পৃথিবীর সেরা মা আমার মা
পৃথিবীর সকল মা সেরা মা। এক মায়ের সাথে আরেক মায়ের কোন তুলনা করতে হয় না। তবুও বলতে ইচ্ছে হয় পৃথিবীর সেরা মা আমার মা। চরম ধর্মীয় গোড়ামী পরিবারের মধ্যে থেকে তৃতীয় শ্রেণী পাশ মা আমাদের চার ভাই বোন কে বিশ^বিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রী লাভ করাতে সক্ষম হয়েছেন। ছোট বেলায় বাড়ী থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দুরে নানা বাড়ীর গ্রামের প্রাইমারীতে আমি এবং হাইস্কুলে আমার বড় বোন পড়তাম। মাওলানা সাহেবের নাতী নাতনী এবং মাওলানা সাহেবের ছেলে মেয়ে হিসেবে সেখানে লেখা পড়া করার কারনে আমাদের নানা বাড়ীর এবং পাশের গ্রামের ফুফু বাড়ীর লোকজনের দোজখের যাওয়ার সম্ভাবনার ভয়ে আমাদেরকে বাধ্য করেন স্কুল পরিবর্তন করতে। মায়ের অদম্য ইচ্ছায় গ্রাম ছেড়ে আমাদেরকে ভর্তি করানো হয় শহরের পিটিআই এবং সরকারী গার্লস হাইস্কুলে। গ্রামের কৃষক পরিবারে বেড়ে উঠা বাবা আমার একটি বেসরকারী মাদ্রাসার সুপারেনটেনডেন্ট হিসেবে কতই বা বেতন পেতেন। মা প্রতি সাপ্তাহে গ্রাম থেকে চাউল তরিতরকারী নিয়ে নিজে শহরে আসতেন অথবা কেউ শহরে আসলে তাদেরকে অনুরোধ করে তাদের কাছে দিতেন। আর্থিক অনাটনে একসময়ে ফিরে যায় গ্রামে। গ্রাম থেকে দশ কিলোমিটার দুরের হাইস্কুলে ভর্তি হয় দুই ভাই বোন। মায়ের ইচ্ছা ছিলো আমরা ডাক্তার হবো। বাবা প্রতিদিন বাবার মাদ্রাসায় যাওয়ার সময় আমাদের দুই ভাই বোনকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে যেতেন আবার আসার সময় নিয়ে আসতেন। ছোট বোন তখন গ্রাম থেকে দুই কিলোমিটার দুরের নদীর ওপারের একটা গার্লস স্কুলে এবং ছোট ভাই পনের কিলোমিটার দুরের বাবার মাদ্রাসায় নিজে সাইকেল চালিয়ে প্রাথমিকে পড়ালেখা করতো। কৃষক পরিবারের সকল গৃহস্থলি কাজ সামলিয়ে মা আমাদেরকে ঠিক সময়ে স্কুলে যাওয়ার জন্য রেডি করে দিতেন এবং সন্ধ্যার পর ক্লান্ত শরীর নিয়ে হারিকেনের আলোয় আমাদের চার ভাই বোন কে পড়তে বসাতেন। তৃতীয় শ্রেণী পাশ মা আমার নবম দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া আমাদেরকে পড়ানোর চেষ্ঠা করতেন। মায়ের অদম্য ইচ্ছায় দুই চার ইউনিয়নের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম নারী শিক্ষার্থী হিসেবে বড় বোন এসএসসি পাশ করেন। পরবর্তীতে আমি স্টার মার্ক সহ আমি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পাশ করি। পর্যায়ক্রমে সকলে ভালো ফলাফল করে আজ বড় বোন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, আমি জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার, ছোট বোন মাস্টার্স শেষ করে গৃহিনী এবং ছোট ভাই জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার। আমাদের এই সফলতার জন্য আমার মা কে যে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে ইতিহাসে তা বিরল হয়ে থাকবে। ধর্মীয় পরিবারে জন্ম নিয়ে আরবী শিক্ষায় শিক্ষা লাভ না করে সাধারণ শিক্ষার জন্য স্কুল কলেজ বিশ^বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করার কারনে আমরা দাদা বাড়ী, নানা বাড়ী, ফুফু বাড়ী সহ প্রায় সকল আত্মীয় স্বজনদের থেকে ঘোষিত এবং অঘোষিত দুই প্রকারেই নিষিদ্ধ হয়েছিলাম। আমাদের শিশু কিশোরকাল বা মায়ের যৌবণকালে আমরা একপ্রকার গৃহবন্ধী হয়ে কাটিয়েছি আত্মীয় স্বজনের কটু কথা শোনার ভয়ে। ছোটবেলায় দেখতাম সকল মায়েরা তাদের সন্তান নিয়ে বাবার বাড়ীতে যেতেন কিন্তু আমার মা যেতে পারতেন না। আমাদেরকে মানুষ করতে গিয়ে মা তাঁর জীবনে বাবা মা ভাই বোন সহ সকল আত্মীয় স্বজনের আদর স্নেহ ভালবাসা আর্শীবাদ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি থেকে শুরু করে বিশ^বিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কিম্বা চাকুরিতে যোগদানের দিন পর্যন্ত মা আমাদের সাথে থেকেছেন। মা মনে করেন এখনো আমরা ছোট আছি। মা মা মুরগির মতো নিজের পাখনার নিচে আমাদেরকে নিরাপদে রাখতে চান তাইতো এখনো প্রতিদিন কমপক্ষে একবার করে সকলের সাথে ভিডিও কলে কথা বলে সাহস যোগান এবং পাশে থাকার কথা বলেন। ২০১৭ সালে আজাদ প্রডাক্ট আয়োজিত রত্নগর্ভা এওয়ার্ড পেয়ে মা আমার ফুঁফিয়ে ফুঁফিয়ে কেদেছিলেন এবং বলেছিলেন আজ চোখের জলে আমার জীবনের সকল দুঃখ কষ্ট দুর হয়ে গেলো কারন আজ আমি আমার কষ্টের স্বীকৃতি পেয়েছি। সারা জীবন আমাদের জন্য জীবন উৎসর্গ করে চলা মা বিগত দশ বছর যাবত পক্ষাঘাতগ্রস্ত আমার বাবাকে নিরলস সেবা করে যাচ্ছেন। তাইতো চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করে পৃথিবীর সেরা মা আমার মা। পৃথিবীর সকল মায়েরা ভালো থাকুক কারন পৃথিবীর সকল মায়েরাই সেরা মা।
মোঃ হেদায়েত উল্লাহ তুর্কী
নাট্যঅভিনেতা, নাট্যনির্মাতা, নাট্যরচয়িতা
ডেপুটি রেজিস্ট্রার, জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়।
০১৭১১-১০৯৯৬২
এমএসএম / এমএসএম
ডা. জুবাইদা রহমানের সফট পাওয়ার কূটনীতির উত্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত!
ঈদ জামাতের সময় মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন-মিসাইল সতর্কতা; মুসল্লিদের মধ্যে উদ্বেগ ও বিস্ময়!
প্রধানমন্ত্রীর ২৮ দিনে ২৮ পদক্ষেপ: দ্রুত বাস্তবায়নে নতুন দৃষ্টান্ত, সুশাসনে জোর!
নীরব কৌশলের রাজনীতি: রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে তারেক রহমানের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক দূরদর্শিতা
ঈদ-উল-ফিতর সৌহার্দ্য ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল
লাইলাতুল কদরের ইবাদত: বান্দার গুনাহ মাফের জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে আত্মসমর্পণ অপরিহার্য!
আল-কুরআন বিজ্ঞান ও রমজান
ঈদযাত্রা আনন্দময় ও নিরাপদ হোক
ঈদের প্রহর গুনছে দেশ, পে-স্কেলহীন বাস্তবতায় তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির সরকারি কর্মচারীদের আনন্দ কতটুকু?
গণতান্ত্রিক সংস্কার ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠন বড় চ্যালেঞ্জ
হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা: ২.৮ ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক বাণিজ্য ঝুঁকিতে, বাংলাদেশের সামনে নতুন সতর্কবার্তা
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব