ে পড়বে। হুমকির মুখে পড়বে জীববৈচিত্র্য। পরিবেশ-প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
ফটিকছড়ি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো.মিজানুর রহমান বলেন, হালদায় বিষ দিয়ে মাছ নিধন করা অনেক বড় একটি অপরাধ। বিষ প্রয়োগের কারণে নির্বিচারে ছোট-বড় মাছ মারা যায়। এছাড়া প্রাকৃতিকভাবে তৈরি মাছের খাদ্য ও প্রজনন নষ্ট হয়ে যায়। এককথায় বিষ দিয়ে মাছ শিকার জীববৈচিত্র্যের জন্য দারুণ হুমকিস্বরূপ। বিষ ঢেলে মাছ শিকার করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এ বেআইনি কাজের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে প্রচলিত আইনে শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য আমি ইউএনও'র সাথে কথা বলবো।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাব্বির রাহমান সানির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি জানতাম না। স্থানীয়ভাবে যদি কেউ লিখিত অভিযোগ দেন তাহলে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এমএসএম / জামান
লোকালয় থেকে উদ্ধারকৃত অজগর কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত
উত্তরাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থায় আরেকটি মাইলফলক
সুবর্ণচরে নারী, শিশু, ব্রাককর্মীসহ ৩ মরদেহ উদ্ধার
ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে ইউএনও শিক্ষার মান উন্নয়ন ও ৪টি ক্লাব গঠনের নির্দেশ
কুড়িগ্রামে জমিজমা নিয়ে সংঘর্ষ, স্বামী-স্ত্রীসহ আহত ৫
হানিট্রাপের অভিযোগ সেনাসদস্যের সম্মানহানি তদন্ত দাবি
চাঁদপুর যাত্রী টার্মিনাল প্রকল্প নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে মায়ার লিমিটেড ও কবিরস সিন্ডিকেট জেভি
ভূরুঙ্গামারী থানা জেলার শ্রেষ্ঠ, সেরা সার্কেল এএসপি মুনতাসির ও ওসি আজিম
শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কাটার টাকা ফেরত দিলেন বিএনপি নেতা
মেহেরপুরে ৭০ মেধাবী শিক্ষার্থীকে জেলা পরিষদের বৃত্তি প্রদান
কেডিএর সেবা ও মাস্টার প্ল্যান নিয়ে অভয়নগরে মতবিনিময়
খাদ্যে ভেজাল, ভুয়া ‘ডা.’ পদবী ব্যবহার : চাঁদপুরে তিন প্রতিষ্ঠানের জরিমানা
সিংড়ায় ট্রাফিক আইন অমান্য করায় ৪ জনকে জরিমানা
Link Copied