ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ
রাজনীতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে শ্রীপুর উপজেলা বিএনপি
একক আধিপত্য বিস্তার ও ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বেছে বেছে দীর্ঘদিনের ত্যাগী বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকে দলের পদ-পদবী থেকে বহিষ্কার করেছে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলা বিএনপি। অভিযোগ রয়েছে, এতে প্রত্যক্ষ মদদ দিয়েছেন মাওনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিনহাজ উদ্দিন সরকার ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার।
কারণ হিসেবে তারা বলেছেন, যেসব নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে তারা সাংগঠনিক নিয়ম ভেঙে গত উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীদের সমর্থন করেছেন। তবে তাদের যারা বহিষ্কার করেছে তারাই গত উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের সমর্থন করে প্রকাশ্য মঞ্চে তাদের পক্ষে ভোট চেয়েছে। এমন অভিযোগের একটি ভিডিও ফুটেজ রয়েছে প্রতিবেদকের হাতে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মাওনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিনহাজ উদ্দিন সরকার আওয়ামী লীগের এক প্রার্থীর পক্ষে মঞ্চে অবস্থান করেন ও ভোট চাইছেন।
জানা গেছে, শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাজান ফকিরের কাছের লোক ও ঝুট ব্যবসার পার্টনার হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অপরদিকে বিল্লাল হোসেন মাওনা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি। তিনি গত উপজেলা নির্বাচনে গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির মোড়লের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণসহ তার পক্ষে ভোট চেয়েছিলেন। কিন্তু মাওনা ইউনিয়নের সভাপতি-সেক্রেটারির সাথে রাজনীতি করায় তার বিরুদ্ধেও কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
বিএনপির যেসব নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তাদের ভেতর অন্যতম জসিম উদ্দিন দুলদুল (সাবেক সভাপতি ও উপদেষ্টা সদস্য মাওনা ইউনিয়ন বিএনপি), এমএ গনি মৈশাল (কৃষি বিষয়ক সম্পাদক, শ্রীপুর উপজেলা বিএনপি), ইউসুফ আলী (সদস্য, মাওনা ইউনিয়ন ৪নং ওয়ার্ড বিএনপি), ডিএম আজহার (যুগ্ম-সম্পাদক, সদর উপজেলা বিএনপি)। যেসব কারণে এসব নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হলো সেই একই কারণে অভিযুক্ত মাওনা ইউনিয়নের সভাপতি মিনহাজ উদ্দিন সরকার, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার, সহ-সভাপতি বিল্লাল হোসেনকে কেন বহিষ্কার করা হলো না- এমন প্রশ্ন সাধারণ নেতাকর্মীদের। উপজেলা নেতাদের কাছের লোক বলে অপরাধ করেও পার পেয়ে গেলেন তারা, এমনটাই ভাবছেন স্থানীয় নেতারা।
স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী সকালের সময়কে জানান, উপরের লেভেলের বড় বড় নেতার সাথে হাত থাকার কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না।
বহিষ্কৃত নেতাদের নোটিস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রথমে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হয় কিন্ত বাস্তবে তেমন কিছু ঘটেনি। ভুক্তভোগীরা কেউই কোনো নোটিস হাতে পাননি।
ভুক্তভোগীরা জানান, একটি মহল আমাদের সারাজীবনের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত সম্মান, দলীয় পদ-পদবী থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য এই কাজ করেছে। আমাদের জানতে দেয়া হয়নি যে, দল থেকে অব্যহতি বা বহিস্কার করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এসব নোটিসের কপি ঘুরছে, তখন আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মো. ইউসুফ আলী জানান, এলাকার আদিপত্য বিস্তার, গাজীপুরের শিল্প এলাকার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে এ কাজ করেছে একটি পক্ষ। শেখ হাসিনা সারকারের পতনের পর এলাকার সকল মিল-ফ্যাক্টরি যাতে শান্তিপূর্ণভাবে চলতে পারে সেজন্য আমরা কাজ করেছি। আমার এলাকায় লুটপাট করতে না পেরে এ ষড়যন্ত্র করেছে। আমরা এই বিশৃঙ্খলাকারীদের বিচার চাই।
এ ব্যাপারে শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান ফকির বলেন, যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, প্রথমে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হয়েছিল। উপজেলা বিএনপির সভাপতি আওয়ামী লীগের মঞ্চে নৌকার পক্ষে ভোট চেয়েছে- এমন ভিডিও আমাদের কাছে আছে এমন প্রশ্ন করা হলে প্রথমে তিনি বলেন, সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবেন। একটু পরে আবার বলেন তারা জেলা কমিটির সদস্য আমি ব্যবস্থা নিতে পারব না।
বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলনকে মুঠোফেনে কল করলে তিনি বলেন, যাদের বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তারা সাবাই দোষী। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় নেতারাও অবগত আছেন। একই অপরাধ শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতিও করেছেন, এমন প্রমান আছে- প্রতিবেদকের এ কথা শুনে তিনি রেগে যান এবং বলেন, কোথা থেকে কী শুনেছেন আমার জানা নেই। তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট প্রমাণ ছিল, এজন্য বহিষ্কার করা হয়।
এ বিষয়ে বিএনপির ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইদুল আলম বাবুল বলেন, তৃণমূলে যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে তাদের বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। এজন্য এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে পারছি না। তবে কিছুদিন আগে শুনেছিলাম, তখন অবশ্য আমি দেশের বাইরে ছিলাম। ওখানে নাকি কোনো ব্যবসা নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। পুরো শ্রীপুরের মধ্যে কৃষক দলের একজন আছে, যুবদলের, মূল দলের আছে। আমাদের কাছে এমন কোনো তথ্য নেই। তবে আপনাদের কাছে যদি থাকে এবং এগুলো আমাদের কাছে আসে তাহলে দলীয় নিয়মে দেখা হবে। কেন্দ্রীয় কমিটি একটি নিয়মের মধ্যে চলে। এই তথ্যগুলো তাদের কাছে দেয়া হবে। তখন তারা বিষয়টি দেখবেন। ব্যবস্থা নেয়ার মতো হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবেন।
বর্তমান কমিটির দায়িত্বে যারা আছেন তাদের সঙ্গে আপনার ঘনিষ্ঠতা আছে এজন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়নি- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি রাজনীতি করি, সবার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আর ইউনিয়নের ব্যাপার থানা দেখবে, থানা যদি ব্যর্থ হয় তাহলে জেলা আছে, জেলা না পারলে তখন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক টিমে যারা আছেন আমরা দেখব। ইউনিয়নের ব্যাপারে আমি ব্যবস্থা নিতে পারি না।
এমএসএম / জামান
নবীনগরে ১০০ পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে মতিন ভূঁইয়া ফাউন্ডেশনের গবাদিপশু বিতরণ
দীর্ঘ ১৫ বছর পর দেশে ফিরলেন কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের কর্ণধার সিহান,জমকালো আয়োজনে বরণ
বাগেরহাটে প্রস্তাবিত সেলিমাবাদ থানা বাস্তবায়নের দাবিতে দৈবজ্ঞহাটীতে বিশাল মানববন্ধন
জয়পুরহাটে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রেস ব্রিফিং
দুর্নীতি ঢাকতেই প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে
লোহাগড়ায় ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় প্রতিপক্ষের হামলায় বাবা-ছেলে গুরুতর আহত, থানায় মামলা
শেরপুরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহের উদ্বোধন
পাঁচবিবিতে থামছেই না চুরি, ১ মাসে ১০টির অধিক দূধর্ষ চুরি সংঘটিত
জনপ্রিয় ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা আহাম্মদ আলীর মৃত্যুতে শোকাহত কাউনিয়া
কুড়িগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা
গোপালগঞ্জে জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ
পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে মদন ফতেপুরে ১৭৪৮ পরিবারের মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরণ