মানিকগঞ্জ থেকে বিলুপ্তির পথে বেতরাঙ্গা বাতাসী চেলাসহ দেশি প্রজাতির মাছ
মাছে ভাতে বাঙ্গালি, এই কথাগুলো একটা সময় প্রচলিত ছিলো সবার মুখে মুখে। আজ থেকে প্রায় ২৫/৩০ বছর পূর্বে বেশ কয়েক প্রজাতির দেশি জাতের মাছ যেমন বেতরাঙ্গা,বাতাসী,চেলা,পাবদা, রয়না,কই,চান্দা,জিওল,ডাইনকিন্যা ,কাইকল্যা ইত্যাদি (অঞ্চল ভেদে আঞ্চলিক নাম) নদীনালা,খালবিল,বাওর,পুকুর, জলাশয়ে প্রচুর পরিমান পাওয়া যেত।
জেলে অথবা শখের বশে গ্রামের অনেকেই এই সকল মাছ দলবেধে বিভিন্ন নদীনালা,খালবিল,পুকুর,বিলবাওর থেকে শিকার করতো। আর বর্তমান সময়ে বেতরাঙ্গা,বাতাসী,চেলা,পাবদা, রয়না,কই,চান্দা,জিওল,ডাইনকিন্যা ,কাইকল্যা,নারকেলের পোনা ইত্যাদি (অঞ্চল ভেদে আঞ্চলিক নাম) দেশি প্রজাতির মাছগুলো প্রায় বিলুপ্তির পথে। নদীনালা, খালবিলে কারেন্ট জাল এবং চায়না দোয়ারী দিয়ে অবাধে মাছ শিকারের জন্যও দায়ী করছে অনেকেই। সরেজমিনে, মানিকগঞ্জসহ হরিরামপুরে বিভিন্ন হাটবাজার,পুকুর,নদী,জলাশয় ঘুরে জানা যায়, দু একটা এসব প্রজাতির মাছ পাওয়া গেলেও সংখ্যায় অনেক কম। চাষ করা কই,রয়না,পাবদা,জিওল ইত্যাদি ছারা বেশির ভাগ দেশীয় প্রজাতির মাছ ই আর দেখা যায় না বাজার অথবা নদীনালা,খালবিল,পুকুরে। অনেকেই এসব মাছের নাম ই ভুলতে বসেছে।
হরিরামপুর উপজেলার বয়ড়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড সদস্য আন্ধারমানিক পদ্মাপাড়ের আড়ৎদার রাধু রাজবংশী বলেন,বেতরাঙ্গা,বাতাসী,চেলা,পা বদা,রয়না,কই,জিওল,ডাইনকিন্যা,কা ইকল্যা,নারকেলের পোনা ইত্যাদি এসব দেশি প্রজাতির মাছ এখন আর তেমনটা দেখা যায় না। এর কারণ হলো- পানি প্রবাহে বাধা আর বিভিন্ন জায়গায় বাধ দিয়ে পানির প্রবাহ রোধ করায় নদীনালা,খালবিলে সঠিক সময়ে পানি যাতায়াত না করায় এসব দেশি প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত প্রায়। সরকার এবং মৎস্য কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ জানাই- এসব দেশি প্রজাতির মাছ যেন আবার নদীনালা,খালবিল,পুকুরে ফিরে আসে, সেজন্য সঠিক পদক্ষেপ যেন নেয় তারা।
উপজেলার দিয়াপাড় গ্রামের আমিনুর সিদ্দিকি জানান, কারেন্ট জাল এবং চায়না দোয়ারী দিয়ে অবাধে এসব দেশি প্রজাতির মাছ শিকার করাকে দায়ী করেন তিনি।
বয়ড়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড সদস্য, জেলে কালিপদ দাস জানান, এসব দেশি প্রজাতির মাছগুলোর জন্ম হতো বিল বাওরে। এখন সেই সব বিল বাওরে এখন পানি থাকে না, প্রায় বেশিরভাগ সময়ই শুকিয়ে থাকে। আবার ইছামতি নদী খালের বিভিন্ন পয়েন্টে অপরিকল্পিত বাধ দেয়ায় পানি চলাচলে বিঘ্ন ঘটাকেও দায়ী করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দড়িকান্দি গ্রামের এক জেলে জানান, আমরা নিজেরাই এর জন্য দায়ী, আমরা পেটের দায়ে চায়না দোয়ারী এবং কারেন্ট জাল দিয়ে দেশি প্রজাতির এই মাছগুলো নির্বিচারে ধ্বংস করেছি। এখনতো এর মাশুল আমাদেরই তো দিতেই হবে।পরিবেশবাদী সংগঠন হরিরামপুর শ্যামল নিসর্গের সাধারণ সম্পাদক প্রণব পাল বলেন, আমাদের নদীনালা,খালবিল,জলাধার দখল,দূষন এর প্রধান কারণ। এই দেশি মাছগুলোর আশ্রয়ের জায়গা নষ্ট হয়ে গেছে, এছারা চায়না দোয়ারী আর কারেন্ট জালে নির্বিচারে দেশি প্রজাতির পোনা শিকার হচ্ছে প্রকাশ্যেই। এসব জলাধার উদ্ধারসহ কৃত্রিম জলাধার তৈরী করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করে দেশি প্রজাতির এই মাছগুলো ফিরিয়ে আনার আহবান জানাই।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ সাইফুর রহমান বলেন, দেশিয় ৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে ৫০ প্রজাতিই এখন বিলুপ্তপ্রায়। এছারাও বিল বাওর খাল শুকিয়ে গেছে এটাও সত্য, তাছারা বিভিন্ন জলাধারে দেশি প্রজাতির মাছ আশ্রয় নিলেও স্থানীয় জেলে অথবা শখের বশে অনেকেই তা সেচ দিয়ে শুকিয়ে ফেলে মাছ শিকার করে। এছারা চায়না দোয়ারী,কারেন্ট জাল নিধনে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। জেলা উপজেলায় মৎস্য অভয়াশ্রম তৈরী করে এসব দেশি প্রজাতির মাছগুলো টিকিয়ে রাখতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
এমএসএম / এমএসএম
চন্দনাইশে বৈশাখী মেলা উদযাপন উপলক্ষে আয়োজক কমিটির সংবাদ সম্মেলন
বড়লেখায় ৬৮০০ জন কৃষকদের মাঝে সার ও বীজ বিতরণ
কক্সবাজারে বিজিবি’র অভিযানে ৩১ কোটি টাকার ইয়াবার চালান জব্ধ
ঝিনাইদহে হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
আদমদীঘির চাঁপাপুরে ৫০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
২৮টি মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী রক্সি গ্রেপ্তার
মোহনগঞ্জে উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলার নতুন বার্তা দিলেন লুৎফুজ্জামান বাবর
মানিকগঞ্জে মাদক বিরোধী অভিযানে বাধা দেওয়ায় ইউপি সদস্যসহ গ্রেফতার ২
কাউনিয়ায় হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত
তেঁতুলিয়ায় জুয়া বিরোধী অভিযানে আটক ৮, টাকার বিনিময়ে ২ জনকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ
ধামইরহাট কেজি স্কুলের শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত
মাগুরা শ্রীপুরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভিযানে অংশ নিলেন "এমপি" মনোয়ার হোসেন
বাগেরহাটের মোল্লাহাটে তালগাছ থেকে পড়ে একজন নিহত
Link Copied