ঢাকা রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

হরিরামপুরে দিন দিন কমছে ফসলি জমির পরিমান


আবিদ হাসান, হরিরামপুর photo আবিদ হাসান, হরিরামপুর
প্রকাশিত: ৩-৭-২০২৩ দুপুর ১:৫৩
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর একটি কৃষি সমৃদ্ধ উপজেলা। উর্বর ফসলি জমি ও বৈচিত্রপূর্ণ এক কৃষি শস্যের অপূর্ব নীলাভূমি হিসেবে পরিচিত। কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী হরিরামপুর উপজেলার মোট আয়তন ২৪৮.৯৯ বর্গ কি.মি। আবাদযোগ্য কৃষি জমির পরিমাণ ১৫১৯৪ হে. গত কয়েক বছরের ব্যবধানে জেলা এবং হরিরামপুর উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষিজমি। ফসলের মাঠজুড়ে নতুন করে গড়ে উঠছে নতুন বসতি। উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মুল্য না পাওয়ায় জমির মালিকেরা জমি ইজারা দিচ্ছে, এমনকি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকেরা। উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা,কর্মচারিদের আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এসব ফসলি জমি উদ্ধারসহ জেগে ওঠা চরে নতুন করে চাষাবাদের। হিমশিম খেতে হচ্ছে উপজেলা প্রশাসনেরও।
অপরিকল্পিত যেখানে সেখানে পুকুর খননে বিপাকে পড়ছেন আশপাশের কৃষক। এছারাও ফসলি জমি থেকে মাটি বিক্রয়, অপরিকল্পিত পুকুর খনন, নতুন খামার, জলাশয়,ফসলি জমিতে অপরিকল্পিত ড্রেজিং,ক্ষতিকারক গাছের বাগান (ইউক্যালিপ্টাস গাছের বাগান),সেচ সংকট, কীটনাশক ব্যবহার, অপরিকল্পিত কার্লভার্ট নির্মান, নদী ভাঙ্গন, অবৈধ ইটভাটা,নতুন রাস্তা নির্মাণ, বালু ব্যবসার গদি, কৃষি পন্যের দাম উর্ধগতি, ফসলের ন্যায্য মুল্যের শঙ্কা, কৃষিকাজে লোকসান,সচেতনতা প্রচারনার অভাব, কৃষিকাজের আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহারে অনিহা, সেচ কাজে বিদ্যুতের পর্যাপ্ত সংযোগ না পাওয়া, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষনের অভাব, মান সম্মত বীজের সংকট, চরাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থার অসুবিধা, ফসল সংরক্ষনাগারের অপর্যাপ্ততা, বাজার মনিটরিং নিয়ন্ত্রনের অপর্যাপ্ততাসহ বিভিন্ন অজুহাতে কমছে ফসলি জমি ও চাষাবাদ। এছারাও কিছু জায়গায় আবাসন ও বাণিজ্যিক কাজে ফসলি জমির ব্যবহারকেও দায়ী করছেন অনেকেই। এছাড়াও কৃষি জমি ক্রয় করে ফসলি জমি অনাবদী করে রাখার অভিযোগ কৃষকদের।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ফসলি জমির মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলা ১৩ টি ইউনিয়নেই ব্যক্তিগত প্রয়োজন এবং বিভিন্ন অজুহাত ও বানিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে ফসলি জমির মাঠ। রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং দালাল চক্রের মাধ্যমে ফসলি জমি ক্রয় করে অনাবাদি করে রাখাও হয়েছে বেশ কিছু জায়গায়। ফলে ফসল উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ইশাখাবাদ গ্রামের কৃষক লাল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের গ্রামে ফসলি জমি রাতের আধারে পুকুড় হয়ে যায়। এইতো সেদিন রাতের আধারে ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার সমন্বয়ে বেশ কয়েকটি ফসলি জমির মাটি কেটে অনত্র বিক্রি করে কিছু অসাধু মাটি ব্যবসায়ীরা। এরা কখনোই কৃষকের কথা চিন্তা করেনা। এরা মাটি খেকো। ওদের কোনদিন ভাল হবেনা।
 
