খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছি- তৈরী হবে হাজারিগুড়
সকালের শিশির ভেজা ঘাস ও কুয়াশা জানান দিচ্ছে শীত এসে গেছে। সেই বার্তা পেয়ে খেজুর গাছ প্রস্তুতে কাজ শুরু করে দিয়েছেন মানিকগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার গাছিরা। কিছু কিছু এলাকায় খেজুরগাছ প্রস্তুতের পর রস সংগ্রহ করতে দেখাগেছে গাছিদের। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য সুস্বাদু খেজুর রস প্রায় সবারই পছন্দ।
খেজুরের রস ও পিঠা না হলে শীত জমে না। শীতের আবহে সবকিছুই যেন বদলাতে শুরু করেছে। হাতে দা, বাটাল, নিয়ে ও কোমরে দড়ি বেঁধে নিপুণ হাতে গাছ চাঁচা-ছোলা ও নলি বসানোর কাজ করছেন গাছিরা। চলছে গাছে বাঁধানো হাঁড়ি। আগামী আড়াইমাস চলবে রস সংগ্রহের কাজ। সেই রস থেকেই নির্দিষ্ট কিছু সময়ে আদি বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরী হবে হাজারীগুড়। পাটালি,ঝোলাসহ গ্রামে বিভিন্ন নামে পরিচিত গুড়ও তৈরী হবে।
মানিকগঞ্জের অনেক এলাকায় এখনো গাছিরা তাদের আগের পেশা ধরে রেখে খেজুর রস সংগ্রহ করেন। তবে তা আগের তুলনায় একেবারেই নামমাত্র বলা চলে। এরই ধারাবাহিকতায় এখন রস সংগ্রহের প্রস্তুতিতে খেজুর গাছ পরির্চযা বা চাচাইয়ের কাজেই ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।বিশেষ করে হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকার খেঁজুর গাছ ও হাজারী গুড় আমাদের দেশের এক বিশাল কৃষিভিত্তিক লোকায়ত সম্পদ। ব্রিটিশ শাসনামলে এই গুড়ের সুনাম এশিয়া থেকে ইউরোপ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। এখনো এই গুড়ের কদর দেশ বিদেশে রয়েছে।উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, রস সংগ্রহের জন্য খেজুর গাছগুলোকে প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা।
ঝিটকা কলাহাটা গ্রামের গাছি মো. মোস্তফা জানান, অনেক বছর আগে থেকেই আমি খেজুর গাছ ঝোড়া ও গুড় তৈরীর কাজ করি। আরোও ১০ থেকে ১৫ দিন পরে রস এবং গুড় পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, খেজুর গাছের সংখ্যা এখন কমে যাওয়ায় রস ও গুড়ের দাম বেশি। কিন্তু এরপর চাহিদা আছে।
ঝিটকা শিকদারপাড়া গ্রামের গাছি মো. মিজান খন্দকার জানান, "কৃষিকাজ কাজের ফাঁকে শীত মৌসুমে খেজুর গাছ কাটি। প্রতি বছরই আমরা গুড় বানাই। তবে আগের মতো এখন আর গাছ নাই। রসও তেমন হয় না। নিজস্ব গাছ কম থাকায় বিভিন্ন জনের কাছ থেকে এক সিজনে গাছ প্রতি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা করে কিনে নিয়ে কাটি। লাল গুড়ের পাশাপাশি হাজারি গুড় বানাই। এ বছর শতাধিক গাছ প্রস্তুত করেছি। ৫ দিন পর থেকেই রস নামতে পারে।"
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, ‘কালের বিবর্তনে আমাদের দেশের খেজুর গাছগুলো অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। সরকারি-বেসরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে বেশি বেশি খেঁজুর গাছ রোপণ করে এর চাষ বাড়ানো প্রয়োজন। এজন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই খেজুরের গুড়ের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে এবং গাছিরাও লাভবান হবে।’ উপজেলা কৃষি অফিস এ বিষয়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহণ করছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহরিয়ার রহমান বলেন, ‘মানিকগঞ্জের ঐতিহ্য হাজারী গুড়। এই গুড় মানিজগঞ্জ জেলার একটি ব্র্যান্ড। কিন্তু কিছু অসাধু গাছিরা বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে ভেজাল গুড় তৈরি করছে। যা সুস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিবছরই ভেজাল রোধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ বছরও ভেজালরোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
এমএসএম / এমএসএম
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন রাষ্ট্রপতির ছোটভাই মির্জা ফয়সল আমীন
ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে আদমদীঘির চাঁপাপুর ইউপির চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিটলুর কর্মী সমাবেশ
হাটহাজারী ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিছন্নতা অভিযান বাস্তবায়ন লক্ষ্যে পর্যায়লোচনা সভা
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শ্রমিক ফেডারেশনের বিক্ষোভ
মিরপুর মাহমুদা চৌধুরী কলেজে একাদশ ও স্নাতক শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
মাদারীপুরে দেশীয় অস্ত্রসহ কিশোর আটক
পটুয়াখালীর বাউফলে হত্যা মামলার রায়ে স্বামী-স্ত্রী দন্ডিত
ঘোড়াঘাটে স্বামীকে ফিরে পেতে স্ত্রী-সন্তানের সংবাদ সম্মেলন
নোয়াখালীতে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর মতবিনিময় সভায় জনস্রোত
ডিজিটাল প্রযুক্তি ও এআই কাজে লাগিয়ে চাঁদপুরের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরার আহ্বান
সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই মহাসড়কের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
লামায় জুমের জমিতে হাত-পা বাঁধা ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার: এলাকায় চাঞ্চল্য
কুষ্টিয়ায় বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা
Link Copied