ঢাকা শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬

কয়রা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বেড়েছে সেবার মান,লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া


সম্রাট, কয়রা photo সম্রাট, কয়রা
প্রকাশিত: ১৩-৯-২০২৩ দুপুর ৪:১৩

অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ,অগোছালো, অপ্রতুল বেড সংখ্যা, রোগীর পেতে পেতে ভোগান্তি, জলাবদ্ধতা, বিশুদ্ধ পানির অভাব এমনই অবস্থা ছিল কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। একসময়ের জীর্ণশীর্ণ এ হাসপাতালে লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। সরকারের নানা উদ্যোগ দক্ষ ব্যবস্থাপনায় বদলে গেছে হাসপাতালটির রূপ। উন্নত সেবা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আস্থা ফিরেছে রোগীদের মাঝে। রোগী ও স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে আশার আলো। প্রয়োজনীয় জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও এখানকার চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সমন্বয় করে দক্ষতার সঙ্গে নানা সংকট মোকাবিলার মাধ্যমে কয়রায়  স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে চলেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেজাউল করিম ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ, আন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সৌন্দর্যবর্ধন সার্বিক কার্যক্রম তদারকির মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতের ইতিহাসে এক অনন্য সুন্দর সফলতা বলে আখ্যা দিচ্ছেন স্থানীয়রা।স্থানীয়রা জানান, আগে পুরো হাসপাতাল কালো কাপড়ের পর্দা দিয়ে ঘেরা ছিল যা এখন সম্পূর্ণ থাই গ্লাস করা হয়েছে যার ফলে এই বর্ষায় বৃষ্টির পানিতে রোগীর ভোগান্তি লাঘব হয়েছে।আসছে শীতকালেও রোগীরা এর সুফল পাবেন।সুদৃশ্য ডেকোরেশন,আধুনিক যন্ত্রপাতি আর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত জরুরী বিভাগের মনোরম পরিবেশে সেবা পেয়ে রোগীরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কঠিন পরিশ্রমে এ উন্নয়নের নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবুর  আন্তরিকতা।   হাসপাতালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ভর্তি, জরুরী ও বহিঃবিভাগে প্রতি মাসে  চিকিৎসা নেয়া রোগী ছিল ৩৫০০-৪০০০ হাজার। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮-১০ হাজার। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মান বৃদ্ধির কারণে ২০২১ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বাগান, বিনামূল্যে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহের কারণে সরকারি এ হাসপাতাল সম্পর্কে মানুষের আস্থা বেড়েছে। তারপরও রয়ে গেছে অনেক সমস্যা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে এনসিডি কর্নার নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হয়েছে। এখানে ডাইবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি রোগীদের বিশেষ সেবা দেয়া হয়। রয়েছে ছোট বাচ্চাদের দুগ্ধ পান করার জন্য ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার। বহির্বিভাগে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা সেবা চালু আছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সিজারিয়ান অপারেশন চালু করা হয়েছে। এছাড়া রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের জন্য নতুন এম্বুলেন্স ও অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিতের জন্য সেন্ট্রাল অক্সিজেন স্থাপন কাজ চলছে। আমাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল  বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবকাঠামো উন্নয়নসহ সেবার মান বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন স্থান থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের আস্থা ফিরেছে। তবে চিকিৎসক সংকট এবং যন্ত্রপাতি, আয়া, ওয়ার্ডবয়সহ জনবল সংকটের কারণে রোগীরা আশানুরূপ চিকিৎসাসেবা গ্রহণে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে দক্ষিণ বেদকাশী  থেকে আসা মোমেনা  বেগম বলেন, এক সময় নিয়মিত চিকিৎসক ও ওষুধ পাওয়া যেত না। এখন পর্যাপ্ত চিকিৎসক রয়েছেন, আমরাও আধুনিক ও উন্নত সেবা পাচ্ছি। বিনামূল্যে ওষুধও দিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। উপজেলার মহারাজপুর  থেকে হাসপাতালে মাকে ভর্তি করেছিলেন গোলাম রসূল । তিনি বলেন, ৩ দিন আগে মাকে ভর্তি করেছিলাম। এখানকার চিকিৎসক ও নার্সরা অনেক আন্তরিক। হাসপাতাল থেকে ওষুধ খাবার  দেয়াসহ নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছে। হাসপাতালের ভেতরের পরিবেশটাও এখন অনেক সুন্দর। সেবা নিতে আসা এক রোগী মোছা. জোহরা খাতুন  জানান, আগের তুলনায় হাসপাতালটির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। উপজেলার গোবরা গ্রামের বাসিন্দা আলামিন ইসলাম বলেন, ডাঃ রেজাউল করিম আশার পর  হাসপাতালটি খুব সুন্দর করে সাজিয়েছেন। প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকলেও তিনি ও অন্যান্য চিকিৎসকরা যে কষ্ট করেন তা প্রশংসনীয়। কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল করিম বলেন, হাসপাতালটিতে সেবার মান বাড়াতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  বেশ কিছু কাজ ইতোমধ্যে শেষ করেছি। আরো সংস্কারের কাজ অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই শুরু হবে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিতরের ও বাইরের  সার্বিক উন্নয়ন করা সহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওতায় ইউনিয়ন পর্যায়ে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের জন্য সকলের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে চেষ্টা করছি। তিনি আরও জানান খুলনা-৬  আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব  মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু মহোদয়ের এর অনুপ্রেরণা,সহযোগিতা ও দিক-নির্দেশনায় এই পুরো কার্যক্রমটি হয়েছে আরও বেগবান। হাসপাতালের চলমান নতুন ভবনের কাজটি শেষ হলে ভোগান্তি আরও লাঘব হবে।

এমএসএম / এমএসএম

চার দিনের সরকারি সফরে নিজ জেলা পাবনায় পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি

১২টি গ্রামের হাজার হাজার জনগনের দুর্ভোগ চরমে

অন্তঃসত্ত্বার পেটে লাথি, মৃত সন্তান প্রসব

ঢাকা ফেরা মানুষের ভিড় মহাখালীতে

জনদুর্ভোগ লাঘবে ভবদহে খাল পুনঃখনন শুরু করলেন -প্রতিমন্ত্রী অমিত ইসলাম

তানোরের প্রতিটি আম গাছে আমে ভরপুর

তানোরে ওসি মাসুদ পারভেজের তৎপরতায় আইনশৃঙ্খলার উন্নতি

গ্যাস-তেল মজুদে জরিমানা

‎‎কুতুবদিয়ায় শতবর্ষী বৃদ্ধের ইচ্ছা পূরণে চেয়ারম্যানের ব্যতিক্রমী আয়োজন

নাগরপুরে ট্রাক্টরের চাপায় ৮ বছরের শিশুর মৃত্যু

ধুনটে আল খিদমাহ কওমী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রথম কমিটি ঘোষণা

তারাগঞ্জে এমপি আজহারুলকে গণসংবর্ধনা

হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: চেয়ারম্যান পদে আলোচনার শীর্ষে ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল ইসলাম শিপন