ঢাকা সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬

ঝিনাইদহে মাছ চাষে সফল উদ্যোক্তা আলিম,দেখাদেখি অন্যরাও ঝুঁকছেন মৎস্য চাষে


শামীমুল ইসলাম শামীম, ঝিনাইদহ photo শামীমুল ইসলাম শামীম, ঝিনাইদহ
প্রকাশিত: ২০-৪-২০২৫ দুপুর ৪:২১

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার কাপাশহাটিয়া ইউনিয়নের পায়রাডাঙ্গা গ্রামের মৃত মুজিবর রহমানের ছেলে আব্দুল আলিম। ২০১৯ সালে একটি বিলে সাড়ে ৯ একর জমিতে ৩টি পুকুর লিজ নিয়ে শুরু করেন মাছ চাষ। চাষ করেন পাবদা,তেলাপিয়া,দেশী ট্যাংরা মাছের মিশ্রচাষ। শুরুতে কিছুটা লাভ হলেও করোনার ছোবলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েন তিনি। সে বছর লাভ তো দূরের কথা চরম আর্থিক সংকটের কারণে মাছের খাবার কেনার পয়সা জোগানোও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে হাল ছাড়েননি আলিম। চরম হতাশাগ্রস্ত অবস্থায় খোঁজখবর নিয়ে আশার ‘মৎস্য চাষ প্রকল্প’ খাত থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নেন। এরপর ঝিনাইদহ মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার থেকে রুই,কাতলা,মৃগেল,পাবদা,তেলাপিয়ার পোনা এনে পুকুরে ছাড়েন। 
যথাসময়ে পুকুরে মাছের খাদ্য প্রয়োগ এবং পরিচর্যা করতে থাকেন। মাছ বড় হলে তা বাজারে বিক্রি করলে সব খরচ বাদ দিয়ে বেশ লাভ হয় তার। এরপর বেশি লাভের আশায় ফের ‘মৎস্য চাষ প্রকল্প’ খাত থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে জমি খনন করে নতুন পুকুর তৈরী করেন। এরপর সেই পুকুরে পাঙ্গাস এবং কার্পজাতীয় মাছের পোনা ছাড়েন। মাছ লালন পালন করে বড় হলে স্থানীয় মাছের আড়তে বিক্রয় করতে থাকেন। এতে সে বছরই খরচ বাদে লাভ হয় প্রায় ৭লাখ টাকা। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন স্থানীয় পর্যায়ে তিনি সফল মৎস্য উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত। ৩টি পুকুরে চাষ শুরু করলেও বর্তমানে তার পুকুরের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭টিতে। আব্দুল আলিম বর্তমানে ৩৫ একর আয়তনের পুকুরে মিশ্রভাবে তেলাপিয়া, পাবদা,দেশি ট্যাংরা,রুই কাতলা,মৃগেল মাছ চাষ করছেন। মাছ ব্যবসায়ীরাও জলাশয়ে গিয়ে মাছ ক্রয় করে নিয়ে যায়। আলিম প্রতিবছর মাছ চাষ করে আয় করছেন প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ টাকা। এছাড়াও পুকুর পাড়ে চাষ করা সবজি এবং কলা বিক্রি করে মাসে বাড়তি আয় করছেন। 
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আব্দুল আলিমের সফলতা দেখে গ্রামের অন্যরাও ঝুঁকে পড়েছেন মাছ চাষে। তার এই উদ্যোগে আশা এনজিও’র কারিগরি ও ঋণ সহায়তা এবং সরকারি সহায়তা প্রদানের উদ্যোগকে সবাই প্রশংসা করছে।
আব্দুল আলিম বলেন, আশার ‘মৎস্য চাষ প্রকল্প খাতের ঋণের অনেক সুবিধা। এই ঋণের সার্ভিস চার্জও কম। তাছাড়া মাসিক কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য। আশার ঋণদানকৃত এনজিও’র টেকনিক্যাল অফিসার কিলন চন্দ্র রায় নিয়মিত আমার মাছের প্রকল্প পরিদর্শন,মাছ চাষে উন্নত প্রযুক্তি ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। ঋণের পুরো টাকা প্রকল্পে বিনিয়োগ করে উপার্জনের পাশাপাশি কিস্তি চালাতে আমার কোন কষ্ট হয়না।
এ ব্যাপারে আশা এনজিও'র টেকনিক্যাল অফিসার (কৃষি) কিলন চন্দ্র রায় বলেন,‘আব্দুল আলিমের এই সফলতার পেছনে সঠিক পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা এনজিও'র নিজস্ব অর্থায়নে ‘মৎস্য চাষ প্রকল্প’ খাতের আওতায় তাকে মাছ চাষে উন্নত প্রযুক্তি,সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ স্থাপন ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে সহযোগিতা করেছি। তার এই সাফল্য অন্য মাছ চাষিদের জন্যও অনুপ্রেরণা হতে পারে।’
আশা এনজিও'র টেকনিক্যাল অফিসার তিনি আরো বলেন, তেলাপিয়া, পাবদা,দেশি ট্যাংরা পাশাপাশি রুই কাতলা,মৃগেল চাষে সফলতা এসেছে। দেশিয় প্রজাতির  মাছ চাষের পাশাপাশি দেশিয় মাছ রক্ষার কোনো বিকল্প নেই। আমাদেও দেশের প্রতিটি উন্মুক্ত জলাশয়কে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের উপযোগী করে তুলতে পারলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও মাছে অপদ্রব্য মেশানো থেকে সকলকে বিরত থাকতে হবে। যারা মাছে ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য মেশায় তাদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

এমএসএম / এমএসএম

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা ভঙ্গুর নেই : অর্থ উপদেষ্টা

কাউনিয়ায় তিস্তা মহাপরিকল্পনার সরেজমিন পরিদর্শনে চীনা রাষ্ট্রদূতসহ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান

মরহুম সলিমুল্লাহ মাস্টার স্মৃতি স্বরণে মিনিবার ফুটবল ফাইনাল টুর্নামেন্ট–২০২৬ অনুষ্ঠিত

রাজস্থলীতে পুলিশের অভিযানে চুরির মামলা গ্রেফতার ২

পাহাড়ের শিশুরা  শিক্ষার পাশাপাশি বিনোদনেও পিছিয়ে 

সংস্কৃতি মঞ্চ,নেত্রকোণা-এর উদ্যোগে গুণীজনের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

শেরপুরে কন্যাশিশুকে হত্যার অভিযোগ: বাবা আটক

ছয়তলা ছাত্রাবাস পাচ্ছে এডওয়ার্ড কলেজ

জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তার গাছ কাটার অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি

সাভারে সন্ত্রাসী সোহানকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

কক্সবাজারে শত কোটি টাকার প্রকল্পে 'সামান্য টিউবওয়েল' স্থাপনেও কউকের দুর্নীতি

নোয়াখালীতে ৬ মামলার আসামিকে পিটিয়ে হত্যা, ডাকাত আখ্যা দিয়ে মিষ্টি বিতরণ

বই-খাতা আর পেনন্সিল হাতে-টিনশেড ঘর কবে ফিরবে শিশুরা?