ঢাকা সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

শালিখায় কালের সাক্ষী মুঘল আমলের বায়তুন নূর জামে মসজিদ


সাইফুল ইসলাম, শালিখা photo সাইফুল ইসলাম, শালিখা
প্রকাশিত: ২১-১২-২০২২ দুপুর ১১:১৬

মাগুরার শালিখায় কয়েক শো বছরের স্মৃতি বহন করছে মূঘল আমলে নির্মিত একটি মসজিদ যা বর্তমানে বাইতুন নূর জামে মসজিদ নামে পরিচিত।প্রাচীন স্থাপত্য শিল্পের অপূর্ব নিদর্শন এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল অনেক দিন।তবে বর্তমানে কয়েক বছর পর পর গ্রাম্য অর্থায়নে সংস্কার করে মূল মসজিদের চারিপাশের কিছু অংশ বৃদ্ধি করে চলছে নামাজ পড়ার কাজ।উপজেলা সদর আড়পাড়া থেকে ২কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে গোপালগ্রামে অবস্থিত এ মসজিদটি ৬০ফুট লম্বা ও ৪০ফুট চওড়া।এ গ্রামের তৎকালীন সমাজ চিন্তক কলিম উদ্দিন শিকদার ওরফে বড় শিকদার ও কাতলী গ্রামের মুসলিম জমিদার হযরত শাহসুফি জমির উদ্দিন আহমদের আহবানে সাড়া দিয়ে মসজিদটি নির্মাণ করেন মুঘল সম্রাট আকবর বলে জানা গেছে।সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়,টালির ইটের তৈরি ৪০ইঞ্চি পুরু দেয়ালের চারপাশে শিউলী,গোলাপ,গাদা,পদ্ম বিভিন্ন ফুল ও লতাপাতার কারুকার্য খোদাই করা আছে।মসজিদের ৪টি মিনারের ৩টিই ভেঙে পড়েছে।মূল মসজিদ ঘরের ২টি জানালাসহ ৩টি দরজার ২টিই অকেজো হয়ে আছে।মসজিদটি নির্মাণে কোন রডের ব্যবহার করা হয়নি।এর গায়ে আরবি ও উর্দুতে লেখা ইসলামী গজলগুলো ঝলছে যেতে শুরু করেছে।তবে মসজিদের ভেতরকার মেহরাব ও দেয়ালে অঙ্কিত কারুকার্য,দেয়ালের সংস্কার পূর্বক কার্যপোযোগী করা হয়েছে।উপজেলার গোপালগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আধুনিকতার ছোঁয়া লাগায় এখন গ্রামটি আর অজপল্লী নেই।উপজেলা সদর থেকে পাকা সড়ক পথ তৈরি হয়েছে।এখন শুধুমাত্র প্রাচীন নিদর্শনের এই মসজিদটি পূর্ণ সংস্কার করে প্রাচীন এতিহ্য রক্ষা করা জরুরি বলে মনে করছেন অনেকেই।মসজিদের মোয়াজ্জেম ইউনুস আলী জানান,বাপ-দাদাদের কাছ থেকে শুনে আসছি মসজিদটি তারও আগে তৈরি হয়েছে মসজিদটি কারা তৈরি করেছে এবং কখন তৈরি করেছে এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোন তথ্য দিতে পারবো না তবে সরকারি অর্থায়নে মসজিদ সংরক্ষণ পূর্বক নির্মাণ করে কারুকার্য বৃদ্ধি করলে শালিখা উপজেলার তথা পুরো বাংলাদেশের একটি নিদর্শন স্পটে পরিণত হতো।গ্রামের ইমাম হাফেজ মাওলানা হাসিবুল ইসলাম জানান,মসজিদটি দীর্ঘ কয়েকশো বছরের স্মৃতি বহন করছে যা একসময় মসজিদের একটি খোদাই করা সাল দেখে অনুমান করা যায় তবে বর্তমানে গ্রামবাসীর কারণে মূল গম্বুজ থেকে কয়েক ফুট বেশি জায়গা জুড়ে সংস্কার করা হয়েছে যাতে করে আমরা গ্রামের মানুষ সেখানে নামাজ পড়তে পারি।পার্শ্ববর্তী পুকুরিয়া গ্রামের ধলা কাজী জানান,ছোটবেলায় যখন মসজিদ দেখতে যেতাম তখন মাথা পূর্ণ উঁচু করে দেখতে হত কারন মসজিদটি অনেক উঁচু ছিল।এছাড়াও পার্শ্ববর্তী কযয়েক গ্রামের বেশ কিছু প্রবীণ লোকদের সাথে কথা বললে তারা জানান,ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি মসজিদটি মাটির নিচ থেকে উঠেছে।কেউ কেউ আবার জানান,মসজিদটি নাকি জিনেরা তৈরি করেছে।তবে মসজিদ নিয়ে নানা লোকের নানা মত থাকলেও মসজিদটি যে মুঘল আমলের তৈরি তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণও দিয়েছে এলাকাবাসী।৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাহাজান মোল্লা জানান,মসজিদটি অনেক পুরাতন,কয়েক পুরুষের স্মৃতি বহন করছে তাই মসজিদটি সরকারি কোন সহযোগিতা পেলে একটি নিদর্শন স্পটে পরিণত হতো।মুঘল আমলে তৈরি হওয়া এ মসজিদ নিয়ে নানা গল্প থাকলেও বর্তমানে সেখানে গোপালগ্রাম,শ্রীহট্ট দিঘীসহ আশেপাশের বিভিন্ন গ্রামের শিশুদেরকে আরবি শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি গোপালগ্রামের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রার্থনার একটি অন্যতম জায়গা।তাই মসজিদটি পুনঃনির্মাণ করে দৃষ্টিনন্দন একটি নিদর্শন ইস্পটে পরিণত করা যায় বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

এমএসএম / এমএসএম

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড: গোপনে ৫৬ নিয়োগ দিলেন চেয়ারম্যান

দাউদকান্দিতে মাদকবিরোধী অবস্থানে হামলা, আহত ৯

শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন মন্দিরে পূজা, এরপর তারেক রহমানের জন্য চা শ্রমিকদের বিশেষ প্রার্থনা

ঠাকুরগাঁওয়ে রুহিয়ায় ইউনিয়ন বিএনপির সব কমিটি বিলুপ্ত

শ্যামনগর কৈখালীতে জামায়াত নেতার তরমুজ ক্ষেত লন্ডভন্ড

পটুয়াখালীতে খাল থেকে যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার

কুড়িগ্রামে ট্রাক চাপায় সাবেক সেনাসদস্য নিহত, ঘাতক ট্রাক চালক গ্রেফতার

কুড়িগ্রামে রমজানে ভেজালরোধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা

উলিপুরে পবিত্র রমজান ও একুশে ফেব্রুয়ারি পালন উপলক্ষে প্রস্তুতি মূলক সভা অনুষ্ঠিত

মৌলভীবাজার-১ আসনে ছয় প্রার্থীর লড়াইয়ে চারজন হারালেন জামানত

যমুনার চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যউন্নয়নে টুকুকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় টাঙ্গাইলবাসি

নবনির্বাচিত এমপি লুৎফর রহমান খান আজাদের সংবাদ সম্মেলন

বরিশাল বিভাগের একমাত্র বিজয়ী নারী প্রার্থী ঝালকাঠির ২- আসনের ইলেন ভুট্টো