চালা ইউনিয়নের উত্তর চাঁনপুর গ্রামের বাসিন্দা রহিম পরামানিক বলেন, আমাদের এই ইউনিয়নে ফসলি মাঠের উপর দিয়ে গত কয়েক বছর ধরে বেশ কয়েকটি নতুন সরকারি রাস্তা হয়েছে। ফসলি জমিতে বেশ কিছু জায়গা ভরাট করে বাড়িও করেছে অনেকে, আর মাটির ব্যবসায়ীরা তো আছেই। কর্মকর্তারা কেন যে ফসলি মাঠের মাঝ দিয়ে রাস্তা নিতে চায়, এটা আমরা বুঝিনা। আমাদের মত তারাও হয়তো বুঝে না বোঝার ভান করে এমনটি করছে। হয়তো তাদের লাভ আছে।
বলড়া ইউনিয়নের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক জানান, আমাদের এখানে মোট চারটি ইটভাটা আছে। শুনেছি সবগুলো অবৈধ। বর্তমানে দুইটা বন্ধ আর দুইটা চলছে দিব্যি, ইটভাটা হওয়ার আগে এই জায়গাগুলো ফসলি জমি ছিলো, আর এখন তো সেখানে ইটভাটা, একে একে আশপাশের জমির সব মাটি কেটে পুকুড় বানানো হচ্ছে, আর মাটিগুলো চলে যাচ্ছে এই ভাটায়। প্রশাসন এগুলো জানেনা বলেই চলছে হয়তো।
বয়ড়া ইউনিয়নের দড়িকান্দি গ্রামের কৃষক হাবিব জানান, আমাদের এখানে ফসলি জমিতে বেশ কয়েকটি বালুর গদি তৈরী হয়েছে, বেশ কয়েক জায়গায় ফসলি জমিতে পুকুড় কাটা হয়েছে, তাছারা পদ্মানদীতে তো ভাংছেও অনেক জমি, আর বড়লোকেরা বাড়ি করার জন্য জমিও কিনতেছে এখানে। ভবিশ্যতে এভাবে চলতে থাকলে আমাদের অভাবে মরতে হবে।
 
উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষক নাসির উদ্দিন জানান, উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন পদ্মার ওপারে চরাঞ্চলেও নদীভাঙ্গন আর নতুন রাস্তাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ফসলি জমি ব্যবহার করা হচ্ছে। এছারাও খামার,নতুন বাড়িঘড় নির্মান এবং নির্মানে ফসলি জমি ব্যবহারের কারণে কমছে ফসলি জমির পরিমান।
 
হরিরামপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জয়ন্ত পাল মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ- একটুকু জমিও অনাববাদী রাখা যাবে না, সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করে যাচ্ছি। নদী ভাঙন,জলাবদ্ধতা, অনাবাদী জমিকে আবাদযোগ্য করে তোলাসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা আমরা হাতে নিয়েছি। চারটি ইট ভাটার মধ্যে দুইটি ইটভাটায় পরিত্যাক্ত জায়গায় সরিষাসহ বিভিন্ন ফসলের সফলতা আমরা পেয়েছি, এছারাও জেগে ওঠা নতুন চরে বিভিন্ন ফসলের আবাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি আমরা। এছারাও বাড়ির আঙিনায় আদাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় ফসল চাষের জন্য উদ্বুদ্ধকরণ এবং কৃষকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তাদের উঠান বৈঠকসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি আমরা।

এমএসএম / এমএসএম

চন্দনাইশে বৈশাখী মেলা উদযাপন উপলক্ষে আয়োজক কমিটির সংবাদ সম্মেলন

বড়লেখায় ৬৮০০ জন কৃষকদের মাঝে সার ও বীজ বিতরণ

কক্সবাজারে বিজিবি’র অভিযানে ৩১ কোটি টাকার ইয়াবার চালান জব্ধ

ঝিনাইদহে হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আদমদীঘির চাঁপাপুরে ৫০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

২৮টি মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী রক্সি গ্রেপ্তার

মোহনগঞ্জে উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলার নতুন বার্তা দিলেন লুৎফুজ্জামান বাবর

মানিকগঞ্জে মাদক বিরোধী অভিযানে বাধা দেওয়ায় ইউপি সদস্যসহ গ্রেফতার ২

কাউনিয়ায় হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

তেঁতুলিয়ায় জুয়া বিরোধী অভিযানে আটক ৮, টাকার বিনিময়ে ২ জনকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ

ধামইরহাট কেজি স্কুলের শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

মাগুরা শ্রীপুরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভিযানে অংশ নিলেন "এমপি" মনোয়ার হোসেন

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে তালগাছ থেকে পড়ে একজন নিহত