১০ বছরেও সম্পন্ন হয়নি বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্প

জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে নগরবাসিকে মুক্ত করতে নেয়া প্রকল্পের কাজ চলছে ধীরগতিতে। ২০১৪ সালের জুনে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন হওয়া বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্পটি ১০ বছরেও শেষ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ব্যয় ঠিক রেখে আরো ১৮ মাস সময় বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের কাজে নিম্ন মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করার অভিযোগ ওঠেছে। ফলে কাজ শেষ হওয়ার আগেই বেশকিছু জায়গায় গাইড ওয়াল ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এমনকি ধেবে যাচ্ছে ব্লকও। ব্লকের উপরে প্রটেকশন ঢালাই খুলে পড়ে যাচ্ছে। তবে এটিকে সমস্যা হিসেবে দেখছেন না প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন এটিকে প্রাথমিকভাবে আটকানো হয়েছে। কাজ শেষ করার আগে আবার ভালোভাবে ফিনিশিং করা হবে বলেও জানিয়েছেন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ফরহাদুল আলম।
জানা যায়, ১০ লাখ নগরবাসিকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তির আশায় ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে তৎকালীন মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন এই প্রকল্পের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। নগরের বারইপাড়া হাইজ্জারপুল থেকে শুরু হয়ে খালটি যাবে নূর নগর হাউজিং, ওয়াইজের পাড়া, বলিরহাটের বলি মসজিদের উত্তর পাশ দিয়ে কর্ণফুলী নদীতে মিশবে এই খালটি। খালটি নির্মাণে নিম্নমানের কাজ করা হচ্ছে এমন অভিযোগে সম্প্রতি সরেজমিনে ওয়াইজের পাড়া অংশে গিয়ে দেখা যায় স্ক্যাভটর দিয়ে মাটি কাটার কাজ চলমান আছে। তারপাশেই ছোট ব্রীজ ও খালের গাইড ওয়াল রয়েছে, গাইড ওয়ালের ওপরে বসানো হয়েছে বল্ক। গাইড ওয়ালের ভিম অনেক জায়গায় ভেঙ্গে গেছে। নিচের দিকে ধেবে গেছে ব্লক। ব্লকের ওপরের অংশে দেয়া ঢালাইয়ে ফাটল ও অনেক অংশে খুলে খুলে পড়ে যাচ্ছে। আবার অনেক এলাকা জুড়েই এখনো কাজ ধরা হয়নি।
এই বিষয়ে জানতে বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফরহাদুল আলম বলেন, এই প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ মেয়র মহোদয়ের বাড়ির আশেপাশের ১৪ টি প্রতিষ্ঠান করছে। আর এই প্রকল্পটির আওতায় মেয়রের বাড়িও আছে। তাই এই প্রকল্পের কাজে কোন গাফিলতি হওয়ার সুযোগ নেই। মেয়র মহোদয় নিজেও এর তদারকি করছেন। আপনারা যা দেখেছেন তা অস্বীকার করার উপায় নেই ঠিক তবে কাজ এখনো শেষ হয়নি। ফলে ফিনিশিং না হওয়ায় এমনটি মনে হচ্ছে। গাইড ওয়াল ভাঙার বিষয়ে তিনি বলে বলেন খালে মাটি কাটার সময় কিছু জায়গায় স্ক্যাভেটরের আঘাতে হয়তো ভেঙে গেছে। কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগে আমরা আবার ভালো করে দেখে নিব। আর নির্মাণসামগ্রী আমরা ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করে ব্যবহার করছি, সুতরাং এখানে ২ নাম্বারির কোন সুযোগ নেই। প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা ব্যয় বৃদ্ধি না করে আরো ১৮ মাস অর্থাৎ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছি, অনুমোদন হবে বলে আশা করছি।
২০২১ সালে শুরু করে ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহন শেষ হয়েছে এখন পুরোদমে কাজ চলবে জানিয়ে এই কর্মকর্তা জানান, অধিগ্রহণের আরো ২২০ কোটি টাকা অবশিষ্ট আছে যা দিয়ে আরো আড়াই একর জমি অধিগ্রহন করা হবে। যেখানে এই খাল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৪/৫ টি স্টেশন করা হবে। যাতে এটি সহজে ভরাট না হয়। মানুষ যাতে দীর্ঘদিন এর সুফল ভোগ করতে পারে সেই বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি।উল্লেখ্য, এই খালটি বারইপাড়া হাইজ্জারপুল থেকে শুরু হয়ে যাবে নূর নগর হাউজিং, ওয়াইজের পাড়া, বলিরহাটের বলি মসজিদের উত্তর পাশ দিয়ে কর্ণফুলী নদীতে মিশবে।
জানা যায়, ১৯৯৫ সালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) করা ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে বহদ্দারহাট বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খালটি খননের সুপারিশ করা হয়। নগরবাসির দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে তার প্রায় দুই দশক পর ২০১৪ সালের জুন মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্প অনুমোদন পায়। ৩২৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন বছরের মধ্যে এ কাজ শেষ করার কথা থাকলেও যথাসময়ে সরকারি অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় এবং জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতায় প্রথম মেয়াদে প্রকল্পের কোনো কাজই করতে পারেনি সিটি করপোরেশন।
এরপর ২০১৭ সালের নভেম্বরে একনেকে প্রকল্পটি পুনর্বিবেচনা করে আবারও অনুমোদন দেওয়া হয়। গত বছরের এপ্রিলে সর্বশেষ সংশোধনে প্রকল্পের সময় নির্ধারণ করা হয় ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত আর ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা। এরমধ্যে ১১০৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয় হবে ২৫ দশমিক ২৪ একর জমি অধিগ্রহণে। বাকি টাকা ব্যয় হবে খাল খনন, গাইড ওয়াল এবং উভয় পাশে রাস্তা নির্মাণ কাজে।
২.৯ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটির গভীরতা হবে ৪ থেকে ৫ মিটার এবং ৬৫ ফুট চওড়া। খালের দুই পাশে ২০ ফুট করে দুটি রাস্তা হবে এবং ছয় ফুট প্রস্থের দুটি করে ওয়াকওয়ে হবে। নগরের নাসিরাবাদ, শুলকবহর, বহদ্দারহাট, বারইপাড়া, চান্দগাঁও, বাকলিয়া ও চাক্তাই এলাকার প্রায় ১০ লাখ মানুষকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দিতে ২০১২ সালের নভেম্বরে এই খালটি খননের জন্য প্রথম উদ্যোগ নিয়েছিল চসিক।
এমএসএম / এমএসএম

