ঢাকা শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬

গণতান্ত্রিক সংস্কার ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠন বড় চ্যালেঞ্জ


রায়হান আহমেদ তপাদার  photo রায়হান আহমেদ তপাদার
প্রকাশিত: ১৪-৩-২০২৬ দুপুর ১১:৩

দারিদ্র্য ও বৈষম্য থেকে ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার আসন্ন নির্বাচিত সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমদানির সাম্প্রতিক বৃদ্ধি ইঙ্গিত দেয় যে, অর্থনীতি আবার গতি ফিরে পেতে শুরু করেছে। মুদ্রাস্ফীতিকে আরও ভালো ভাবে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা অপরিহার্য।কিছুটা নিয়ন্ত্রণ সত্ত্বেও,মুদ্রাস্ফীতি ৮ শতাংশের উপরে রয়েছে। এটি নাগরিকদের ক্রয়ক্ষমতা কমাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হলো পণ্যমূল্য যে হারে বেড়েছে, তার তুলনায় অনেক কম হারে মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে।বিনিয়োগ সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তুতন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল এবং রাতারাতি পুনরুজ্জীবিত করা যায় না। বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করার জন্য কঠোর মুদ্রানীতি মাঝারিভাবে শিথিল করা উচিত। যদিও সরকার কঠোর নীতি বজায় রাখার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করছে না, তবুও এ ধরনের অবস্থান কতদিন টিকিয়ে রাখা সম্ভব তা বিবেচ্য বিষয়। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোকে আর্থিক এবং আর্থিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে।তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা অপরিহার্য।অতীতে শ্রম-নিবিড় পোশাক এবং অন্যান্য পণ্যে তুলনামূলক সুবিধার মাধ্যমে চালিত প্রতিযোগিতামূলক সুবিধার ভিত্তিতে মার্কিন-বাংলাদেশ বাণিজ্য নির্ধারিত হতো। নতুন পারস্পরিক শুল্ক ব্যবস্থায় এখন সেই নীতি লঙ্ঘিত হচ্ছে, যা আপেক্ষিক তুলনামূলক সুবিধার পরিবর্তে আপেক্ষিক শুল্ক সুবিধার কথা বলে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে অত্যন্ত জটিল অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, রুগ্ন বেসরকারি খাত, দুর্বল রাজস্ব আয় এবং প্রায় ২৩ লাখ কোটি টাকার ঋণের চাপ তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সীমিত সম্পদ ও বিপুল জনপ্রত্যাশার মধ্যে সরকার কঠিন পথচলা শুরু করেছে।
এমন পরিস্থিতিতে নতুন সরকারের প্রথম ধপার কর্মসূচি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ভিত্তি স্থাপন করতে পারে। এই সময়ের পদক্ষেপগুলো যদি বাস্তবভিত্তিক, অগ্রাধিকার নির্ধারিত এবং সাহসী হয়, তবে সেটিই হতে পারে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তোলার সুযোগ। বিভিন্ন দেশের নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসের অগ্রাধিকার দেখলে বোঝা যায়, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জনকল্যাণ এবং সংস্কারই প্রধান ফোকাস। যেমন, যুক্তরাজ্যের ঋষি সুনাক সরকারের প্রথম ছয় মাসে অগ্রাধিকার ছিল মূল্যস্ফীতি অর্ধেক করা, অর্থনীতি বৃদ্ধি, ঋণ কমানো, স্বাস্থ্যসেবা অপেক্ষার তালিকা হ্রাস এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ। সাম্প্রতিক লেবার সরকারের মাইলস্টোনগুলোতে অর্থনীতি বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, নিরাপত্তা, সুযোগ সৃষ্টি এবং পরিচ্ছন্ন শক্তি অর্জন অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে ১.৫ মিলিয়ন বাড়ি নির্মাণ এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন।ইন্দোনেশিয়ায় প্রাবোও সুবিয়ান্তোর নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অগ্রাধিকার ছিল খাদ্য নিরাপত্তা, শক্তি নিরাপত্তা, বিনামূল্যে পুষ্টিকর খাবার, মানসম্পন্ন শিক্ষা-স্বাস্থ্য, জনগণের অর্থনীতি, দুর্নীতি নির্মূল এবং সামাজিক সুরক্ষা। নিউজিল্যান্ডে ন্যাশনাল পার্টির নতুন সরকার ব্যয় কমানো এবং বাজেট সঞ্চয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছে, যখন কানাডায় বাজেট কাটছাঁট এবং পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশন ফোকাসে। এসব বিষয়ে দেখা যায়, নতুন সরকারগুলো সাধারণত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, জনকল্যাণমুখী সংস্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতায় জোর দেয়। বাংলাদেশে সরকার গঠনের প্রথম দিনেই মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করে দিয়েছেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রথম ছয় মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্যে বিএনপি সরকারের দায়িত্ব নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আগের সরকারের সময়কালের দুর্নীতি-দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো আর অবনতিশীল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে'। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি, নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে তার সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।গত কয়েক বছরের অর্থনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে ইউনূস সরকারের সময়ে ঋণ বেড়েছে এবং উন্নয়ন ব্যয় সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। বর্তমানে সরকারি আয়ের এক-পঞ্চমাংশ শুধু ঋণের সুদ পরিশোধেই ব্যয় হচ্ছে। ফলে উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য সরকারের হাতে কম অর্থ থাকছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে দেশের মোট রাজস্ব আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে, কিন্তু অর্থনীতির বর্তমান দুরবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাব, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আয় কমে যাওয়া ও কর্মসংস্থান সংকোচনের কারণে রাজস্ব আদায়ে বড় ধাক্কা লেগেছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রথম ছয় মাসের পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার দিতে হবে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের আস্থা ফেরানো, বড় অঙ্কের বিনিয়োগ আকর্ষণ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়ক নীতি গ্রহণ, পাশাপাশি মানুষের আয় বাড়াতে কর্মসংস্থানমুখী উদ্যোগ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দিকে। অন্যদিকে বেসরকারি খাতের চিত্র অত্যন্ত শঙ্কাজনক। দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে জিডিপির ২২-২৩ শতাংশের মধ্যেই আটকে আছে। কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে, যেখানে ভারতে তা প্রায় ১২ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ১০ শতাংশ। মৌলিক সেবা টেকসইভাবে চালাতে এই অনুপাত অন্তত ১৫ শতাংশ হওয়া দরকার। 
দেশের বর্তমান জনমিতিক কাঠামোতে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা তরুণ জনগোষ্ঠীর যে আধিক্য রয়েছে, তাকে কাজে লাগাতে কর্মসংস্থানের কোনো বিকল্প নেই। দেশে বছরে গড়ে ১০ থেকে ১২ লাখ মানুষের অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থান হয় এবং প্রায় ছয় লাখ মানুষ বিদেশে যায়। 
কিন্তু আমাদের শ্রমবাজারে প্রতিবছর যে পরিমাণ নতুন মুখ যুক্ত হচ্ছে, তার তুলনায় এই সংখ্যা অপর্যাপ্ত।
কর্মসংস্থানের মূল উৎস হলো বেসরকারি খাত ও বিনিয়োগ। কিন্তু দেড় বছর ধরে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের আত্মবিশ্বাস তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। বিনিয়োগের এই স্থবিরতা কাটাতে হলে সরকারকে দ্রুত কিছু সাহসী সংস্কার ও নীতি সহায়তা দিতে হবে। বেসরকারি খাতে গতি আনতে নিয়মিত সংলাপ জরুরি। উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অনেক রাষ্ট্রপ্রধান ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত বসে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করেন, তাঁদের পরামর্শ শোনেন। নতুন সরকারেরও উচিত হবে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে তাঁদের সমস্যা সরাসরি শোনা এবং দ্রুত সমাধান দেওয়া। বিনিয়োগ বাড়াতে হলে উদ্যোক্তাদের মনে আস্থা ফেরানো জরুরি।সার্বিকভাবে নতুন সরকারের সামনে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের কঠিন কাজ। সাহসী সংস্কার; যেমন: ট্যাক্স রিফর্ম, ব্যাংকিং গভর্ন্যান্স শক্তিশালীকরণ এবং প্রাইভেট সেক্টরের সঙ্গে পার্টনারশিপ ছাড়া এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা সম্ভব নয়। যদি প্রথম ছয় মাস এদিকে ফোকাস করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরায় গতিশীল হতে পারে। অন্যথায় উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং ঋণের চাপ জনগণের দুর্ভোগ বাড়াবে। এই কারণেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। কারণ আমরা ভবিষ্যতে যেকোনো লুণ্ঠন থেকে আমাদের আর্থিক সম্পদ রক্ষা করতে চাই। 
নতুন বিনিয়োগ ছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব নয়। স্থানীয় ব্যাংকগুলোর অনেক লেটার অফ ক্রেডিট (এলসি) বিদেশে প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে, যা আমদানি খরচ বাড়াচ্ছে। এই খরচগুলো শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। এখন সময় এসেছে নতুন সরকারের সাহসী সিদ্ধান্তের। বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের প্রধান রপ্তানি বাজার। আঞ্চলিক বাণিজ্যে ভারত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে বড় অবকাঠামো নির্মাণে চীনের ভূমিকা আছে। এলডিসি-পরবর্তী সময়ে নতুন বাণিজ্যচুক্তি ও বাজার বহুমুখীকরণ অপরিহার্য। বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল ব্যাংক খাত, নিম্ন রাজস্ব ও অপ্রতুল কর্মসংস্থানের চাপে আছে। প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি ও রিজার্ভের উন্নতিতে কিছু সম্ভাবনার সংকেত দেখা যাচ্ছে। তবে অর্থনৈতিক ম্যান্ডেটের জন্য দৃশ্যমান সংস্কার ও কার্যকর নীতি দরকার। এসব কারণে ২০২৬ সাল নতুন সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়,বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির ধারা শক্তিশালী ও স্থিতিশীল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয় ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হতে হলে বাংলাদেশে প্রচুর বিনিয়োগ হতে হবে, প্রয়োজনীয় জনবল থাকতে হবে এবং আর্থিক খাত, ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ ও অবকাঠামো শূন্যতা পূরণের মতো খাতগুলোতে উদ্ভাবনী সংস্কার করতে হবে। দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত ও একটি টেকসই উন্নয়নের জন্য সুশাসনের বিকল্প নেই। সে ক্ষেত্রে অতিমাত্রায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, স্ব^জনপ্রীতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। দেশি-বিদেশি গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশের সুশাসনের বড় বাধা হচ্ছে দুর্নীতি। দেশের উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হবে, যখন এর সুবিধা দেশের প্রান্তিক থেকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে।
লেখক: গবেষক ও কলাম লেখক, যুক্তরাজ্য 

