বসতভিটা হারিয়ে দিশেহারা জঙ্গল সলিমপুরের বাসিন্দারা সরকারি পুনর্বাসন চায়
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত শহরমুখী বাস্তুচ্যূত মানুষ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের এলাকার বাইরে, কিন্তু নগর লাগোয়া পরিত্যাক্ত জঙ্গল ও পাহাড়ি ভূমি জঙ্গল সালিমপুরে নব্বই দশকের দিকে ক্রমান্বয়ে বসতি গড়তে শুরু করে।
বিগত সময়ে চট্টগ্রাম নগরের দেওয়ানহাট বস্তি, বাটালি হিল, মতিঝর্ণা, ঢেবার পাড় বস্তি, বরিশাল বস্তি, লালদিয়ার চর, নোমান বস্তিসহ অন্তত ২০টি বস্তি থেকে কয়েক হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া এসব মানুষেরও ঠিকানা হয়ে উঠতে থাকে এই ছিন্নমূল। সর্বশেষ ২০২১ সালে পুলিশ সুপারের পাহাড়, লালদিয়ারচর থেকে উচ্ছেদ হওয়া কয়েকশত উদ্বাস্তুর ঠিকানা হয়েছিল এই বসতি। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপকূলীয় উপজেলা ছাড়াও কক্সবাজার, বরিশাল, ভোলা, নোয়াখালী, কুমিল্লার জলবায়ু উদ্বাস্তু ও নিম্ন আয়ের মানুষের ঠিকানা হয়ে ওঠে ছিন্নমূল।
চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সমন্বয় সংগ্রাম পরিষদ ২০০৪ সালে গড়ে ওঠে। সেসময় প্রতিটি ৬০ টাকার বিনিময়ে প্রায় এক হাজার প্লট (৩৫ বাই ৪৫ বর্গফুট) হস্তান্তর করে সংগঠনটি। গত প্রায় দুই যুগে এই সংগঠনটি সরকারি খাসভূমিকে ১১টি ভাগে ভাগ করে গড়ে তোলে হাজার প্লট। সরকারি কোনো সহায়তা না নিয়েই এই সময়ে তারা রাস্তাঘাট, বিদ্যালয়, মসজিদ আর মাদ্রাসা নির্মাণ করেছে।এই এলাকার দুই কিলোমিটার পাকা রাস্তা নিজস্ব অর্থায়নে বানিয়েছে বাসিন্দারা। বৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায়, বস্তির বাসিন্দারা বাণিজ্যিকভাবে পাওয়া বিদ্যুৎ সংযোগ কিনে ব্যবহার করেন। স্থানীয় এমপিরাসহ কিছু দাতব্য সংস্থাও এখানে মসজিদ, স্কুল ও মাদ্রাসা নির্মাণ করেছে।
ছিন্নমূলে আছে ৩টি প্রাথমিক ও ১টি উচ্চ বিদ্যালয়; ৪টি মাদ্রাসা, ১২টি মসজিদ, ৩টি কেজি স্কুল, ৩টি এতিমখানা, ৬টি গোরস্তান, ৫টি মন্দির, ২টি কিয়াং, ১টি চার্চ, একটি শ্মশান ও একটি কাচাবাজার। রয়েছে অন্ধ ও ট্রান্সজেন্ডার মানুষের জন্য বিশেষ জোন। তবে এই বস্তিতে জন্ম নেওয়া ১২ হাজার শিশুকে জন্ম নিবন্ধন না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ছিন্নমূলকে কেন্দ্র করে এর আশেপাশের জায়গাসহ প্রায় ৩,১০০ একর খাস জমিতে গড়ে উঠে স্থাপনা, প্রভাবশালীরা প্লট করে স্ট্যাম্পে নিম্ম আয়ের মানুষের কাছে বিক্রি করে। ছিন্নমূলের পাশে সরকারি জায়গা দখল করে আলী নগর এলাকায়ও ১,৫০০ একর জমিতে গড়ে উঠে বসতি।
তবে গত ২৩ জুন জেলা উন্নয়ণ কমিটির সমন্বয় সভায় জঙ্গল সলিমপুরের ৯০০ একর খাস জমিতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, নভোথিয়েটার, স্পোর্টস ভিলেজ হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল, জাতীয় তথ্যকেন্দ্র ও নাইট সাফারি পার্কসহ একাধিক সরকারি স্থাপনা তৈরীর পরিকল্পনার কথা জানান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোমিনুর রহমান। ২২ জুলাই থেকে ২৩ আগষ্ট পর্যন্ত নয়টি অভিযানে জঙ্গল সলিমপুরের আলী নগরের ১৭০ টি উচ্ছেদ করে জেলা প্রশাসন। ২৪ আগষ্ট জঙ্গল সলিমপুরে অবৈধ বসতিতে উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় ১৭০টি স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। একটি বাদে সকল বিকল্প রাস্তাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বিভিন্ন সময়ে চলে আসা উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের সঙ্গে বস্তিবাসীর সংঘর্ষ হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রশাসনের দায়ের করা ছয়টি মামলায় অন্তত এক হাজার স্থানীয় বাসিন্দাকে আসামি করা হয়েছে।
