তানোরে সড়ক যেন ধান ও খড়ের চাতাল
রাজশাহীর তানোর উপজেলার কাঁচা-পাকা সড়কগুলোতে ধানমাড়াই ও খড় শুকানো হয়। এ কারণে যানবাহনসহ জনসাধারণের চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা।
বিভিন্ন যানবাহনের একাধিক চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ উপজেলার প্রায় সব পাকা সড়ক দখল করে এখন খড় শুকানোর জন্য সবাই ব্যস্ত। খড়ের কারণে সড়কের দুই পাশ পিচ্ছিল হচ্ছে। এর ফলে যানবাহন বেশি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। সড়কের ওপর খড় ফেললে খানাখন্দ দেখা যায় না। ফলে সাইকেল, মোটরসাইকেল বা অন্যান্য যানবাহন গর্তে পড়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এ ছাড়া সাইকেল, ভ্যান, রিকশার শ্রমিকদের দ্বিগুণ শক্তি প্রয়োগ করতে হয়। কোনো কোনো ভ্যান ওই সব সড়কে যেতে চায় না। ফলে ভোগান্তির শিকার হতে হয় যাত্রীদের।
আজ (১৩ জুন) উপজেলার তানোর-চৌবাড়িয়া, তালন্দ-কলমা, হাতিশাইল-কামারগাঁ ও দেবীপুর-মুন্ডুমালা সড়কে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ সড়ক কৃষকের দখলে। দেখে মনে হয়, সড়ক নয় যেন ধান ও খড়ের চাতাল। দল বেঁধে কৃষকেরা সড়কের ওপর যন্ত্র দিয়ে ধান মাড়াই করছেন, অনেকে সড়কজুড়ে ধান ও খড় বিছিয়ে রেখেছেন। আবার অনেকে ধান কেটে এনে সড়কের ধারে স্তূপ করে রাখছেন। এর মধ্যেই সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন।
একটি মোটরসাইকেলে চড়ে এক যুবক উপজেলা শহরে যাচ্ছিলেন। আজ সকাল ৯টার দিকে তানোর-চৌবাড়িয়া সড়কের ধানতৈড় এলাকায় খড়ের ওপর পিছলে পড়ে যান। এ নিয়ে খড় শুকানো কৃষকের সঙ্গে ঝগড়া বেধে যায় তাঁর।
মোটরসাইকেলের চালক প্রসেনজিত কুমার বলেন, প্রায় প্রতিদিনই এভাবে দুর্ঘটনা ঘটছে। কিন্তু প্রতিকারের কেউ নেই।
তালন্দ ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল লতিফ (২৭) দেবীপুর-মুন্ডুমালা সড়কের ওপর ধান স্তূপ করে রাখছিলেন।
তিনি বলেন, আগের মতো বাড়ির সামনে মানুষজন আর ফাঁকা জায়গা ফেলে রাখে না, ঘরবাড়ি করে ফেলেছে। ধানমাড়াইয়ের জায়গার অভাব। তাই মানুষ নিরুপায় হয়ে সড়ক বেছে নিয়েছে। তিনি একা নন, তাঁর মতো এলাকার প্রায় সব কৃষক এখন সড়কের ওপর ধান মাড়াই করেন।
উপজেলার চাপড়া গ্রামের আলামিন আলী, কালনা গ্রামের আলম হোসেন, গোকুল গ্রামের মিন্টু হোসেন, সমাসপুর গ্রামের সুকুমার রবিদাস সহ অনেকেই সড়কে ধান মাড়াই ও শুকানোর কথা স্বীকার করে বলেন, তাঁদের আলাদা কোনো জায়গা না থাকায় এ কাজের জন্য সড়ককেই বেছে নিয়েছেন। তাঁরা বলেন, শুধু তাঁরা নন, তাঁদের মতো অনেকেই এই কাজ করছেন। তবে চলাচলে সমস্যা হলেও তা সাময়িক বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।
মাইক্রোবাসের চালক কামাল হোসেন (৩২) বলেন, বর্তমানে এ উপজেলার পাকা সড়কগুলো দিয়ে যাতায়াত করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। পথচারী ও যানবাহনের চালকেরা একটু অসতর্ক হলেই নিশ্চিত দূর্ঘটনা ঘটবে।
উপজেলা প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, অনেক স্থানে সড়কের ওপরই ধান মাড়াই, ধান ও খড় শুকানোর কারণে সড়কেরও ক্ষতি হচ্ছে। সড়কে ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজ করা ঠিক নয়।
উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আবু বাক্কার বলেন, উপজেলার বেশির ভাগ সড়কে ধান কাটা মৌসুমে এ রকম অবস্থার সৃষ্টি হয়। কৃষকেরা মূলত জায়গার অভাবে এভাবে সড়কে আসেন। তবে এতে দুর্ঘটনারও খবর পাওয়া যায়। তাঁরা লোকজনকে এতে প্রতিনিয়ত বারণ করছেন বলে জানান।
শাফিন / শাফিন
নেত্রকোণার আটপাড়ায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা
নোয়াখালীতে নতুন গ্যাসকূপ খনন শেষে মিলেছে গ্যাস, জাতীয় গ্রীডে প্রতিদিন যুক্ত হবে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট
চরভদ্রাসনে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ২
দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ উদযাপনে অভয়নগরে মতবিনিময়
ভূরুঙ্গামারীতে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা
অনিয়মের অভিযোগে ১ মাসেও ব্যবস্থা নেই, প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে আল্টিমেটাম
নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ১১০৬
সরকারি চাকরির শুরুর বেতন ৫০০ টাকা, এখন ছয়তলা ভবন- প্রাইভেট গাড়ি-সম্পত্তি
ফেনীতে লায়ন্স ক্লাবের বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, চশমা ও ডেঙ্গু সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ
দাউদকান্দিতে সৌরবিদ্যুৎচালিত স্মার্ট অটোমেশন পানি সরবরাহ প্ল্যান্ট চালু
স্মার্ট টিকেটিংয়ের মাধ্যমে আধুনিকায়ন হবে গণপরিবহন ব্যবস্থা
শান্তিগঞ্জে গীতিকবি প্রতাপ রঞ্জন তালুকদারের প্রয়াণ দিবসে ধামাইল উৎসব
রায়গঞ্জে পুকুরে ভাসছিল বৃদ্ধের মরদেহ
Link Copied