ঢাকা বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৬

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটে তৃতীয় দফায় বন্যা, ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি


জামাল বাদশা, লালমনিরহাট photo জামাল বাদশা, লালমনিরহাট
প্রকাশিত: ১৩-৮-২০২৫ দুপুর ৪:৫০

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফুলেফেঁপে উঠেছে তিস্তা নদী। বুধবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৩ টায় হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পয়েন্টে পানি সমতল রেকর্ড করা হয় ৫২.১৯ মিটার, যা বিপদসীমার উপরে। এরআগে মঙ্গলবার দুপুরে পানি ছিল বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর, রাতের ভারী বৃষ্টিতে কয়েক ঘণ্টায় বেড়ে যায় নদীর পানি।

তিস্তায় পানি বৃদ্ধির ফলে লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত ১০ হাজার পরিবার। বন্যায় ডুবে গেছে গ্রাম-ফসল-সড়ক। নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার সদর, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও পাটগ্রাম উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বহু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সানিয়াজান, সিঙ্গামারী, সিন্দুর্না, হলদিবাড়ী, ডাউয়াবাড়ী; কালীগঞ্জের ভোটমারী, শৈলমারী, নোহালী; আদিতমারীর মহিষখোচা, গোবর্ধন, বাহাদুরপাড়া, পলাশী এবং সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, কুলাঘাট, রাজপুর ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে মানুষজনের দূর্ভোগের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার কালমাটি গ্রামের মর্জিনা বেগমের বাড়িতে ঢুকে পড়েছে পানি, ডুবে গেছে চুলা ও সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। বাধ্য হয়ে তিনি আশ্রয় নিয়েছেন কালমাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায়। ষাটোর্ধ্ব বুলবুলি বেগমও একই দুর্দশায়। চুলায় রান্না করা যাচ্ছে না, সব জিনিস ভিজে গেছে। স্কুলের বারান্দায় দিন কাটাচ্ছি,” বলেন মর্জিনা বেগম।

জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের নদী পাড়ের বাসিন্দা অটোচালক সেলিম ইসলাম জানান, পশুপাখি, শিশু, বৃদ্ধ আর প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি। আমাদের বাড়িতেও পানি ঢুকছে, কিন্তু কেউ খোঁজ নিচ্ছে না।

তৃতীয় দফায় এই বন্যায় আমন ধান, পাটসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল তলিয়ে গেছে। অনেক কৃষকের জমির ফসল ভেসে গেছে পানির স্রোতে। পানির চাপের কারণে বহু বাঁধ ও রাস্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে কালীগঞ্জের দক্ষিণ ভোটমারীতে ইস্ট্রাকো সোলার প্যানেল এলাকার কাছে তিস্তার মূল স্রোত লোকালয়ের দিকে ঢুকে পড়ছে, যা ভাঙনের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সোলার প্যানেল স্থাপন করায় নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করছে পানি, যা বাঁধ ও বসতভিটার জন্য হুমকি।

স্থানীয় বাসিন্দা সামসুল আলম বলেন, সোলার প্যানেলের কারণে পানির চাপ পড়ছে লোকালয়ের রাস্তা ও বাঁধে। এগুলো রক্ষা না করা হলে হাজার হাজার বসতভিটা আর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আগামী দু’দিন পানি বিপদসীমার ওপর দিয়েই প্রবাহিত হতে পারে। পরিস্থিতি ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

এমএসএম / এমএসএম

শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে কুমিল্লায় বিক্ষোভ ও সমাবেশ

গ্লোবাল স্কলার্স অলিম্পিয়াডে স্বর্ণ ও রৌপ্য পদক পেলেন জুড়ীর ওয়ারিশা রাহমান

আওয়ামিলীগের সাথে কোন আপোষ নয় - মনিরুল হক চৌধুরী

প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে বিএনপির গফুর ভূঁইয়ার রিট

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের মাধ্যমে নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে: পিআইবি মহাপরিচালক

সাভারে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের হ্যাঁ ভোটের প্রচারণা

আত্রাইয়ে ট্রেন-ট্রাক সংঘর্ষে অল্পের জন্য শত শত যাত্রী প্রাণে রক্ষা

আমার উপজেলা আমার দায়িত্ব—শিশুর জীবন হোক বাল্যবিবাহ মুক্ত

রূপগঞ্জে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া

নেত্রকোনার মদনে লাহুত হত্যা মামলার আট মাসেও মিলেনি চার্জশীট

দেয়াল পত্রিকা ইভেন্টে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজের লাবিবা

তানোরে ভাতের সাথে বিষ মিশিয়ে নির্বিচারে হাঁস মুরগী মেরে ফেলার অভিযোগ

বাংলাদেশ একটা আধুনিক রাষ্ট্র হতে হবে, সুপ্রদীপ চাকমা