দেশের নাম উজ্জ্বল করলো বিরামপুরের ছেলে মোস্তাকিম
অজপাড়াগাঁয়ের ছেলে মোস্তাকিম হোসেন। সে সাউথ এশিয়া রিজিওনাল জুনিয়র ইন্টারন্যাশনাল ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট-২০২২ (অনুর্ধ্ব-১৫) এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ১০ টি দেশের প্রতিযোগীরা এ খেলায় অংশ নেয়। মোস্তাকিমরা শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হবার এই গৌরব অর্জন করেছে। মোস্তাকিমের বাড়ি দিনাজপুরের বিরামপুর পৌর শহরের পূর্বপাড়া মহল্লায়। ব্যাডমিন্টন তার প্রাণের স্পন্দন। কিন্তু সমস্যা হলো সাংসারিক টানাপোড়েন।
গরীব ঘরে জন্ম হলেও ব্যাডমিন্টন খেলায় সে দারুণ পারদর্শী। স্বপ্ন ছিলো দেশের একজন নামকরা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় হবে সে। কিন্তু নড়বড়ে সাংসারিক অবস্থা তার সেই স্বপ্নের পথে দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়। বাবা পেশায় রিকশাচালক, মা সংসারের কাজ সামলানোর পাশাপাশি বাইরে টুকটাক কাজ করে সামান্য টাকা আয় করে। সংসারে অভাব অনটন লেগে থাকায় মোস্তাকিম মাঝেমধ্যে রিক্সা চালাত, পাশাপাশি সুযোগ পেলেই ব্যাডমিন্টন খেলতে ছুটে যেতো।
এভাবেই একদিন উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে খেলতে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিমল কুমার সরকার এঁর নজরে পরে সে। আর ছেলেটির প্রতিভা আঁচ করতে পারেন মানবিক ইউএনও পরিমল কুমার সরকার। তিনি মোস্তাকিমকে এগিয়ে যাবার রাস্তা দেখান। সেই সাথে আর্থিক সহযোগিতা সহ মাথার উপর অনুপ্রেরণার ছাঁয়া হয়ে দাঁড়ান। আর এই অনুপ্রেরণার শক্তিতেই স্বপ্ন জয়ের যুদ্ধে অগ্রগামী পথিক এখন মোস্তাকিম।
মোস্তাকিমের এই এগিয়ে যাওয়া এবং অনন্য প্রাপ্তিতে দারুণ উচ্ছ্বসিত ইউএনও পরিমল কুমার সরকার। মোস্তাকিম শুধু দেশের নামই নয়, বিরামপুরের নামও উজ্জ্বল করেছে। তাই এই খুশির খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ইউএনও মোস্তাকিমকে বিরামপুর উপজেলা প্রশাসন এঁর পক্ষ থেকে অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সেই সাথে মোস্তাকিম যেন আরও অনেকদূর এগিয়ে যায় সেই প্রত্যাশাও ব্যাক্ত করেন।
জানতে চাইলে ইউএনও পরিমল কুমার সরকার জানান, মোস্তাকিম একদিন অফিসার্স ক্লাবে খেলতে এসেছিল। সেদিনই আমার সাথে তার পরিচয়। কয়েকমাস পর স্কুল পর্যায়ের খেলায় সে সারাদেশে চ্যাম্পিয়ন হয়। এরপর বেশ কিছুদিন খবর নেয়া হয় নি। একদিন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের স্টাফ মাসুম জানালো মোস্তাকিমকে সে রিকশা চালাতে দেখেছে। আমি শুনে অবাক হলাম, কারণ জিজ্ঞেস করলাম। তখন মাসুম বললো মোস্তাকিমের পরিবারের দুর্দশার কথা।
ওর বাবা-মা দুজনেই অসুস্থ ছিল, সংসার চালানোর তাগিদেই তাকে এই বাচ্চা বয়সে রিকশার হ্যান্ডেল ধরতে হয়েছে। ঢাকায় সে একটা একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেয়, সেখানে যাওয়ার টাকা দেয়ার সামর্থ্যও তার পরিবারের নেই। একাডেমি থেকে জানিয়েছে শুধু থাকা-খাওয়ার খরচ দিলেই চলবে। আমি তাকে অফিসে ডেকে এনে একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেবার ব্যবস্থা করি এবং মোস্তাকিমকে ঢাকায় যেতে বলি।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার ৩ মাস না পেরোতেই ছেলেটি এত বড় চমক উপহার দিবে আমি কল্পনাই করিনি। সে সাউথ এশিয়া রিজিওনাল জুনিয়র ইন্টারন্যাশনাল ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট- ২০২২ (অনুর্ধ্ব-১৫) এ চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করেছে। আমার নিজের সন্তানের সাফল্যে যতটা খুশী হই, ওর চ্যাম্পিয়ন হবার খবর শুনে আমি ততটাই খুশী হয়েছি। ইউএনও হিসেবে অনেক মানুষের মাঝেই সরকারি সহায়তা দিয়েছি, কিন্তু মোস্তাকিমকে সহায়তা প্রদান আমার চাকুরী জীবনের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবেই মনে করছি।
প্রীতি / প্রীতি
নোয়াখালীর কবিরহাটে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ
ঘোড়াঘাটে দাদী হত্যায় জড়িত নাতীসহ গ্রেফতার-৩
উল্লাপাড়ায় ১২’শ লিটার ডিজেল জব্দ
পটুয়াখালীতে কালেক্টেরেট স্কুল এন্ড কলেজের গেট ভেঙে পড়ে শিক্ষার্থী আহত
মাদারীপুরে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উদযাপন
মধুখালীতে ছায়া সংসদে বিতর্ক উৎসবে বিজয়ী দল সরকারি আইনউদ্দীন কলেজ
ভূরুঙ্গামারীতে চিকিৎসকের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও রাহাজানি:সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবাদ, থানায় অভিযোগ
কুমিল্লায় ভারী বৃষ্টিতে সড়কে হাঁটুপানি, ভোগান্তিতে নগরবাসী
গ্লোবাল অ্যাকশন সপ্তাহ উপলক্ষে আমঝুপিতে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ
নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মেহেরপুরে ফ্যামিলি সমাবেশ অনুষ্ঠিত
বাঁশখালীতে লোকালয়ে ইটভাটা, আইন লংঘনের দায়ে ২ লাখ টাকা জরিমানা
টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উদযাপন