দায়িত্বশীল নেতৃত্বের এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত মেয়র শাহাদাত
চট্টগ্রাম মহানগর বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশ এই শহরকে ঘিরেই পরিচালিত হয়। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের নাগরিক সেবা অব্যাহত রাখা সব সময়ই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ৪১টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর না থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখা নিঃসন্দেহে কঠিন একটি দায়িত্ব। এই কঠিন সময়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন একক নেতৃত্বে চসিকের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন, যা তাঁর দায়িত্বশীলতা, দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণের এক ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
একটি সিটি করপোরেশনের কাজ শুধুমাত্র রাস্তা-ঘাট সংস্কার বা পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা নয়, নাগরিক জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রের সঙ্গে এর সম্পৃক্ততা রয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক বাতি, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক কার্যক্রম—সবকিছুই সিটি করপোরেশনের আওতায় পড়ে। সাধারণত এই বিশাল কাজের চাপ সামলাতে মেয়রের পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরদের সক্রিয় ভূমিকা থাকে। কিন্তু কাউন্সিলর না থাকা অবস্থায় এই দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। এই বাস্তবতায় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন প্রশাসনিক কাঠামোকে সক্রিয় রেখে নাগরিক সেবাকে সচল রাখার যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল নাগরিক সেবা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়। শহরের দৈনন্দিন কার্যক্রম থেমে গেলে নাগরিক দুর্ভোগ বাড়ে এবং শহরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, রাস্তা মেরামত, ড্রেন পরিষ্কার, মশক নিধনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজগুলো যথাসম্ভব নিয়মিতভাবে চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে যে, সঠিক পরিকল্পনা ও আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকলে সীমিত কাঠামো নিয়েও বড় দায়িত্ব পালন করা সম্ভব।
ডা. শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি পেয়েছে—এমন ধারণাও অনেকের মধ্যে তৈরি হয়েছে। কাউন্সিলর না থাকায় ওয়ার্ডভিত্তিক সমস্যাগুলো সরাসরি প্রশাসনের কাছে পৌঁছানো এবং দ্রুত সমাধানের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়েছিল। এই জায়গায় তিনি কর্মকর্তাদের সক্রিয়ভাবে মাঠে কাজ করার নির্দেশনা দিয়ে নাগরিক সমস্যার প্রতি দ্রুত সাড়া দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে ধারণা করা যায়। এটি একটি ইতিবাচক প্রশাসনিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত বহন করে।
একজন সফল নেতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সংকটকালেও ধৈর্য ধরে দায়িত্ব পালন করা এবং সমস্যাকে সুযোগে রূপান্তর করার চেষ্টা করা। এই সময়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম থেমে না গিয়ে চলমান থাকা প্রমাণ করে যে, নেতৃত্বে দৃঢ়তা থাকলে প্রশাসনিক স্থবিরতা এড়ানো সম্ভব। এককভাবে এত বড় একটি নগরীর দায়িত্ব সামলানো সহজ কাজ নয়, কিন্তু ধারাবাহিক উদ্যোগ ও পরিকল্পনার মাধ্যমে তা সম্ভব হচ্ছে—এটি ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার জন্যও একটি শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে।
এছাড়া, এই সময়টিকে প্রশাসনিক দক্ষতা উন্নয়নের একটি সুযোগ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। কাউন্সিলর না থাকার কারণে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করতে গিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও কর্মক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে উঠতে পারে, যা নগর পরিচালনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সবশেষে বলা যায়, কাউন্সিলরবিহীন অবস্থায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম সচল রাখা একটি বড় দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন যে উদ্যোগ, দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বগুণ প্রদর্শন করছেন, তা একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। নাগরিক সেবা অব্যাহত রাখা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখার এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে একটি কার্যকর ও দক্ষ নগর ব্যবস্থাপনার ভিত্তি স্থাপন করবে—এমন প্রত্যাশাই নগরবাসীর।
লেখক: কবি, সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক, সভাপতি, রেলওয়ে জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন।
এমএসএম / এমএসএম
ঢাকার প্রশাসনিক ইতিহাসে নতুন দিগন্ত: প্রথম নারী জেলা প্রশাসক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রগঠনের প্রত্যাশা
দায়িত্বশীল নেতৃত্বের এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত মেয়র শাহাদাত
শোষিত মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু: শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
ইতিহাসের ভয়াবহতম খাদ্য সংকটে ৩০০ কোটির বেশি মানুষ
চাপের বহুমাত্রিক বলয়ে বর্তমান সরকার
অসাম্প্রদায়িক ও শোষিত মানুষের কণ্ঠস্বর পঙ্কজ ভট্টাচার্য
শিরোনাম- রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ! ভবিষ্যতের জন্য সুফল নাকি ঝুঁকি বাড়াবে
আকাশপথে স্বাধীনতার নতুন দিগন্ত: শাহজালাল বিমানবন্দরে ফ্রান্সের অত্যাধুনিক রাডারের যাত্রা শুরু
চট্টগ্রামে আধুনিক হাসপাতাল স্থাপন অপরিহার্য
বিদেশে ক্রুড অয়েল টোল ব্লেন্ডিং: জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে ৫০০০ কোটি টাকা সাশ্রয়ের কৌশল!
কৃষি কার্ড ভালো উদ্যোগ, তবে চ্যালেঞ্জও আছে
“মরিলেও মরা নহে, যদি লোকে ঘোষে”
অর্ধেক পাগল, অর্ধেক ভালো-মতপার্থক্যের সীমা কোথায়?
Link Copied