সুদ ব্যবসায়ীদের অত্যাচারে নিঃস্ব অনেকে গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে
ঝিনাইদহের শৈলকুপার সর্বত্র চলছে রমরমা সুদের ব্যবসা। সুদ গ্রহীতা সাধারণ মানুষ প্রতি মাসে সুদের টাকা দিতে নিঃস্ব হচ্ছে। মাস শেষে সুদের টাকা দিতে না পারলে চক্রবৃদ্ধি হারে বৃদ্ধি পায় সুদ। সুদ ব্যবসায়ীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ অনেকে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কয়েক বছর ধরে চলছে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সুদের ব্যবসা। সমাজের মুখোশধারী কিছু লোক উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও বাজারে মানুষের দুর্বলতাকে কেন্দ্র করে সুদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। নিজেকে আড়ালে রেখে অন্যের নামে স্ট্যাম্প লিখে চলছে অর্থলগ্নির রমরমা ব্যবসা। এর কারণে সমাজ এবং পরিবারে বিশৃঙ্খলাও সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার সাধুহাটি,নাতপাড়া,নাঙ্গলবাদ,শেখপাড়া,গবিন্দপুর, চাঁদপুর,দুধসর, ফুলহরি, হাটফাজিলপুর, গোয়ালবাড়িসহ প্রায় গ্রামে এক শ্রেণির অসাধু দাদন ব্যবসায়ী চড়া সুদে কৃষকদের ঋণ প্রদান করছে। এসব দাদন ব্যবসায়ীরা সুদের ব্যবসা চালিয়ে রাতারাতি ধনী হয়ে উঠছে এদিকে সুদে টাকা পরিশোধ না করতে পেরে নিঃশেষ হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জানা যায়, সুদের মহাজনরা ঋণদান করে মাসিক শতকরা ১৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত সুদ আদায় করছে। এরা পাঁচ-দশ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ত্রিশ থেকে চল্লিশ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিয়ে থাকে। ঋণদানকালে এরা ঋণ গ্রহণকারীর কাছ থেকে ব্যাংকের খালি পাতার চেকে সই নিয়ে থাকে। এর পাশাপাশি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে থাকে। টাকা পরিশোধ করতে না পারলে ব্ল্যাংক চেকের পাতায় ইচ্ছামতো অংক বসিয়ে নেয়। তারপর মামলা-মোকদ্দমার ভয় দেখিয়ে চাপ দিতে থাকে। কোনো কোনো মহাজন আদালতে মামলা ঠুকে দেয়। এরা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে টু-শব্দ করতে পারে না।
হাকিমপুর ইউনিয়নের সাধুহাটি গ্রামের ইদ্রিসের ছেলে জিল্লু সুদ ব্যবসায়ী চুন্নুর কাছ থেকে সুূদে করে ৩০০০০ হাজার টাকার একটি ভ্যান ক্রয় করে। বিনিময়ে তাকে প্রতিদিন ১০০ টাকা করে সুদ দিতে হয়।চক্রবৃদ্ধি হারে দীর্ঘ ১০ মাস টাকা দেওয়ার পরেও সুদে করে নেওয়া ৩০০০০ টাকা দেয়া শেষ হয় না। দীর্ঘ ১০ মাসে সুদের ৩০০০০ টাকা পরিশোধ করার পরেও জিল্লুর একমাত্র উপার্জন করা ভ্যানটা নিয়ে নেয় সুদখোর চুন্নু এমনটায় কাঁদতে কাঁদতে বললেন জিল্লুর মা। সুূদে টাকা দিতে না পারায় আমার ছেলেকে ভয়ভীতি দেখায় ভয়ে আমার ছেলে বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় কষ্টে জীবন পাড় করছে।
সাধুহাটি গ্রামের ইদ্রিসের স্ত্রী আরো বলেন, আমার ছেলে জিল্লু ১০০০০ টাকা সুদে করে একই গ্রামের মৃত কাসেমের ছেলে সহেলের কাছ থেকে। সুদ বাবদ ১২০০০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও ১০০০০ টাকা থেকেই যায় বাকী টাকার জন্য আমার ছেলেকে ভয়ভীতি দেখাতে থাকে উপায় না পেয়ে আমার ছেলে ঢাকায় পালিয়ে যায়। তখন সহেল বাড়ি এসে ভয়ভীতি দেখাতে থাকে ঢাকায় যেখানে থাক খুঁজে বের করে মেরে ফেলবো আমার টাকা না দিলে। আমার সব জায়গা লোক আছে ভয়ে আমার স্বামী সহেলের ১০০০০ টাক পরিশোধ করে দেয়।
সাধুহাটি গ্রামের মজিবরের স্ত্রী বলেন, আমার ছেলে এরসাদ সাধুহাটি গ্রামের মৃত সৈয়দ আলী বিশ্বাসের ছেলে রতনের কাছ থেকে ৩৫০০০ টাকা সুদ নেয়। ৩৫০০০ টাকা সুদ দেওয়ার পরেও বাড়ির উপর এসে হুমকি ধামকি দিতে থাকে। এরসাদের মা কাঁদতে কাঁদতে বলেন,আমার ছেলে পুতায় নতুন ঘর ওঠালে ওই রতন এসে জোর করে ঘরের মালামাল সব নিয়ে যায় এবং বলে যায় আরো ৮০০০ টাকা দিতে হবে না হলে ওর হাড়গোড় সব ভেঙ্গে দেব।পরে দিনমজুরের কাজ করে ৮০০০ টাকাও পরিশোধ করে। এরসাদের মা বলেন আমার ছেলের মতো কেউ তার ভিটে হারা না হয় আমি সুদখোর রতনের বিচার চাই।
জিল্লুর মা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার শেষ সম্বল ২ টা গরু বিক্রি করে দিতে হয়েছে সুদখোর দের জন্য। সুদখোর রতনের কাছ থেকে ৬০০০০ টাকা নিয়ে সুদের টাকা ৩৫০০০ টাকা সুদ দেওয়ার পরেও আমার শেষ সম্বল গরু বিক্রি করে টাকা পরিশোধ করে পা ধরে মাফ চাইয়ে ছেলেকে পুনরায় টাকা না দিতে তা সত্ত্বেও আবারো টাকা দেয় আমার শেষ সম্বল হিসেবে আবারো আর একটি গরু বিক্রি করে টাকা পরিশোধ করি।
জিল্লুর মা বলেন, নাতপাড়া গ্রামের রফনের কাছ থেকে ২০০০০ টাকা নিয়ে ৫০০০০ হাজার টাকা পরিশোধ করার পরেও আরো টাকা দাবি করে। পরে বাধ্য হয়ে গরু বিক্রি করে রফনের টাকা পরিশোধ করি। তা না হলে ছেলেকে মারধরের ভয় দেখায় বলে হাড়গোড় ভেঙ্গে টাকা আদায় করব ভয়ে উপায় না পেয়ে গরু বিক্রি করে টাকা পরিশোধ করি।
ইদ্রিসের স্ত্রী বলেন, সাধুহাটি গ্রামের মন্নুর কাছ থেকে ২০০০০ টাকা সুদে করে নিয়ে পরিশোধ করতে হয় ৪০০০০ হাজার টাকা। তার পরেও পরিশোধ হয়নি ২০০০০ টাকা।মন্নু আবারো মূল টাকা ২০০০০ টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে দিশে হারা হয়ে আমার ছেলে ভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে ঢাকা চলে যায়।
স্থানীয়রা বলেন দীর্ঘ ১৫ বছর আওয়ামী লীগ করার পর সরকার পতনের সাথে সাথে এ-ই রফন এখন নাকি বিএনপি। আওয়ামী লীগ দলের স্থানীয় মেম্বার মান্নান এর সাথে মিশে মানুষ কে মানুষ মনে করে নি। মন্নান মেম্বারের ছত্রছায়ায় এই রফন, রেজাউল, সপ্নন,বড় লিডার হয়ে ছিলো।আবার এই রফন এখন সাধুহাটি বিএনপির সাথে মিশে বিএনপি হওয়ার চেষ্টা করছে।এই রফন আওয়ামী লীগের সাথে মিশে এলাকায় সুদের অভয়ারণ্য গড়ে তুলেছিলো এবং সাধারণ মানুষকে নির্যাতন করেছে সে এখন নাকি বিএনপি। স্থানীয়রা শৈলকুপা বিএনপিকে প্রশ্ন করে বলেন করে সেকি সত্যিই বিএনপি?
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. ইমরান জাকারিয়া বলেন, আমাদের পূর্বের ন্যায় সুদে কারবারি দের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত কোঠর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
T.A.S / জামান
নবীনগরে ১০০ পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে মতিন ভূঁইয়া ফাউন্ডেশনের গবাদিপশু বিতরণ
দীর্ঘ ১৫ বছর পর দেশে ফিরলেন কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের কর্ণধার সিহান,জমকালো আয়োজনে বরণ
বাগেরহাটে প্রস্তাবিত সেলিমাবাদ থানা বাস্তবায়নের দাবিতে দৈবজ্ঞহাটীতে বিশাল মানববন্ধন
জয়পুরহাটে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রেস ব্রিফিং
দুর্নীতি ঢাকতেই প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে
লোহাগড়ায় ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় প্রতিপক্ষের হামলায় বাবা-ছেলে গুরুতর আহত, থানায় মামলা
শেরপুরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহের উদ্বোধন
পাঁচবিবিতে থামছেই না চুরি, ১ মাসে ১০টির অধিক দূধর্ষ চুরি সংঘটিত
জনপ্রিয় ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা আহাম্মদ আলীর মৃত্যুতে শোকাহত কাউনিয়া
কুড়িগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা
গোপালগঞ্জে জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ
পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে মদন ফতেপুরে ১৭৪৮ পরিবারের মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরণ