পূর্ণিমায় জেলেদের মুখে তৃপ্তির হাসি
দীর্ঘ ৬৫ দিন সাগরে নিষেধাজ্ঞা থাকার পর সাগরে নেমে আশানুরূপ ইলিশ মেলেনি আনোয়ারার ১০ হাজার জেলের জালে। ভরা মৌসুমে ইলিশ না মেলায় হতাশ মনে দ্বিতীয় পূর্ণিমায় অপেক্ষায় ছিলেন তারা। তবে এবার আর হতাশ হতে হয়নি। ভাদ্র মাসের পূর্ণিমার শুরু থেকে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়তে শুরু করেছে ইলিশ। জো-এর দিনক্ষণ মিলিয়ে আনোয়ারা উপকূলে জমে উঠেছে রুপালি ইলিশের মেলা।
দীর্ঘদিন নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তেমন বড় আকারে ইলিশ জালে ধরা পড়ছে না বললেই চলে। তবুও ছোট ও মাঝারি আকারের ইলিশ ধরা পড়ায় জেলেদের মুখে তৃপ্তির হাসি। গত শনিবার (২১ আগস্ট) সকালে উপজেলার গহিরা উপকূল এলাকার উঠান মাঝির ঘাট, দোভাষী ঘাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গত দুদিনে সাগর থেকে ইলিশবোঝাই করে ঘাটে ফিরেছে অর্ধশতাধিক ট্রলার। ফিরে আসা ইলিশভর্তি এসব ট্রলার গহিরা উপকূলের বিভিন্ন ঘাটে সারিবদ্ধভাবে নোঙর করে রাখা হয়েছে। মাঝিমাল্লাদের মাঝে ছিল মাছ সংরক্ষণের তোড়জোড়। মৌসুমের শুরুতে ইলিশের দেখা না পেলেও এখন কাঙ্ক্ষিত ইলিশ ধরা পড়ায় হাসি ফুটেছে জেলে, আড়তদার ও মৎস্যজীবীদের মুখে।
দেখা যায়, কেউ ইলিশ মাছের ঝুড়ি টানছেন, কেউ প্যাকেট করছেন আবার কেউ কেউ সেই প্যাকেট বিভিন্ন স্থানে পাঠাতে তুলে দিচ্ছেন ট্রাকে। ট্রলার থেকে মাছ নামতেই জেলেরা ডাক বসাচ্ছেন মাছের দামের। দেড় থেকে ২ কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি করতে দেখা গেছে ১২০০ থেকে ১৮০০ টাকার মধ্যে, যা এর আগে বিক্রি হয়েছে ১১০০ থেকে ১৭০০ টাকার মধ্যে। আড়াই থেকে ৩ কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ২৮০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে, যা এর আগে ২৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে বড় ইলিশের সরবরাহ কম বললে চলে।
এদিকে, উপজেলার মাছের সবচেয়ে বড় আড়ত কালাবিবির দীঘির মোড়ে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজি দরে, ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ৬০০ গ্রাম সাইজের প্রতি হালি ইলিশ বিক্রি করতে দেখা গেছে ১৫০০ টাকায়। প্রতি তিন পিসে কেজি এমন ইলিশ প্রতি কেজি সাড়ে ৬০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে, ছোট জাটকা প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
দোভাষী ঘাট মৎস্য আড়তের ব্যবসায়ীরা বলেন, এক সপ্তাহ আগে যে ইলিশ ২ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, এখন সেগুলোর হালি ২৫০০ হাজার টাকা হাকাচ্ছে। তার মতে, বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। সরবরাহ বাড়লে ইলিশের দাম কমে আসবে।
উঠান মাঝি ঘাটের বাজারের ইলিশ বিক্রেতা ওসমান জানান, ইলিশের মৌসুম হলেও অন্য বছরের তুলনায় এ সময় ইলিশ ধরা পড়ছে কম। এ কারণে বাজারে ইলিশের দাম উঠা নামা করলেও অন্য বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি।
উপজেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শ্রী কৃষ্ণ দাশ বলেন, মূলত সাগরে মিষ্টি পানি নামার সাথে সাথে গভীর সমুদ্র থেকে বড় মাছগুলো কাছে চলে আসে আর তখনই জেলেদের জালে আটকা পড়ে যায়। এ বছর বৃষ্টি হওয়ার পরও জেলেদের জালে প্রথম দিকে মাছে দেখা মেলেনি। আজ থেকে জো-এর দিনক্ষণ মিলিয়ে উপকূলে জমে উঠতে শুরু করেছে ইলিশের আমেজ। আশা করি আগামী পূর্ণিমায় জেলেদের জালে আরো ভালো মাছ পড়বে।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাশিদুল হক বলেন, আসলে আমরা সরেজমিন বিষয়টি গিয়ে দেখেছি। জেলেদের জালে তেমন আশানুরূপ মাছ ধরা পড়েনি প্রথম দিকে। ভাদ্র মাসের শুরু থেকে মাছ ধরা পড়েছে। আর যেসব মাছ পড়ছে তা সাইজে অনেক ছোট। জো-এর দিনক্ষণ মিলিয়ে সামনে মাছ পড়তে পারে।
এমএসএম / জামান
ঘোড়াঘাটে আনসার-ভিডিপির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
শ্রীমঙ্গলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৩ লাখ টাকা জরিমানা
নন্দীগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন এমপি মোশারফ
শ্যামনগর উপজেলা ক্লাইমেট এ্যাকশন ফোরামের অর্ধবার্ষিক সভা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন
রামুর রাবার বাগানের পাহাড়ি জঙ্গলে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
সলঙ্গায় ইউপি সচিব মিলনের অনিয়মিত উপস্থিতি, ভোগান্তিতে সেবাপ্রার্থীরা
ধুনটে আগুনে বসতবাড়ি পুড়ে নিঃস্ব কৃষক পরিবার
শ্রীপুরে ৩০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেফতার
বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন: ৪৯৬ নারী পেলেন টাকা
দুর্নীতি প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলায় কুপিয়ে হত্যা
নবীগঞ্জে বদর দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা ও ইফতার মাহফিল