ঢাকা শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬

তানোরে ধানের গোলা ও ধান ভাঙ্গানো মিল বিলুপ্ত


সোহানুল হক পারভেজ, তানোর photo সোহানুল হক পারভেজ, তানোর
প্রকাশিত: ১২-৭-২০২৫ দুপুর ৩:২৬

রাজশাহীর তানোরের ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা ও ধান ভাঙ্গানো মিল এখন বিলুপ্তপ্রায়। এর ফলে কৃষকদের জমি থেকেই ধান বিক্রি করে বাজার থেকে চাল কিনে খেতে হচ্ছে। সচেতন মহলের মতে, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মজুদদার ও ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো চালের দাম কমাচ্ছেন বা বাড়াচ্ছেন। একসময় গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে ধান রাখার জন্য ধানের গোলা এবং পাড়া-মহল্লায় ধান ভাঙ্গানোর মিল দেখা যেত। অনেক বাড়িতেই ধান ও আটা কোটার ঢেঁকি ছিল। গোলায় রাখা ধান যখন খুশি বের করে চাল তৈরি ও বাজারে বিক্রি করতেন কৃষকরা। কিন্তু এখন আর সেই দৃশ্য তেমন একটা চোখে পড়ে না।

কৃষকরা বলছেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায়, জায়গার অভাবে এবং ধান ভাঙ্গানো মিল না থাকার কারণে কৃষকরা এখন ধানের গোলা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। কালের আবর্তে ধান সংরক্ষণের জায়গা না থাকায় অধিকাংশ কৃষক তাদের ধান জমি থেকেই বিক্রি করে দিয়ে বাজার থেকে অটো মিলের বস্তাবন্দী চাল কিনে খাচ্ছেন। ফলে, কৃষকদের ঘরে এখন আর তেমন ধান ও চাল মজুদ থাকে না। অতীতে, গোলাভরা ধান মানেই ছিল সচ্ছলতা এবং সম্মান। বিয়ের সময় পাত্রের পরিবার ধানের গোলা ও খড়ের পালার দিকে তাকিয়ে কন্যার পরিবারকে নির্বাচন করতেন। কিন্তু বর্তমানে মাঠ ভরা সোনালী ধান থাকলেও নেই গোলা, গোলা ভরা ধান এবং খৈলান (উঠান) ভরা খড়।

তানোরের গ্রাম অঞ্চলের বাড়ির উঠানে ধানের গোলা ও খড়ের পালা এবং ধান ভাঙ্গানো মিল ও ঢেঁকি, যা একসময় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ও কৃষকের সমৃদ্ধির প্রতীক ছিল, তা এখন বিলুপ্ত হওয়ায় ইতিহাসে পরিণত হতে চলেছে। ৯০-এর দশকের পর আধুনিকতার ছোঁয়ায় যুগের পরিবর্তন ও কালের আবর্তে গ্রামের দৃশ্যপট বদলে গেছে। ধানের গোলা সাধারণত বাঁশ ও কাদা মাটি দিয়ে তৈরি করা হতো। ধান কাটার পর শুকিয়ে গোলার ভেতর রাখা হতো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বের করে ব্যবহার করা হতো। তবে, সময়ের পরিবর্তনে আধুনিক শস্য সংরক্ষণের পদ্ধতি আসায় এবং জায়গা সাশ্রয়ের জন্য কৃষকরা ধানের গোলা থেকে দূরে সরে গেছে বলেও জানান কৃষকরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তানোর সদর গ্রামের খোদা বাক্স মেম্বারের পুত্র মনজুর রহমান বলেন, "আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন দেখেছি আমাদের বাড়ির আঙ্গিনায় ছোট-বড় বেশ কয়েকটি ধানের গোলা এবং খৈলানে বিশাল বড় বড় খড়ের পালা। কিন্তু পিতার মৃত্যুর পর ভাইয়েরা সবাই আলাদা আলাদা সংসার করায় এখন সেগুলো আর নেই।" ধান মাড়াইয়ের পরপরই খৈলান (উঠান) এবং জমি থেকেই ধান বিক্রি করে বাজার থেকে অটো মিলের বস্তাবন্দী চাল কিনে খাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

তানোর পৌর এলাকার ধানতৈড় গ্রামের আদর্শ কৃষক আশরাফুল আলম বলেন, "আমাদের বাড়ির আঙ্গিনায় ধানের গোলা ছিল, এখন আর নেই। ভাইয়ের সংসার আলাদা করতে ভাঙতে হয়েছে ধানের গোলা।" তানোর পৌর এলাকার ধানতৈড় গ্রামের আবু তালহা রানা, যিনি থানা মোড়ের মদিনা ফার্মেসীর মালিক, তিনি বলেন, "আমাদের বাড়িতে এখনো ধানের গোলা রয়েছে, কিন্তু এখন আর ব্যবহার করা হয় না।" তিনি বলেন, "আমাদের সবগুলো জমি বছর চুক্তিতে টাকার বিনিময়ে লীজ দেওয়া আছে।" বাজার থেকে বস্তাবন্দী চাল কিনে খাচ্ছেন বলেও জানান তিনি। তানোর গোল্লাপাড়া মহল্লার ওহাব সরদার বলেন, "আগে গ্রামের গৃহস্থের বাড়ির আঙ্গিনায় ধানের গোলা ও ঢেঁকি এবং খৈলানে খড়ের পালা দেখা যেত। একই সাথে গ্রামে গ্রামে ধান ভাঙ্গানো মিলও দেখা যেত, যা এখন আর দেখা যাচ্ছে না। ফলে, বিলুপ্ত হয়ে গেছে ধানের গোলা ও এর ব্যবহার বলেও জানান তিনি।"

এমএসএম / এমএসএম

আবারও র‍্যাগিংয়ের শিকার, হাসপাতালে পাবিপ্রবির নারী শিক্ষার্থী

রংপুরে ৪ খুন: নমুনা পরীক্ষায় আসামি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের ডিএনএ শনাক্ত

মাগুরায় ৩৫১ কাঁচা রাস্তা গেজেটভুক্ত, দ্রুত পাকাকরণের প্রত্যাশা

মাগুরায় ৩৫১ কাঁচা রাস্তা গেজেটভুক্ত, দ্রুত পাকাকরণের প্রত্যাশা

বাগেরহাটে ব্র্যাকের উদ্যোগে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উযযাপন, বিনামুল্যে আই ক্যাম্প পরিচলনা

পাঁচবিবিতে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল ও অসহায় ব্যক্তিকে হুইল চেয়ার বিতরণ

পিরোজপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জামায়াতের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও লিফলেট বিতরণ

কৃষকের জমি দখল করে মাছ চাষের অভিযোগ

নড়াইলে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারের

রূপগঞ্জে ফরটিস গ্রুপের বিরুদ্ধে জমি দখলের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

ধামরাইয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান

কুড়িগ্রামে সিএনজি চলাচলের অনুমতির দাবিতে চালকদের সড়ক অবরোধ