বেড়েছে মানবপাচারকারী, বর্ডারে জিম্মি করে আদায় করছে মোটা অংকের টাকা
কক্সবাজারের উখিয়ায় একাধিক পয়েন্ট দিয়ে মানবপাচারকারীর সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচার করছে শিশুসহ যুবক-বৃদ্ধাদেরও। কক্সবাজারে ইয়াবা কারবারির পরে মানবপাচার চক্রের বিষয়টি বহুল আলোচিত। উখিয়ার জালিয়াপালং ও টেকনাফের একাধিক পয়েন্ট দিয়ে স্থানীয় ও রোহিঙ্গারা সাগরপথে থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার ঘটনা অহরহ। গেল বছর দেড়এক আগে এসব মানব পাচারে অসংখ্য মানুষ লিপ্ত থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোরতায় কিছুটা কমে আসছিল।
২০২৩ সালে এসে আবারো এসব মানবপাচার চক্রে জড়িত কিছু সংখ্যক মানুষের সন্ধান দেখা মিলেছে।
দৈনিক সকালের সময়' পত্রিকার প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, জালিয়াপালং ইউনিয়নের সেনাম উল্লাহ প্রকাশ বর্মায়া ছেনামের নেতৃত্বে উখিয়ার অধিকাংশ লোকজন পাচারকারী চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়েছে।
মানুষকে মালয়েশিয়ার স্বপ্ব দেখিয়ে উত্তরপুকুরিয়া ও কোটবাজার এলাকা হতে অসংখ্য কর্মজীবী মানুষকে রাতারাতি পাচার করে দিয়ে থাইল্যান্ড এর বর্ড়ারে আটকিয়ে রেখে ৪,৫০,০০০/ টাকা আদায় করে নিয়েছে সেনাম উল্লাহর সিন্ডিকেটরা। এর মধ্যে অনেকেই মাঝপথে হারিয়ে গেছে আবার কেউ বর্ডার থেকে মালয়েশিয়ার জেলহাজতে কারাভোগ করছে। এসবে জড়িত ১০/১৫ জনের একটি বিশাল সিন্ডিকেট রয়েছে। সেখানে রয়েছে কোটবাজার এলাকার সুমন নামে এক ব্যাক্তিও তিনি ইমাম হোসেন নামে এক যুবককে মালয়েশিয়া পৌছে দেয়ার কথা বলে ৪,৫০,০০০/ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে সে মালয়েশিয়ায় না ডুকার আগেই বর্ডার থেকে সেখানকার প্রশাসন আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। এ নিয়ে উখিয়া থানায় অভিযোগ ও রয়েছে। এমন ঘটনা অহরহ ঘটেছে উখিয়ার আনাচে কানাচে।
পাচার হওয়া এক যুবকের মা' প্রতিবেদককে জানায়, আমার ছেলে দেশে সিনএজি গাড়ি চালাইতো। রোজগার ও চালো ছিল। কিছু খারাপ মানুষের খপ্পরে পড়ে মোটা টাকার লোভ দেখিয়ে আমার ছেলেকে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য আগ্রহ বাড়িয়েছিল। আজ ১ মাস হয়ে যাচ্ছে আমার ছেলের কোন খোজ খবর নেই। প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি এরকম কোন মায়ের বুক যেন খালি না হয়, এসব অবৈধ মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করুন।
পরিচয় গোপন রেখে এক পাচারকারীর সাথে প্রতিবেদকের আলাপচারিতা, অবৈধভাবে নৌপথে কিভাবে মালয়েশিয়া যাওয়া হয়? কত টাকা খরচ হবে? কোন রিস্ক আছে কি না..? এমন প্রশ্নে পাচারকারী জানাই, সাগর দিয়ে নৌপযাত্রায় কোন রিস্ক নাই, ৩,৫০,০০০/ টাকা করে লাগবে এক মাথা। অর্ধেক পেমেন্ট আগে বাকি অর্ধেক বর্ডারে পোছালে। সেখানে কেউ হারিয়ে গেলে বা অন্যদেশের প্রশাসনের হাতে আটক হলে আমরা দায়ি থাকব না।
সুশীল সমাজের মন্তব্য, উখিয়ায় ব্যাপক হারে মানবপাচারকারী চক্রের সিন্ডিকেট সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন শুনা যায় কেউ না কেউ সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার ঘটনা নিয়ে দ্বন্দ্ব-বিবাদ। কেউ থানায় অভিযোগ দিচ্ছে কেউ স্থানীয় বিচার কার্যালয়ে বিচার শালিশ। কিন্তু এসবের প্রতিকার কি জানি না। তবে প্রশাসনের কঠোরতায় কিছুটা কমে আসবে বলে মনে হয়। গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি জোরদার রেখে প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে তাদের নিয়ন্ত্রণ অনেকটা সম্ভব।
ইতোমধ্যে এসব পাচারকারী দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কাজ করছে প্রশাসন। এ নিয়ে উখিয়া উপজেলা আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তাদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ইউনিয়ন পর্যায়ে চেয়ারম্যানদের প্রতি কঠোরভাবে কাজ করার আহবান জানানো হয়।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরান হোসাইন সজীব এসব মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে তথ্যদিয়ে সকলকে সহযোগীতা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি পাচারকারীদের আইনের আওতায় আনতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তাদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করার আশ্বস্ত করেন তিনি।
এমএসএম / এমএসএম
বাউফলে বিয়ের দুই মাসেই নববধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
সোহেল মঞ্জুরের উদ্যোগে সন্ধ্যা নদীতে সেতু নির্মাণে অগ্রগতি, সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনে সেতু সচিব
নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরায় খালিয়াজুরীতে একজনের কারাদণ্ড, অপরজনকে জরিমানা
বাঁশখালীতে বন্যার্তদের মাঝে হাদীর পাড়া স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ত্রাণ বিতরণ
সিংড়ায় খাতুন জান্নাত মহিলা মাদ্রাসার সূধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত
আদমদীঘি গৃহশ্রমিক ইউনিয়নের তরুনদের মাঝে ফুটবল বিতরণ
প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ফের চালু, স্থগিত চেয়ে আবেদন
বাঙ্গালহালিয়াতে টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত পোল্ট্রি ফার্মের ৫ লক্ষ টাকার মুরগী ক্ষয় ক্ষতি হলেন সাদেক র্ফাম
কুড়িগ্রামে জৈব সারের ব্যবহারে লাভবান হচ্ছে কৃষক
ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ডে যানজট নিরসনে রাস্তার উপর কাঁচাবাজার উচ্ছেদ : সাধারণ মানুষের প্রশংসা
বাঘার চকরাজাপুরে পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন: অপরাধীদের কোনো ছাড় নেই
কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করে এগিয়ে নিতে হবে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