সেই রাব্বির সাফল্যের পেছনের বিভীষিকাময় গল্প বলেনি কেউ
চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের ভাটিয়ারী এলাকার রফিকুল ইসলাম রাব্বি ২০১৬ সালে বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে তার দুটি হাতই হারিয়ে ফেলে। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় পা দিয়ে লিখে সে অর্জন করেছে জিপিএ-৫। রোববার তার এমন সাফল্যে সীতাকুন্ড জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মিডিয়ার বদৌলতে মূহুর্তে এ আলোড়নের ঢেউ লাগে সারা দেশে। তার এমন অভাবনীয় সাফল্যের পেছনের গল্প যতটা বিভীষিকাময় তার চেয়ে ভয়ানক অনিশ্চিত রাব্বির শিক্ষার ভবিষ্যৎ।
২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর। ছোট্ট শিশু রাব্বি তখন ভাটিয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র। বিদ্যালয়ের পাশে মহাসড়কের ওপর চলছিল ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ কাজ। কৌতুহলবশত অন্য সহপাঠীদের সাথে ব্রিজের কাজ দেখতে গিয়ে ব্রিজ থেকে বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে দুই হাত, পা, বুক ও পেটসহ শরীরে বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করালে দীর্ঘ তিন মাস চিকিৎসা চলে তার। এর মধ্যে ডান হাত সম্পূর্ণ ও বাম হাতের ৮০ ভাগ কেটে ফেলতে হয়। পুড়ে অকেজো হয়ে যায় বাম পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলিসহ তিনটি আঙ্গুল ও পায়ের পাতার সামনের অংশ। এছাড়া বুক ও পেটের বেশিরভাগ অংশ ঝলসে যায় তার।
সেদিন দুর্ঘটনার পর মৃত্যুপথযাত্রী রাব্বিকে সুস্থ করে তুলতে তার পরিবারের খরচ হয়েছিল ১৫ লক্ষ টাকা। যে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অপর্যাপ্ত নিরাপত্তার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছিল সেই ইলিয়াস ব্রাদার্স ক্ষতিপূরণ দিয়েছিল মাত্র ৫০ হাজার টাকা। রাব্বির প্রাথমিক বিদ্যালয় এর পরিচালনা কমিটি ৮০ হাজার টাকা অনুদান দেয়। স্থানীয় আরও কয়েক ব্যক্তির অনুদানসহ সর্বমোট ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা চিকিৎসা সহায়তা পেয়েছিল রাব্বির পরিবার। বাকি ১৩ লক্ষ টাকা বিভিন্ন এনজিও, ব্যক্তি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে লোন নেন রাব্বির পিতা বজলুর রহমান।
রাব্বির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ি বলতে ১০ ফুট বাই ১০ ফুটের একটি ছোট্ট কক্ষ। নানার দেয়া এ কক্ষটিতেই বাবা-মা ও তিন ভাই বোন মিলে বসবাস করে রাব্বি। ছোট বোনটাও এবার জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেছে। সবার ছোট ভাই হিফজ মাদ্রাসায় পড়ছে। বাবা বজলুর রহমান দিনমজুর করে টেনেটুনে সংসার চালান। তার মাথায় এখন ১৩ লাখ টাকা ঋণের বোঝা। সপ্তাহ শেষ হলে কিস্তির খড়গ। উপায়ন্তর না পেয়ে রাব্বির মা রোজিয়া বেগমও দিনমজুরের কাজে নেমেছেন। কৃষি জমিতে মজুরি দিয়ে তিনি সপ্তাহে ২ হাজার ৫শ টাকা পান। যার পুরোটাই চলে যায় কিস্তি পরিশোধে। বাবার সামান্য আয় থেকেও কিস্তি দিয়ে আর সংসার চলে না রাব্বির।
