ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

হোটেলে কাজ করে মেডিকেল ভর্তি বাউফলের আল আমিন


সাঈদ ইব্রাহিম (পটুয়াখালী) photo সাঈদ ইব্রাহিম (পটুয়াখালী)
প্রকাশিত: ২২-১-২০২৫ বিকাল ৫:৫

‘বাবায় আমার বড় ডাক্তার হউক।" আমি খুবই আনন্দিত। আনন্দে যেন চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলেন না, অনেক কষ্টের মাঝেও যেন একটু সুখের দেখা। ছলছল চোখে কথাগুলো বলেন আল আমিনের মা নাজমা বেগম।

ছেলেকে মানুষ করার জন্য খাবার হোটেলের ব্যবসা করেছি। রিকশা চালিয়েছি। রাতের বেলাও শ্রমিকের কাজও করেছি। আজ আর সেসব মনে নাই। কারণ, আমার ছেলে ডাক্তার হবে। ’বুকভরা গর্ব আর উচ্ছ্বাস নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন আল আমিনের বাবা মো. নিজাম উদ্দিন হাওলাদার।
তাঁর ছেলে মো. আল আমিন হাওলাদার এবার মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ করে নিয়েছেন। তাঁদের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে।

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় ২০০ নম্বরের মধ্যে আল আমিনের স্কোর ১৮৬ দশমিক ২৫। মেধাতালিকায় ১১৭তম হয়ে তিনি ঢাকা মেডিকেলে ভর্তির জন্য মনোনীত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পঞ্চম শ্রেণিতে আমার রোল নম্বর ছিল ১৮। এরপরও বৃত্তি দেওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সিদ্ধান্ত ১৫ জনের বেশি ছাত্রের বৃত্তির জন্য আলাদা পাঠদান করাবেন না এবং বৃত্তির জন্য ফরম পূরণ করাবেন না। এ কারণে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারিনি। বিষয়টি আমাকে নাড়া দিয়েছিল। তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম আমাকে পড়াশোনা করে বড় হতে হবে। সেই স্বপ্ন পূরণে আজ এক ধাপ এগোলাম। আমার বিশ্বাস, সবার দোয়ায় ভালো কিছু করতে পারব ইনশা আল্লাহ।’

তাঁর মেডিকেলে ভর্তির খবরে স্থানীয় লোকজন, শিক্ষক, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা অনেকেই ফুল নিয়ে বাড়িতে এসে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। চলছে মিষ্টিমুখ। মাধবপুর বাজারের ব্যবসায়ী মো. নিজাম উল্লাহ বলেন, ‘এ রকম ভদ্র ও বিনয়ী স্বভাবের ভালো ছেলে বর্তমানে পাওয়া মুশকিল। ওর মধ্যে হিংসা ও অহংকারের লেশমাত্র নাই। তার এমন ভালো ফলাফলে শুধু তার বাবা ও মা নয়, গোটা এলাকার মানুষ আনন্দিত ও গর্বিত।’

ভবিষ্যতে আল আমিন পড়তে চান মেডিসিন নিয়ে। অসহায় ও দুস্থ মানুষের জন্য কিছু করতে চান। তিনি বলেন, ‘পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলা না করে পড়াশোনায় মনোযোগ ছিল আমার। পড়াশোনার পাশাপাশি তখন থেকেই বাবাকে সহযোগিতা করতাম, হোটেলে বাবার সঙ্গে কাজ করতাম।’ এতে তাঁর খারাপ লাগত না, ভালো লাগত।

মেডিকেলে চান্স পাওয়া আল আমিন নিয়মিত হোটেলে কাজ করেছেন এবং মুঠোফোনের মাধ্যমে অনলাইনে ক্লাস করেছেন।

আল আমিনের বাবা নিজাম উদ্দিন হাওলাদার বলেন, ছোট টিনের ঘর ও ভিটা ছাড়া কিছুই নেই তাঁর। অভাবের সংসার। জীবনে কোনো দিন কোনো কিছুর জন্য বায়না করেনি আল আমিন। ছোটবেলা থেকেই ছেলেটা খুবই ভালো, পড়তে বলা লাগেনি। হোটেলে কাজ করেছে আবার পড়াশোনাও করেছে। রোববারও দোকানে বসে পুরি ও সমুচা বানিয়েছে, ভাত বিক্রি করেছে। আল আমিন ডাক্তারিতে চান্স পাওয়ায় তিনি ও তাঁর পরিবারের সবাই গর্বিত। তিনি ছেলের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

মাধবপুর নিশি কান্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়দেব চন্দ্র শিকারী বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় শিক্ষকদের কাছ থেকে কিছু নেওয়ার জন্য ব্যাকুল থাকত আল আমিন। আমার বিশ্বাস, আল আমিন অনেক বড় মাপের চিকিৎসক হবে এবং চিকিৎসাশাস্ত্রে অনেক বড় অবদান রাখবে।’

এমএসএম / এমএসএম

গাজীপুরের কাশিমপুরে জমি নিয়ে বিরোধ: হামলা, ভাঙচুর ও জোরপূর্বক দখল চেষ্টার অভিযোগ

নালিতাবাড়ীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফলমেলা

গোদাগাড়ীতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও বৃক্ষ বিতরণ

মাদক প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

পঞ্চগড়ে জগদল উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস বাদ দিয়ে মানববন্ধন করার অভিযোগ

রায়গঞ্জে সংস্কার হলো করতোয়া নদীর ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো

সিংড়ায় বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

টঙ্গীতে হানি ট্র্যাপের ফাঁদে যুবক, জিম্মি করে টাকা আদায়: চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

কুতুবদিয়ায় ১৫ মাসেও পৌঁছায়নি বরাদ্দকৃত ভেটেরিনারি মোবাইল ক্লিনিক, অবহেলায় খামারিরা

আলফাডাঙ্গায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুন নিহত -১, ক্ষতি কোটি টাকা

তেঁতুলিয়ায় ৪৭৭ পরিবার পেল ফ্যামিলি কার্ড

মনপুরায় ৭.৯ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের টেন্ডার আহ্বান

রাজস্থলী বাঙ্গালহালিয়াতে মদ ভেবে বিষপানে এক গার্মেন্টস কর্মীর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু