ঢাকা শনিবার, ২ মে, ২০২৬

বরেন্দ্র অঞ্চলে শেয়ালের উৎপাতে অতিষ্ট মানুষ


সোহানুল হক পারভেজ, তানোর photo সোহানুল হক পারভেজ, তানোর
প্রকাশিত: ৩১-১০-২০২২ দুপুর ১১:৪৫
রাজশাহীর প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে শেয়ালের উপদ্রপ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাতে অথবা দিনে সমানভাবে শেয়ালের অত্যাচারে অতিষ্ট গ্রামের মানুষ। গৃহস্তের মুরগি কিংবা হাঁসের খোয়াড়ে হানা দিচ্ছে প্রাণীটি। সুযোগ পেলে মানুষের উপরও ঝাপিয়ে পড়ছে প্রাণিটি।
 
প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষাকারি প্রাণিটি আগে মাঠের গর্তে ও বড় জঙ্গলে থাকলেও সেগুলি অনেকটা উজার হয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সময়ে মানুষ নতুন করে বসতবাড়ির পাশ ঘেষে গড়ে উঠছে বিভিন্ন ফলের বাগান। সে কারণে শেয়াল এখন মানুষের বসতির কাছাকাছি বাস করছে বলে জানিয়েছেন বন্য প্রাণি বিশেষজ্ঞরা।
রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাঁচন্দর গ্রামের সাহিদা বেগম নামের এক গৃহবধূ জানান, ৫ থেকে ৬ বছর আগেও বাড়িতে হাঁস-মুরগি পালন করে নিজেদের খাওয়া,আত্মীয় আসলে আপায়ন করেও বছর শেষে তা বিক্রি করে সংসারে খুটি-নাটি জিনিসপত্র কেনা হয়েছে। কিন্তু বিগত দুই বছর শেয়ালের উৎপাতে বাড়িতে হাঁস-মুরগি পোষাই দায় হয়ে পড়েছে।
 
তিনি জানান, ৫ বছর আগে তার বাড়িপাশ েিঘষে ১৫ বিঘা জমিতে করা হয়েছে পেয়ারার বাগান। সেই বাগানেই শেয়াল আশ্রয় নিয়েছে। পেয়ারার বাগানের মধ্যে বাসা বাধা শেয়াল দিনের বেলাতেও বাড়িতে হানা দিচ্ছে। দুই বছরে তার ১৫ থেকে ২০টি মুরগি শেয়ালে ধরে নিয়ে গেছে।
এমন সমস্যা শুরু সাহিদা বেগমেরই না। রাজশাহী চারঘাট, পুঠিয়া, দুর্গাপুর, বাগমারা, মোহনপুর উপজেলাসহ গ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় শেয়ালের উৎপাত বেড়েছে। বাড়ির পোষা প্রাণি ধরে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি শেয়ালের আক্রমনে মানুষও আহত হওয়ার সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে।
 
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়(রাবি)বন্যপ্রাণি বিভাগের অধ্যাপক ড.বিধান চন্দ্র দাশ জানান, দেশের ঝোপ ও জঙ্গলে রয়েছে অসংখ্য বন্যপ্রাণির বাস। এদের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশের পরিচিত বুনো প্রাণি শেয়াল। দেশে দুই ধরনের শেয়াল দেখা যায়। একটি পাতি শেয়াল, অপরটি খেঁক শেয়াল। পাতি শিয়াল সব ধরনের বনে বাস করতে পারে।
 
তৃণভূমি অঞ্চল, সমতল ভূমি, পাহাড়ি বন, পাতাঝরা বন, গ্রামের। গৃহস্থের মুরগি-হাঁস, ছাগল শিকারের বদনাম আছে পাতি শেয়ালের। আকারে গৃহপালিত কুকুরের সমান। গায়ের রঙ লালচে বাদামী থেকে বাদামী, সাথে কালচেভাব আছে। লোমশ শরীর। নাকের ডগা কালো। মুখ লম্বাটে সরু। পাতি শেয়াল মাথা থেকে লেজের গোঁড়া পর্যন্ত ৬৮ সেমি হয় । লেজ লোমশ সরল ২৩ সেমি , অগ্র ভাগে কালচে ভাব আছে। দাঁড়ান অবস্থায় উচ্চতা ৩৮ থেকে ৪৩ সেমি। ওজন ৮ থেকে ১১ কেজি। ড.বিধান চন্দ্র দাশ আরো জানান, প্রকৃতিতে এরা বড়জোর ৮ থেকে ৯ বছর বাঁচে।
 
শেয়ালের উৎপাতে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ড.বিধান চন্দ্র দাশ। তিনি জানান, বিভিন্ন কীটপতঙ্গ, ইঁদুর, খেয়ে কৃষিতে যেমন উপকার করছে তেমনি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করছে শেয়াল। এছাড়া মরা খেয়ে পাতি শিয়াল দুর্গন্ধ ও রোগজীবাণু ছড়ানো থেকে রক্ষা করছে।

এমএসএম / এমএসএম

চোখের সামনে ভেসে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন

গুজব-অপপ্রচারের প্রতিবাদে ময়মনসিংহে এলজিইডি ঠিকাদারদের গণস্বাক্ষর কর্মসূচি

কুষ্টিয়ায় রাতের আঁধারে গাছ কর্তন, থানায় লিখিত অভিযোগ

বোদায় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

রায়গঞ্জে প্রাণিসম্পদ প্রকল্পে ৪ শতাধিক ছাগী পেলো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনে যুবকের মৃত্যু:স্ত্রী সহ গ্রেফতার ২

চাঁদা দাবি, হয়রানি ও হুমকির প্রতিবাদে রাঙ্গামাটিতে ব্যবসায়ীর সংবাদ সম্মেলন

কাপ্তাই সীতা পাহাড়ে জরাজীর্ণ বিদ্যালয়টি শিশুদের পাঠদানের একমাত্র ভরসা

বরগুনার কৃষক দিশাহারা, ঝড় বৃষ্টিতে রবিশস্যর ক্ষতি

বৃষ্টির ভেতরও থামেনি শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন

মাদকবিরোধী অভিযানে রায়পুরায় দুইজনকে কারাদণ্ড

রূপগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে দেশ রূপান্তরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন

ঘিওরে মহান মে দিবস পালিত