ছিন্নমূল বাসিদের দাবি বিশ্ব মানবতার মা জননেত্রী শেখ হাসিনা যেখানে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন, গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছেন সেখানে তিনি আমাদের উচ্ছেদ করতে পারেন না। প্রধানমন্ত্রীর অজান্তে একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিজেরা লাভবান হওয়ার জন্য এ ধরনের উচ্ছেদের পাঁয়তারা করতেছে। এ ধরনের অপতৎপরতা বন্ধ করার জন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুল আবেদন জানান। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য এ ব্যাপারে আজ শনিবার ঢাকার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনের আয়োজন করার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সীতাকুণ্ডের সলিমপুর থেকে আগত বাসিন্দারা।
আগামী ১২ ই সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ে বৈঠকে কথা রয়েছে। বিষয়টি গত বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মহিবুল হাসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে। সভায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, জননিরাপত্তা বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, ভূমি মন্ত্রণালয়, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, সুরক্ষা সেবা বিভাগ, আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সচিব সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, পুলিশ, র্যাব, আনসার ও গ্রাম রক্ষা বাহিনীর প্রধানগণ চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।এছাড়াও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম. রেজাউল করিম ও সিডিএ চেয়ারম্যানকে বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
চট্রগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেন,জঙ্গল সলিমপুরের উদ্ধার করা ৩১০০ একর খাস জমির বিষয়টি সরকারের নজরে আসে। সেজন্যই পাহাড় ও বন রক্ষা করে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য আনা ও জীববৈচিত্র রক্ষায় ফের কীভাবে জঙ্গল সলিমপুর এলাকাকে সবুজায়নের মাধ্যমে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায় সেজন্য আগামী ১২ সেপ্টেম্বর সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক হতে যাচ্ছে। সেখানে জঙ্গল সলিমপুরকে নিয়ে মাস্টার প্ল্যানের বিষয়ে কথা হবে। এ মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে জঙ্গল সলিমপুর এলাকার অন্ধকার যুগের অবসান ঘটবে।
গত ১লা আগষ্ট চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর দস্যুমুক্ত করে ভূমিহীনদের পুনর্বাসনসহ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী । একই সাথে পাহাড় কাটা ও দখল বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দেন তিনি।
এমএসএম / এমএসএম
কুমিল্লায় শতাধিক সংবাদকর্মীদের নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত
বেনাপোলে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি ভারতীয় ইলিশের চালান জব্দ
জয়পুরহাটে শীতার্ত শিক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রশিবির: শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ
জলমহালে অংশীদারিত্ব নিয়ে প্রতারণা, নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়রী
শেরপুরে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদকে দল থেকে বহিষ্কার
শিশু বরণ থেকে স্মার্ট ক্লাসরুম, জামালগঞ্জ বিদ্যালয়ে শিক্ষার নতুন ভোর
শিবচর পুলিশের অভিযানে এক্সপ্রেসওয়ে থেকে লুট হওয়া ৪৬২ গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার
চাঁদপুরে পিকআপ ভ্যান-অটোরিকশা সংঘর্ষে যুবক নিহত
জেসমিন আরা শরীয়তপুর জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গার্ল গাইড শিক্ষক নির্বাচিত
ভোলাহাটে জনসচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার
কুড়িগ্রামে প্রবেশন কার্যক্রম আধুনিকায়নে সেমিনার অনুষ্ঠিত
লোহাগড়ায় সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
Link Copied