ঢাকা রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬

আওয়ামী-বিএনপি ২ দলেই ক্ষমতাবান শেরপুরের আলামিন


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৭-৮-২০২৫ দুপুর ১২:২৯

শেরপুর শহরের সাধারণ বাসিন্দা আলামিন প্রায় শতকোটি টাকার মালিক। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শেরপুর সদরের তৎকালীন সংসদ সদস্য সানোয়ার হোসেন সনুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। সেই সময়ে পুলিশের কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সহযোগিতায় জমি দখল, তদবির বাণিজ্য ও নানা অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলেন আলামিন।

অভিযোগ রয়েছে, তার অবৈধ আয়ের বড় অংশ যেত মন্ত্রী, এমপি, এসপি ও ওসির পকেটে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শেরপুর ছাত্র হত্যাকাণ্ডে নীরব ভূমিকা পালন করেন তিনি। পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের গ্রেপ্তার এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহের অন্যতম সহযোগী হিসেবেও তার নাম সামনে আসে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আলামিন বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থায়ী কমিটির নেতাদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির একটি গোষ্ঠীও তাকে সহযোগিতা করছে।

এক সময় নারায়ণপুর এলাকায় তার ছিল একটি জীর্ণ বাড়ি। বর্তমানে সেখানে দাঁড়িয়ে আছে দুটি আলিশান ভবন। জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা নামমাত্র ভাড়ায় সেই বাড়িতে থাকতেন, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ভাড়াও নিতেন না আলামিন। এতে তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। সুযোগ কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো, দমন-পীড়ন চালানো এবং নানা অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন তিনি। উৎসবের সময় উচ্চমূল্যের উপঢৌকন ও গরু দানের মতো কৌশলে তিনি নিজের প্রভাব আরও দৃঢ় করেন।
আলামিন জেলা সদর হাসপাতালের পাশে গড়ে তুলেছেন একটি আটতলা বিশিষ্ট প্রাইভেট ক্লিনিক। এছাড়া বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বাবর অ্যান্ড কোং-এর মালিক আবুল হাসেমের বাড়ি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ঢাকা, শেরপুর ও জামালপুরে তার নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ রয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এখনও তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে হুমকি-ধমকি এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। আগে তিনি মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করতেন, যা এখনও চলমান রয়েছে। পুলিশের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কারণে তিনি বিভিন্ন অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি-ঘনিষ্ঠ কিছু আত্মীয়ের সহায়তায় তিনি এখন সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়া অব্যাহত রেখেছেন। এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এক বছর আগে তিনি আমার বিরুদ্ধে বিএনপির দালাল বলে মামলা করেছিলেন। আর রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আমার বিরুদ্ধেই আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে মামলা করেছেন।’
আরেকজন ভুক্তভোগী জানান, ‘আমরা সাধারণ মানুষ আলামিনের মতো প্রতারকদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাই না। প্রশাসনকেই এগিয়ে আসতে হবে।’
এলাকার সাধারণ মানুষের দাবি, রাজনৈতিক আশ্রয়ে বেড়ে ওঠা এ ধরনের সুবিধাবাদী ও প্রতারকদের দমন করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। এলাকারবাসী বলছেন,  আওয়ামী আমলে যিনি দাপটের সঙ্গে অপরাধ করে গেছেন, তিনি কি এখন বিএনপি ঘেঁষে আবারও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন? কেন আজও তার নামে কোনো মামলা হয়নি? শেরপুরবাসীর দাবি, প্রশাসন যেন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এ ধরনের ক্ষমতাবাজদের দমন করে সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনে।

এমএসএম / এমএসএম

ঈশ্বরদীতে প্রথম জাতীয় ইয়ুথ নিউক্লিয়ার ডায়ালগ অনুষ্ঠিত

নেত্রকোণার মদনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন

নেত্রকোণার মদনে মগড়া নদী থেকে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

বাগেরহাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস- ২০২৬ উযযাপন

চৌগাছায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

পটিয়ায় দিনব্যাপী চিকিৎসা ক্যাম্প, সেবা পেলেন দুই হাজার রোগী

নিয়ামতপুর মডেল প্রেসক্লাবের যাত্রা শুরু সভাপতি জনি সম্পাদক ইমরান

গলাচিপায় নানা আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

মান্দায় জোতবাজার বণিক সমিতির সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে ৪২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

বরিশালে বিএনপির সমাবেশে হাতাহাতি, যুবদল নেতা রক্তাক্ত

আশুগঞ্জে বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির র‍্যালি ও সমাবেশ

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ‘শ্রেষ্ঠ গ্রাম পুলিশ সম্মাননা’ পেলেন শংকর হাওলাদার

মিয়ানমারে পাচারের সময় মিরসরাইয়ে ১৫ টন সারসহ একজন আটক