Aminur / Aminur

আল-কুরআন বিজ্ঞান ও রমজান

ঈদযাত্রা আনন্দময় ও নিরাপদ হোক

ঈদের প্রহর গুনছে দেশ, পে-স্কেলহীন বাস্তবতায় তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির সরকারি কর্মচারীদের আনন্দ কতটুকু?

গণতান্ত্রিক সংস্কার ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠন বড় চ্যালেঞ্জ

হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা: ২.৮ ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক বাণিজ্য ঝুঁকিতে, বাংলাদেশের সামনে নতুন সতর্কবার্তা

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব

নতুন সংসদ, নতুন সাংসদ: প্রস্তুতির রাজনীতিতে বিএনপির নতুন অধ্যায়

দক্ষ জাতি গঠনের নতুন দিগন্ত: ১৭ বছর বয়সে বাধ্যতামূলক জাতীয় প্রশিক্ষণ কি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে?

‘ইরান-ইসরাইলের যুদ্ধে আমরা পক্ষভুক্ত নই’- ইরানের হামলা নিয়ে ইউএইর অবস্থান: একটি ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ

ট্যাক্স না বাড়িয়ে ঘুষ কমান, রাজস্ব বাড়বে

ভয়াবহ যুদ্ধের আশঙ্কা, হুমকিতে বিশ্বনিরাপত্তা

ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, পতন অনিবার্য

৬ মাসের সময়সীমা বনাম ৬০ দিনের ধৈর্য: শাসন, সংকট ও সাংবিধানিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন