উলিপুরে বোরো পরিচর্যায় ব্যাস্ত কৃষকেরা-চড়া দামে নিতে হচ্ছে শ্রমিক
কুড়িগ্রামের উলিপুরে বোরো লাগানো শেষ পরিচর্যায় ব্যাস্ত বোরো চাষিরা। সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত বোরো চারা নিড়ানি, কিটনাশক, সার প্রয়োগ ও সেচ দিতে তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে চড়া দামে নিতে হচ্ছে শ্রমিক। সার, কীটনাশক, ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বোরো চাষিরা বোরো চাষে হিমশিম খাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, এবারে উপজেলায় পৌরসভা সহ বোরো ধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা প্রায় ২২ হাজার ২শ ৬৫ হেক্টর। এ পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ২২ হাজার ১'শ ৫০ হেক্টর। বোরো ধান উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা প্রায় ৯৪ হাজার ৮'শ ৪৮.৯ মেট্রিক টন।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এবারে আমন ধানের বাম্পার ফলন আর দাম ভলো পাওয়ায় কৃষকেরা বোরো আবাদে ঝুঁকে পড়েছেন। তারা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমি নিড়ানি আর সেচ দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নারী-পুরুষরা দল বেঁধে বোরো ধানের জমি নিড়ানি দিচ্ছে। দেখে মনে হয় জমিতে কৃষকের এক মিলনমেলা। তারা বিভিন্ন ধরনের গান গাইছেন আর নিড়ানির কাজ সমান তালে চালিয়ে যাচ্ছেন। সবমিলিয়ে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা যায়।
গুনাইগাছ ইউনিয়নের নাগড়াকুড়া শুকদেবকুন্ড গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, রাসায়নিক সার ও ডিজেল তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে এ বছরে লাভ কম হবে। বোরো মৌসুমে ইট ভাটার কারণে শ্রমিকের সংকট দেখা দিয়েছে। বেশির ভাগ শ্রমিক ইট ভাটা কাজ করে। ৩’শ টাকা মূল্যের একজন শ্রমিককে ৪’শ টাকা দিয়েও পাওয়া যায়না। তিনি আরও বলেন, অনেক টাকা খরচ করে ভালো ফলন ও ভালো দাম না পেলে আমার মত প্রান্তিক চাষিদের কষ্টে জীবন যাপন করা ছাড়া কোন উপায় থাকবেনা।
উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের হারুনেফড়া গ্রামের আদর্শ কৃষক আশরাফ আলী খন্দকার জানান, তিনি প্রায় ৬ বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপণ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ধানের বীজ রোপন, কাদা করা, ওষুধ বাবদ এক হাজার টাকা, জমি চাষ করা বাবদ ৮’শ ২৫ টাকা, দিনমজুর কর্তৃক চারা রোপন ১ হাজার ৫০ টাকা, চাষের সার কেনা বাবদ ১ হাজার ৫’শ টাকা, ওষুধ প্রয়াগ ৪’শ টাকা, নিড়ানী দেয়া ৮’শ টাকা। এছাড়া ৩ মাস পানি সেচ বাবদ ২ হাজার ৬'শ ৪০ টাকা, ধান কাটা-মাড়াই ৪ হাজার টাকা সহ অন্যান্য আরো ২ হাজার টাকা। এ নিয়ে প্রতি বিঘা জমিতে চাষাবাদ বাবদ সর্বমোট খরচ হবে ১৩ হাজার থেকে ১৪হাজার টাকা। ফলন ভালো হওয়াসহ দাম ভালো পাওয়া গেলে এই খরচ আর পরিশ্রম দুই সার্থক হবে। কৃষক আশরাফ আলী খন্দকারের মতো একই কথা বলেন উপজেলার অন্যান্য কৃষকরাও।
এছাড়াও উলিপুর পৌরসভার পাতিলাপুর গ্রামের মহশিন আলী বলেন, সরিষার ক্ষেত উঠানোর পর বোরো চাষ করেছি। বর্তমান ডিজেল, সার, কীটনাশক ও বিদ্যুতের মূল্য যে ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে বোরো চাষ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এবারে আমি প্রায় ৯ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছি। এত খরচের পর যদি ধানের ফলন এবং বাজার দর ভালো না হয় তাহলে আমাদের অসহায় ভাবে জীবনযাপন করতে হবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার ও কৃষিবিদ মোশাররফ হোসেন বলেন, বোরো ধান রোপণ প্রায় শেষের পথে। এখন চলছে সার প্রয়োগ, নিড়ানি ও সেচ দেয়ার কাজ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এমএসএম / এমএসএম
ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দুস্থদের ঘরে ঘরে এসিল্যান্ড শিবু দাশ
পুলিশ সুপার হাবীবুল্লাহ’র নেতৃত্বে প্রশাসনের মানবিক উদ্যোগে ফিরেছে স্বস্তি
জাল চুরি করতে গিয়ে বিএনপি নেতা আটক কিন্তু নেতা বলছে অন্য কথা
মাগুরায় তেল ভর্তি ট্রাক ছিনতাই ও চালক হত্যা রহস্য উদঘাটন, ৪ গ্রেফতার
রোববার জঙ্গল সলিমপুরে যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-আইজিপি
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ৪০ কিলোমিটার যানজট
দুর্নীতির অভিযোগে বদলি হওয়া কর্মকর্তার পক্ষে সাফাই গেয়ে আরেক কর্মকর্তার পোস্ট, এরকম অপরাধ কে না করে আমিও করি"
আদমদীঘিতে গাাঁজার গাছসহ একজন গ্রেপ্তার
ঈদে পর্যটকের ঢলের অপেক্ষায়, হোটেল-রিসোর্টে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
হামে আক্রান্ত শিশুদের রক্ষাই সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার: কুমিল্লায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বৃষ্টি উপেক্ষা করে চন্দ্রায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়
রায়পুরে কিশোরী ধর্ষণকাণ্ডে আসামিকে পালাতে সহযোগিতায় ছাত্রদল নেতা জেলহাজতে