জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তার গাছ কাটার অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তার তালগাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করায় এক ব্যক্তিকে মারধর, বসতভিটা দখলের চেষ্টা, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগকারী গোদাগাড়ী উপজেলার কাকনহাট শোনশুনি পাড়ার বাসিন্দা মইদুল ইসলাম। তিনি এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের অনুলিপি রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি), গোদাগাড়ী বরাবর পাঠানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত কিছু প্রমাণ ইতোমধ্যে গণমাধ্যমের হাতে এসেছে।
লিখিত অভিযোগে রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ না থাকলেও অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম মনি রাজশাহী মহানগর জামায়াতের রাজপাড়া থানা কমিটির আমির। তিনি গোদাগাড়ীর শোনশুনি পাড়ার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে এবং বর্তমানে রাজশাহী মহানগরীর বহরমপুর এলাকায় বসবাস করছেন।
অভিযোগে মইদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, প্রায় তিন মাস আগে নুরুল ইসলাম মনি ও তার সহোদররা কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি ছাড়াই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকার সরকারি রাস্তার পাশ থেকে ২২টি প্রাপ্তবয়স্ক তালগাছ কেটে বিক্রি করেন।
এছাড়া, গত ২৫ ডিসেম্বর মনির মদদে তার ভাই রফিকুল ইসলামসহ অন্যরা একই রাস্তার পাশ থেকে আরও সাতটি তালগাছ কাটেন। এতে তিনি প্রতিবাদ জানালে তার খামারের ভেতরে থাকা একটি বরই গাছও জোরপূর্বক কেটে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মইদুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি তিনি স্থানীয় ভূমি অফিসে মৌখিকভাবে জানালে ক্ষুব্ধ হয়ে রফিকুল ইসলামসহ অন্যরা তার বসতভিটা দখলের চেষ্টা করেন। বাধা দিলে তাকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং গত ৪ জানুয়ারি গোদাগাড়ী উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পরদিন ৫ জানুয়ারি রফিকুল ইসলাম নিজেকে আহত দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই মনি ও তার ভাইয়েরা তাকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। এতে তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, সরকারি তালগাছ লুটের ঘটনায় নুরুল ইসলাম মনি ছাড়াও তার ভাই রফিকুল ইসলাম, শামসুল আলম ও সালাহউদ্দীন সরাসরি জড়িত। তারা সরকারি রাস্তার ২৯টি প্রাপ্তবয়স্ক তালগাছ প্রকাশ্যে কেটে বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এলাকাবাসী মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম মনি বলেন,
“আমি ছোটবেলা থেকেই রাজশাহী শহরে থাকি। ওই এলাকার জমিজমা সম্পর্কে আমি অবগত নই। এসব ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমার ভাইয়েরা সেখানে থাকেন, তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।”
তার ভাই শামসুল আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা সরকারি রাস্তার কোনো তালগাছ কাটিনি। নিজেদের জমির আটটি তালগাছ কেটেছি। রাস্তার গাছ কে কেটেছে, সে বিষয়ে আমি জানি না।”
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাদাত রত্ন বলেন, “অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে। যদি সরকারি রাস্তার গাছ কাটা হয়ে থাকে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
Aminur / Aminur
রৌমারীতে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
কুষ্টিয়ায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান
রাণীনগরে পাইকারি দোকানের টিন কেটে দেড় লাখ টাকার সিগারেট চুরি, থানায় অভিযোগ
নওয়াপাড়ায় ব্যবসায়ী হত্যা মামলার প্রধান আসামি যশোর থেকে গ্রেফতার
মেঘনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ: “তিন মাসে চার খুন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করছেনঃ হাসনাত আবদুল্লাহ
ফরিদগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজে অনিয়মের অভিযোগে আলোচনায় অধ্যাপক শাহ মোঃ মাছুম মিয়া
শিবপুর থেকে চুরি করা শিশু ৪ হাজার টাকায় বিক্রি
মান্দায় গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
পিরোজপুরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ
পিরোজপুরে ২৫টি হারানো মোবাইল উদ্ধারকরে মালিকদের হাতে তুলে দিল জেলা পুলিশ
অভয়নগরে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে একাধিক সিদ্ধান্ত
তালায় সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের শুভ উদ্বোধন বিএনপি নেতারা ক্ষুব্ধ