ঢাকা শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬

রায়গঞ্জে স্কুলব্যাগ নয়, শিশু খাদিজার কাঁধে সংসারের বোঝা


সাইদুল ইসলাম আবির, রায়গঞ্জ photo সাইদুল ইসলাম আবির, রায়গঞ্জ
প্রকাশিত: ৫-২-২০২৫ দুপুর ২:৫৭

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে স্কুল ব্যাগের পরিবর্তে সংসারের বোঝা কাঁধে তুলে নিয়েছেন তৃতীয় শেণির শিক্ষার্থী খাদিজা।

রায়গঞ্জ পৌর সভার ক্ষুদ্র বাশুড়িয়া এলাকার মৃত আব্দুল খালেকের বড় মেয়ে ৩য় শেণির শিক্ষার্থী খাদিজা (১১)। মাত্র ৩শ টাকার পণ্য বিক্রি করে স্বপ্ন বুনছেন তিনি। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে বাধ্য হয়েই স্কুল ব্যাগের পরিবর্তে সংসারের বোঝা কাঁধে নিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে তার সংগ্রামী জীবন।

বয়স মাত্র এগারো। অন্য শিশুদের মতো তারও স্বপ্ন ছিল স্কুলে যাওয়া, খেলা ধুলা করা। কিন্তু  স্কুলব্যাগ নয়, তুলে নিতে হয়েছে সংসারের বোঝা। এ যেন নাটকের গল্পকেও
হার মানায়। জীবন সংসারের তাগিদে ছোট বোন ও মার দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির আঙ্গিনায় (রাস্তার পাশে) জরাজীর্ণ পলিথিনে মুড়ানো একটি ছোট্ট দোকান। সকাল ও বিদ্যালয় শেষে পণ্য বিক্রি করে যতটুকু আয় হয়। সেই সামান্য অর্থ  দিয়েই চলে তিনজন নারীর সংগ্রামী জীবন। অসহায় খাদিজা বর্তমান পড়াশোনা করছেন রৌহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

চার বছর পূর্বে মারা গেছেন মেয়েটির বাবা। বিধবা মা লাকি বেগম (৩৫) ও ছোট বোনকে নিয়ে নিদারুণ কষ্টে খেয়ে না খেয়ে চলছে তাদের জীবন।

শিশু খাদিজা দৈনিক সকালের সময়কে জানান, চোখের সামনে বাবা মারা যাওয়ার দৃশ্য আমি দেখেছি। বাবার রেখে যাওয়া দুই বোনের স্বপ্ন পূরণে আমাদের মা দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। যার বাবা নেই, দুনিয়াতে তার কেউ নাই! কে আমাদের খাওয়াবে? কে আমাদের পড়াশোনা খরচ বহন করবে মা আমারকে ও আমার ছোট বোনকে স্কুলে ভর্তি করেছেন। কিন্তু লেখাপড়ার খরচ আমার মা বহন করতে পারেনা। বই, খাতা, কলম,ব্যাগ ইত্যাদি কিনে পারেনা। তাই নিজের পড়াশোনার খরচ ও মাকে সহায়তা করতেই আমি সামান্য কিছু অর্থ দিয়েই ছোট্ট দোকান শুরু করেছি।

ক্ষুদে শিক্ষার্থী খাদিজা আরও বলেন, প্রতিদিন স্কুলে যেতে মন চায়। ইচ্ছা করে অন্য আট-দশজন বন্ধুর মতো সকাল-বিকেল বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে ছুটে বেড়াতে। তবে জীবনের বাস্তবতা বড়ই প্রতিকূল। পরিবারের কোন উপার্জনক্ষম ব্যক্তি  না থাকায়, তার সব আশা,প্রত্যাশা, ইচ্ছা কল্পনা মাত্র। তার স্বপ্ন একজন ভাল মানুষ হয়ে পরিবার, দেশ ও সমাজের  পাশে দাঁড়াবেন বলে জানান তিনি।

খাদিজার মা লাকি বেগম জানান, স্বামী আব্দুল খালেক মারা গেলে অন্যের বাড়িতে কাজ করেই মেয়ের পড়াশোনাসহ কোনমতে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। গ্রামের এক মাহফিলে আত্মীয় স্বজনের দেওয়া ১০/৫০ টাকা করে মোট ৩শ টাকা জমায় খাদিজা। আর সে টাকা দিয়েই রাস্তার পাশে সাদা পলিথিন বেষ্টনী দিয়ে ছোট্ট দোকানে সামান্য পণ্য সামগ্রী বিক্রি করে সংসারে সহায়তা করছে। 

তিনি আরো জানান, মেয়ে দুইটার বাবা মারা যাওয়ার পর সংসার আর চলে না। কিভাবে যে সংসার চলছে তা বোঝানো কঠিন। স্যারেরা বলে মেয়েটার মেধা আছে। তাই পড়াতেই চাইছিলাম কিন্তু অর্থ না থাকায় পড়াশোনাটাও হয়তো বন্ধ হয়ে যাবে। 

সহপাঠী সুরাইয়া, আসিফ, কমরুল বলেন, খাদিজা দারুণ মেধাবী ও খুবই হাস্যোজ্জ্বল। সংসারে অভাব থাকলেও সে আমাদের কাউকে বুঝতে দেয় না। আমরা তাকে সহপাঠী ভাবি কখনোই অন্য চোখে দেখি না।

প্রতিবেশী সামিদুল ইসলাম বলেন, মেয়েটির বাবা  নেই। সংসারের সব বোঝা ওর মা লাকি বেগমের  ওপর। খুব কষ্ট করে মেয়েটাকে পড়াচ্ছে। আমি চাই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বিত্তবান বা সরকার খাদিজাকে সহযোগিতা করুক।

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো: ইলিয়াস হাসান শেখ জানান, স্বামী হারা লাকি বেগমের যদি বিধবা ভাতার কার্ড না থাকে তবে অবশ্যই তাকে ভাতার কার্ড  দেওয়া হবে। এ ছাড়া তিনি আবদেন করলে অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

এমএসএম / এমএসএম

ঠিকাদারের গাফিলতিতে ধ্বসে গেছে মাদ্রাসা ভবন

আত্রাইয়ে সেই কারামুক্ত অসহায় বৃদ্ধা রাহেলার পাশে ইউএনও শেখ মো. আলাউল ইসলাম

আত্রাইয়ে বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম রেজুর গণসংযোগে নেতাকর্মীদের ঢল

বেনাপোল বন্দরে শুল্কফাঁকির পার্টসের চালান জব্দ

রাজস্থলীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত

বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম ইমাম উদ্দিনের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

কুড়িগ্রামে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারনা শুরু

কুমিল্লায় নির্বাচনি প্রচারে মাঠে প্রার্থীরা

রাঙ্গামাটিতে সিএনজির উপর মালবাহী ট্রাক চাপায় এক নারী যাত্রী নিহত

শালিখায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত

মান্দায় গরীবের সম্বল কেড়ে নিলেন- এক ইউপি সদস্য

বাগেরহাটের ফকিরহাটে চুরি করতে এসে গৃহিণীকে হত্যার অভিযোগ

তারাগঞ্জে জামায়াতের নির্বাচনী স্বাগত মিছিল