ছুটি ছাড়াই ২৩ মাস অনুপস্থিতির পর চসিকে ইঞ্জিনিয়ার তৈয়ব

বেনাপোলে ২ মণ গাঁজা সহ কিশোর আটক

নবীনগরে ফেসবুকে অপপ্রচার, গ্রামে মানববন্ধন ও থানায় অভিযোগ

নেত্রকোনায় জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি পদে লড়ছেন ডাঃ মোঃ আনোয়ারুল হক”

সার পাচারকালে তানোরে ৪০ বস্তা টিএসপি সার জব্দ

সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির ৫ সিনিয়র নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

দেবিদ্বার রাজামেহার প্রতিবন্ধী কমপ্লেক্সে আদর্শ বিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর ও অভিভাবক সমাবেশ

পর্যটন খাতকে সমৃদ্ধ করলে উদ্যোক্তা সৃষ্টি হবে, অর্থনীতি হবে সমৃদ্ধ: সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন

বেনাপোলে মিজান কসাইকে জবাই করে হত্যা

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ; সীমান্তে আরও অপেক্ষামাণ ২০থেকে ২৫ হাজার

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে

গাজীপুরে অন্তহীন অভিযোগে অভিভাবকদের তোপের মুখে প্রধান শিক্ষক!
