ঢাকা শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬

এস আলম গ্রুপের মামলায় ইসলামী ব্যাংকের চার সিনিয়র কর্মকর্তা নির্যাতনের শিকার


ইমাম হো‌সেন, ঢাকা photo ইমাম হো‌সেন, ঢাকা
প্রকাশিত: ৪-৯-২০২৪ দুপুর ১:৪৯

এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে ঋণ কেলেঙ্কারী সংক্রান্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে তথ্য পাচারের অভিযোগে ইসলামী ব্যাংকেরই চার সিনিয়র কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এস আলম গ্রুপের দেওয়া মামলায় সন্দেহাতীতভাবে নির্যাতন ও হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যায়। 

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায় ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর “ইসলামী ব্যাঙ্কে ভয়ঙ্কর নভেম্বর” নামে দৈনিক প্রথম আলোতে এস আলমের ঋণ কেলেঙ্কারি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই রিপোর্টের মাধ্যমেই মূলত এস আলম গ্রুপের অনিয়ম ও  জালিয়তির কথা প্রথম বারের মতো ব্যাপকভাবে তথ্য প্রমাণসহ প্রকাশিত হয়। এস আলম গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ এবং এস আলমের অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক থেকে কিভাবে কত পরিমাণ অর্থ তুলে নিয়েছে তার বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ্যিত প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়।  গণমাধ্যমে তথ্য প্রদানকারীদের শনাক্ত করতে এস আলমের সহযোগী ব্যাংকের ডিএমডি মিফতাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে ব্যাপক তৎপরতা চালানো হয়। এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রচারণা ও তথ্য পাচারের অভিযোগে গ্রুপের পক্ষে জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল কুদ্দুস বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ০১ তারিখ ০৫/০১/২০২৩।

ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, উক্ত মামলায় ২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র এক্সেকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইয়্যেদ উল্লাহ, এক্সেকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট কামরুল বারী ইমামী, এক্সেকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও এক্সেকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট শহীদুল্লাহ মজুমদারকে ঢাকার মিন্টো রোডস্থ ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে নেয়া হয়। 

খবর নিয়ে জানা যায় সিনিয়র এক্সেকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইয়্যেদ উল্লাহ প্রধান কার্যালয়ের কোনো লোন অনুমোদনকারী বিভাগে কর্মরত ছিলেন না। তিনি ঢাকা নর্থ জোনের জোনাল হেড ছিলেন। দীর্ঘ ২৭ বসরের ব্যাংকিং জীবনে তিনি অত্যন্ত সৎ এবং দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে সুপরিচিত। তিনি দক্ষতার সাথে ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন শাখা ও জোন প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। এক্সেকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট কামরুল বারী ইমামী নোয়াখালী জোনের প্রধান ছিলেন। তিনি ঢাকার বড়বড় শাখার শাখা প্রধানসহ জোন প্রধানের দায়িত্ব প্সলন করেছেন। তিনি প্রধান কার্যালয়ের অডিট ও ইন্সপেকশন বিভাগেও কাজ করেছেন। একজন নীতিবান ও আদর্শ ব্যাংকার হিসেবে তার ব্যাপক সুনাম রয়েছে। এক্সেকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান আন্তর্জাতিক সেবা বিভাগের প্রধান ছিলেন। তিনি ব্যাংকের ঋণ অনুমোদন বা ঋণ অপারেশনের কোন বিভাগ যেমন  কর্পোরেট ইনভেস্টমেন্ট, এসএমই, অফসোর ব্যাংকিংএ কখনও কাজ করেননি। তিনি সিডিসিএস, ক্যামস, সিজিএসএস সহি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্কিং সার্টিফিকেশন অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএফআইইউর বিভিন্ন ফোকাস গ্রুপে দীর্ঘদিন যাবত কাজ করে আসছেন। এক্সেকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট শহীদুল্লাহ মজুমদার কুমিল্লা জোনের প্রধান ছিলেন। তিনি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নোয়খালী অঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখায় শাখা প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন। “ইসলামী ব্যাংকে ভয়ঙ্কর নভেম্বর” প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যাংকে ব্যাপক হারে ডিপোজিট উত্তোলনের হিড়িক পরে যায়। তখন তিনি ব্যাংকের ডিপোজিট বৃদ্ধিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখেন। তারা প্রত্যেকে দীর্ঘদিন থেকে ইসলামী ব্যাংকে সততা মেধা ও দক্ষতার মাধ্যমে ব্যাংকের অব্যাহত উন্নয়নে অবদান রেখে আসছেন।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায় সেদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত তাদের কে একসাথে একই রুমে রাখা হয়। দিনভর চলে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ। চলে অমানুষিক অত্যাচার। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা এস আলম গ্রুপের নানা ঋণ জালিয়তির তথ্য অতি গোপনে গণমাধ্যমে সরবারহ করে। তারা সঙ্গবদ্ধভাবে এস আলম গ্রুপ ও সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত। ঢাকাসহ বিভিন্ন মহানগর ও জেলা শহরে এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে পোস্টারিং করে। ব্যাংকে চট্টগ্রামের পটিয়া অঞ্চলের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হয়ে কাজ করে। ফেসবুক ও অন্যান্য  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এস আলম ও সরকার বিরোধী নেতিবাচক প্রচারণা চালায়। প্রবাসীরা যাতে বাংলাদেশে রেমিটেন্স না পাঠায় সে জন্য প্রবাসীদেরকে সঙ্গবদ্ধ ভাবে প্ররোচিত করে এবং সর্বোপরি এস আলমের ব্যবসায়িক স্বার্থ বিরোধী কাজ করে। জিজ্ঞাসাবাদকালীন সময়ে ইসলামী ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ থেকে প্রিন্টকৃত এমপ্লয়ী ডাটাকার্ড মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে দেখা যায়। এ থেকে প্রমাণিত হয় এস আলমের নির্দেশে তৎকালীন তল্পিবাহক ম্যানেজমেন্টই এই কর্মকর্তাদের তালিকা ডিবির হাতে তুলে দিয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা যায় রাত ১১ টার পর ডিবি প্রধান হারুন ওর রশীদ আসেন। তিনি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরেকটি কক্ষে একে একে সবাইকে ডাকেন। ডিবি প্রধান হারুন ও আরও দুইজন ডিবি কর্মকর্তা এক্সেকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট হাবিবুর রাহমানকে নারকীয় নির্যাতন করে। তার দুই পায়ের পাতায় দুইজন পুলিশ মিলে পিটাতে থাকে। তার ডান হাতের মাঝখানের দুটি আঙ্গুলের মাথা প্রথমে থেথলে দেয এবং পরে কেটে দেয। তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে জেলহাজতে না পাঠিয়ে তড়িঘড়ি করে তার পরিবারকে খবর দেযএবং ভোর রাতে তার স্ত্রীর মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে সোপর্দ করে। সাইয়েদ উল্লাহ, শহীদুল্লাহ মজুমদার এবং কামরুল বারী ইমামীকে জেলহাজতে প্রেরণ করে। জেলে থাকার অজুহাতে এইচআর পলিসির ধুয়া তুলে তাদেরকে অমানুবিকভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়। হাবিবুর রহমানকে অসুস্থ অবস্থায়েই বগুড়ায় বদলি করা  হয় এবং বগুড়া যেতে বাধ্য করা হয়। পরবর্তীতে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংকের বাইরে আরেকটি ব্যাঙ্কে ডিএমডি হিসেবে যেতে চাইলে যেতে দেয়া হয়নি। তৎকালীন ম্যানেজমেন্টের অব্যাহত মানুষিক চাপ থেকে বাঁচতে  যত দ্রুত সম্ভব ইসলামী ব্যাংক থেকে বের হতে নিরুপায় হয়ে এসআইবিএলে যোগদান করেন। বৈষম্যহীন ছাত্র আন্দোলনের গণবিপ্লবের পর পটপরিবর্তনের ফলে বাকি তিনজন আবারো ইসলামী ব্যাংকের চাকরি ফিরে পান। 

