চট্টগ্রামে ঝুলন্ত তারের জঞ্জাল
দেশ ডিজিটাল প্রযুক্তিতে এগিয়ে গেলেও বৈদ্যুতিক লাইন, ইন্টারনেট ও ক্যাবল টিভির সংযোগ লাইন এখনও পুরোনো অবস্থায় রয়ে গেছে। সংযোগ মাথার ওপর, বৈদ্যুতিক খুঁটির ওপর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে তারের বস্তা। এতে একদিকে যেমন নগরী হারাচ্ছে সৌন্দর্য অন্যদিকে বাড়ছে ঝুঁকি, বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঘটতে পারে যেকোন সময় বড় দূর্ঘটনাও।
নগর জুড়ে এখন তারের জঞ্জাল। বিদ্যুতের খুঁটিতে জালের মতো জট পাকিয়ে আছে তার। তারগুলো কোন সংস্থার, কোন কাজের, সাধারণভাবে তা বোঝার উপায় নেই। প্রায় সময় এ তারগুলো থেকে শর্ট খেয়ে অগ্নিকান্ডের ঘটনাও ঘটে। নগরবাসীর আশঙ্কা, যেকোনো সময় শহরে বড় রকমের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রাম শহরকে তারের জঞ্জাল থেকে মুক্ত করতে বিদ্যুৎ লাইন মাটির নিচে নেওয়ার একটি সিদ্ধান্ত হয়েছিল। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। শহরের অপরিকল্পিত ও সমন্বয়হীনভাবে সম্প্রসারিত বিভিন্ন সেবা সংস্থার ঝুলন্ত তারের কারণে প্রায়ই বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটছে।
বিদ্যুতের তার থেকে অন্যান্য তার বিদ্যুতায়িত হতে পারে, যাতে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ঘটতে পারে অগ্নিদুর্ঘটনা। কিংবা অগ্নিকান্ডের ঝুঁকি রয়েছে। বহু আগে থেকেই বিটিআরসি এবং বিদ্যুৎ বিভাগ ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান (আইএসপি) ও ক্যাবল অপারেটরস প্রতিষ্ঠানকে (কোয়াব) মাটির নিচ দিয়ে সংযোগ নেওয়ার নির্দেশ দিলেও তাতে কোনো কাজ হয়নি।
প্রতিষ্ঠান দুটিকে সংযোগ ক্যাবল সরিয়ে নেওয়ার জন্য ধারাবাহিকভাবে আলটিমেটাম দিলেও তার কোনো সুফল মেলেনি। ওই দুই প্রতিষ্ঠানের মতো চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনও ব্যর্থ। মাঝে মাঝে করপোরেশন অভিযান চালিয়ে তার কেটে দিলেও, তার স্থায়িত্ব মাত্র কয়েক ঘন্টা থাকে। তার কেটে দেওয়ার পরপরই তা আবার মাথার ওপর লাগিয়ে দেওয়া হয়। এই তার কাটা এবং লাগানো নিয়ে এক ধরনের ইঁদুর-বেড়াল খেলা চলছে। তারের জঞ্জাল আর সরছে না।
এটা বিটিআরসি, বিদ্যুৎ বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের চরম ব্যর্থতা বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। এর মধ্যে পরিবেশ দূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এসব সমস্যার মধ্যে নগরীর সৌন্দর্যহানির অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে ইন্টারনেট ও ক্যাবল টিভির তারের জঞ্জাল।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, চট্টগ্রাম নগরে সবচেয়ে বেশি তারের জঞ্জাল চোখে পড়ে নিউ মার্কেট মোড়, তামাকুন্ডি লাইন, আন্দরকিল্লা, চেরাগি পাহাড়, টেরিবাজার, জামালখান, চকবাজার, বহদ্দরহাট, আগ্রাবাদ, ষোলশহর, কাজীর দেউড়ি, ষোলশহর, মুহাম্মদনগর, বাদুরতলা, ষ্টেশন রোড়, মুরাদপুর, হালিশহর বড়পুল, চৌমহনী, পতেঙ্গা ষ্ট্রিল মিলস, বন্দর, বারেক বিল্ডিং, দেওয়ানহাট, দিদার মার্কেট, পাহাড়তলী, আগ্রাবাদ কমার্স কলেজ এলাকা, সদরঘাট, জিইসি মোড়, ষোলশহর দুই নম্বর গেইটসহ গুরুত্বপূর্ণ সব কটি এলাকার সড়কের পাশে থাকা বিদ্যুতের খুঁটিতে।
অথচ মূল সড়ক ও আশে-পাশের অভ্যন্তরীণ সড়কের পাশে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বাণিজ্যিক সংস্থার অফিস রয়েছে। সড়কের বিদ্যুতের খুঁটির মাধ্যমে এসব অফিসে ইন্টারনেট লাইন, ক্যাবল লাইন, টেলিফোন সংযোগের তার টানা হয়েছে। আর অলিগলিতে ইন্টারনেটের তারের সঙ্গে আছে ক্যাবল সংযোগের তার। ব্যস্ত এলাকাগুলোয় জালের মতো ঝুলানো অসংখ্য তার ও তারের কয়েল।
নিউ মার্কেট ও শাহ আমানত মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী আরফিন ও ইকবাল বলেন, দোকানের সামনে প্রায় সময় ডিশ লাইন, ইন্টারনেটের লাইনের তার ঝুলে থাকে। কারও চোখে-মুখে লাগে। অনেক সময় মাটিতে পড়ে থাকে। কারও পায়ে লাগে। এক অস্বস্থিতে আছি। খুঁটিতে কয়েকশত বিশৃঙ্খল অবস্থায় তার। দেখতেও অসুন্দর লাগে। তারগুলো শৃঙ্খলার মধ্যে আনা দরকার।
আগষ্ট মাসে কাজীর দেউড়ি এলাকায় বৈদ্যুতিক খুটি থেকে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। এতে এ্যাপোলো শপিং কমপ্লেক্সসহ আশপাশের মার্কেটে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। চলতি মাসে আন্দরকিল্লাহ মোড়ে বৈদ্যুতিক লাইন থেকে আগুন ধরে যায়। প্রতিদিন নগরের কোন না কোন জায়গায় এভাবে আগুনের ঘটনা ঘটছে। ফলে যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
ডিশের ফিড লাইন টেকনিশিয়ান জয়নাল বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব বা নির্দিষ্ট খুঁটি নেই, তাই বাধ্য হয়ে বিদ্যুতের খুঁটিতে আমাদের কেবল স্থাপন করতে হয়। যদিও এভাবে ব্যবহার করা ঠিক না, তারপরও আমাদের করতে হচ্ছে।’ কিন্তু ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘বিদ্যুতের প্রতিটি পিলারে অতিরিক্ত তারে জঞ্জালের সৃষ্টি হয়েছে। একসঙ্গে এতগুলো লাইন থাকায় আবর্জনার মতো লাগে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের উচিত এই তারের জঞ্জাল কমানো।’
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রামের প্রধান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে তারের জঞ্জাল কমানো। সে অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় দরকার।’
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ‘এর স্থায়ী সমাধান করতে হলে বিচ্ছিন্নভাবে তার না কেটে নির্দিষ্ট এলাকা বেছে নিয়ে মাটির নিচ দিয়ে তার প্রতিস্থাপন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। এভাবে ধাপে ধাপে এলাকাভিত্তিক ঝুলন্ত তার মাটির অভ্যন্তরে নিতে হবে। উন্নত বিশ্বের কোনো নগরীতেই মাথার ওপর তারের জঞ্জাল ঝুলতে দেখা যায় না। আমাদেরকেও মাথার ওপর ঝুলন্ত তার সরিয়ে মাটির নিচ দিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
এমএসএম / এমএসএম
হাতিয়ায় অস্ত্র দিয়ে ছাত্র দল নেতাকে ফাঁসানোর প্রতিবাদে কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত
বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের আপিল ঘিরে বিতর্ক, ভাইরাল অডিওতে তোলপাড় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪
বোয়ালমারীতে ইউনাইটেড আরব আমিরাতের ত্রাণ ও কম্বল বিতরণ
দিয়ামনি ই কমিউনিকশনের আয়োজনে সাভারে স্টল ফ্রী মেলায় স্থান পেলো ২৫ জন উদ্যোক্তা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জামিরুল ইসলাম জামু গ্রেফতার
সরিষার হলুদে রঙিন ত্রিশাল : বাম্পার ফলনের আশা
গোপালগঞ্জে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পূর্ণ প্রস্তুতি
নাঙ্গলকোটে দু'জনকে গুলি করে হত্যা
মনপুরায় প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে আসা তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ
কুড়িগ্রামে এলপিজি সংকটে দাম দ্বিগুণ, তবু মিলছে না গ্যাস
কালো ধোঁয়ার দখলে রায়গঞ্জ, ঝুটে পুড়ছে চাতাল
কুমিল্লার মুরাদনগরে হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার
সিডিএ’র নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ
Link Copied