দু'হাত হারিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠার পর শিশু রাব্বির মনে হচ্ছিল এটা দুঃস্বপ্ন। যে স্বপ্ন ভাঙলেই বোধহয় আবার তার দু'হাত ফিরে পাবে। এভাবেই সেদিনের অনুভূতির কথা প্রতিবেদকের কাছে ব্যক্ত করেন অদম্য সাহসী ও সংগ্রামী তরুণ রাব্বি। বলছিলেন, যখন বুঝলাম সত্যিই আমি চিরদিনের জন্য দুই হাত হারিয়ে ফেলেছি তখন খুব কেঁদেছি। কত রাত কেঁদে কেঁদে বুক ভাসিয়েছি। সেসময় বাবা-মা এসে সান্তনা দিয়েছেন। বুকে আগলে ধরেছেন, সাহস জুগিয়েছেন; প্রেরণার গল্প শুনিয়েছেন। সেসব আমার শিশুমনে আলোড়ন তুলেছিল। আমি ভাবতে শুরু করলাম। কিভাবে দুই হাত ছাড়া বাঁচা যায়। অন্যদের মত কীর্তিও গড়া যায় দু'হাত ছাড়া। আমি সংকল্প করলাম উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার। আমি মুখ দিয়ে লেখার চেষ্টা শুরু করলাম। ইতিমধ্যে অসুস্থতায় আমার জীবন থেকে দু'বছর হারিয়ে গেল। পরের বছর আমি মুখ দিয়ে লিখে পিএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হলাম। এরপর মাথায় আসলো সামনে পড়ালেখা বেশি মুখের লেখায় কাজ হবে না। আমি আবার পা দিয়ে লেখার অভ্যাস গড়লাম। আলহামদুলিল্লাহ, আমি এসএসসিতে সফল হলাম।
রাব্বির বাবা বজলুর রহমান বলেন, ছেলের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের স্বপ্ন ভঙ্গের শঙ্কায় আমি উদ্বিগ্ন। আমার পরিবারের মাথায় ১৩ লাখ টাকা ঋণের বোঝা। কিস্তি পরশোধের জন্য প্রায়ই এনজিওর লোকদের কটুকথা শুনতে হয়। সংকট কাটাতে আমার স্ত্রীও দিনমজুরি করছে। এভাবে চলতে থাকলে রাব্বিকেও পড়ালেখা ছেড়ে কাজে নামতে হবে।
পা দিয়ে লিখে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া রাব্বির সাফল্যকে বিস্ময়কর বলছেন তার শিক্ষক ও স্থানীয়রা। তারা বলছেন, শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ পেলে রাব্বি আরও ভালো ফলাফল করতে পারত।
সীতাকুন্ড উপজেলা সমাজ কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মোঃ গিয়াস উদ্দিন বলেন, রাব্বি নিঃসন্দেহে প্রখর মেধাবী, দুঃসাহসী ও প্রতিভাবান একজন তরুণ। তার চিকিৎসা ঋণ পরিশোধ ও তাকে শিক্ষা গ্রহণের অবাধ সুযোগ করে দেয়া আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। বিশেষ করে এক্ষেত্রে বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে সংকট কেটে যাবে রাব্বি ও তার পরিবারের। একই সাথে সমাজ ও রাষ্ট্রে সে মেধা ও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখার সুযোগ পাবে।
এমএসএম / এমএসএম
ময়মনসিংহের ১১ আসনে সেনা ও বিজিবি মোতায়েন, তৎপর র্যাবও
বিলাইছড়িতে সংসদ নির্বাচনে সব কেন্দ্রে জনবল ও নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে
মনপুরায় ব্যালট বাক্স পৌঁছানো শুরু, চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে প্রশাসন।
বাঁশখালীর দক্ষিণ সাধনপুর সওদাগর পাড়া ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ফাইনাল সম্পন্ন
সীতাকুণ্ডে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, ঝুঁকিপূর্ণ ৪৮ কেন্দ্র
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা ২ আসনে বিজয়ের ক্ষেত্রে আশাবাদী - তুষার আহমেদ শুকুর।
আজ বহুকাংখিত সেই ত্রয়োদশ সংসদ ও গণভোট চৌগাছায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন ৮১টি কেন্দ্রে ৩৯৪ বুথে ভোটাররা ভোট প্রদান করবেন
রাজস্থলীতে কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাচ্ছে ভোটের ব্যালেট সহ সরঞ্জাম বিতরণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ র্নিবাচন-২০২৬ বাগেরহাটের সকল কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে ভোট গ্রহন সামগ্রী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষ্যে মেহেরপুরে স্থানীয় পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত-
দৌলতপুর সীমান্তে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার
শেরপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলন: নতুন কমিটি ঘোষণা