একই সময়ে তথ্য পাচার ও এস আলম গ্রুপের “কথামতো” না চলার কারণে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন এডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ওমর ফারুক খান এবং ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর সিদ্দিকুর রহমানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে কোনোরকম পূর্ব নোটিস ছাড়াই তাদেরকে চাকরিচ্যুত করা হয় বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তারা যথাক্রমে এনআরবি ব্যাংকের এডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর হিসেবে যোগদান করেছেন এবং কর্মরত আছেন।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায় ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ কর্তৃক ইসলামী ব্যাংক দখল করার পর যাদের হাত ধরে এই ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এমন কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত্ত করা হয়। তাদের মধ্যে এডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর শামসুজ্জামান, ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মোহন মিয়া, ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর আব্দুস সাদেক ভূঁইয়া, সিনিয়র এক্সেকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট আমিরুল ইসলাম রয়েছেন।

T.A.S / এমএসএম

চাঁদপুরে শুটিং করতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার শুটিং ইউনিট!

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ২০ কিলোমিটার যানবাহনের ধীরগতি

নবীগঞ্জে দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্টের পুরস্কার বিতরণ ও ইফতার মাহফিল

সান্তাহারে হাজারো যাত্রী নিয়ে দুর্ঘটনার কবলে নীলসাগর এক্সপ্রেস

বগুড়ার শেরপুরে মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত

নড়াইলে গরীব, দুস্থদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের নগদ অর্থ বিতরণ

ঈদে সাময়িক দর্শক বাড়লেও সারা বছর লোকসান টিকে থাকার লড়াইয়ে শ্রীমঙ্গলের সিনেমা হল

বগুড়ায় মাংস সমিতি’র ৭৭ লাখ টাকা নিয়ে জামায়াত নেতা উধাও

বগুড়ায় মাইক্রোবাসে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, নিহত ৩

অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় কিশোরী রাইসা হত্যা: বাবুগঞ্জে মামলা, প্রধান আসামি পলাতক

যানবাহনের চাপ বাড়ছে উত্তর অঞ্চলের মহাসড়কে

ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া বন্ধ করতে হবে" মাওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁন

সৌদিতে মিসাইল হামলায় আহত বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু