জবির ছাত্রী হল নিয়ে খোদ প্রভোস্টের অভিযোগের পাহাড়
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র ছাত্রীহল বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে বেশ কিছুদিন আগে। গত ৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৫ তম সিন্ডিকেটে পাস হয়েছে হলের নীতিমালাও। বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার পরই হলে ছাত্রী তুলতে চলছে আবেদন প্রক্রিয়া শুরুর কাজ। হলের নির্মাণকাজ শেষ হলেও হল প্রভোস্টের রুমের সার্বিক কাজ শেষ না হওয়া ও জনবল নিয়োগ না দেওয়ার অভিযোগ হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শামীমা বেগমের। প্রভোস্ট এর অফিস রুমে কম্পিউটার, প্রিন্টার, আসবাবপত্রসহ চাহিদা অনুযায়ী জনবল না পাওয়ায় ঠিকভাবে কাজ করা সম্ভব হচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন তিনি।
দৈনিক সকালের সময়ের সাথে আলাপচারিতায় হলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, আমাদের ছাত্রীহলের প্রতি তলাতেই একজন করে হাউস টিউটর দরকার। সেই হিসেবে ১৩ তলায় ১৩ জন হাউজ টিউটর প্রয়োজন। কিন্তু এখন পর্যন্ত হলে একজন হাউজ টিউটর আছে। প্রভোস্ট এর রুমে আমার বসার জন্য টেবিল-চেয়ারসহ অন্যান্য আসবাবপত্র, পর্দা, বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রীর ছবি লাগানোর জন্য চিঠি দিয়েছিলাম গত মার্চের ১৬ তারিখ। যাতে সেখানে বসে ঠিকমতো কাজ করতে পারি। এই যে অফিসের কাজ করতে, টাইপ করতে কম্পিউটার, প্রিন্টারের দরকার হয়, এগুলো করার জন্য অ্যাসিস্ট্যান্ট এর দরকার। সেখানে বসে কাজ করলে একটা টেলিফোন দরকার। এসব চেয়ে চিঠি দিয়েছিলাম। তৎকালীন উপাচার্য মীজান স্যার স্বাক্ষর করে লিখেও দিয়েছিলেন 'জরুরী ব্যবস্থা নিন'। সেটা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেয়াও হয়েছিল। তবুও কাজ হয়নি।
তিনি আরো বলেন, নতুন ভিসি স্যার আসার পর প্রথম মিটিংয়েই আমি আমার বক্তব্যে এসব বলেছি যে আবেদন জানানোর পরও এখনও কিছু পাইনাই। তারপর তড়িঘড়ি করে কয়েকটা কাজ হয়েছে। এখনও আমাকে কম্পিউটার দেয়া হয়নাই, পর্দা লাগানো হয়নাই। আমার নেমপ্লেটও লাগানো হয়নাই। গত সপ্তাহে টিএনটির লাইন লাগানো হইছে। এরপর আবার নতুন করে কিছুদিন আগে আলাদা আলাদা চিঠি দিয়েছি। এখনও পর্যন্ত সবকিছু পাইনি। বাকি কাজগুলো কবে হবে সেটাও বলতে পারছিনা। প্রভোস্ট এর অফিস রুমে বসে কাজ করতে পারছিনা। আমাকে ডিপার্টমেন্ট এর অফিসে থেকেই কাজ করতে হচ্ছে। জনবল না থাকায় ডিপার্টমেন্ট এর অফিস সহায়ককে দিয়েই হলের কাজগুলো করাতে হচ্ছে। তারপরও চেষ্টা করে যাচ্ছি ঠিকভাবে কাজগুলো শেষ করার।
হল নির্মাণের কাজ শেষ করতে দীর্ঘ সময় নেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ জানান তিনি। তিনি বলেন, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই,-তিন বছরের মধ্যে ২০-২২ তলা বিল্ডিং এর কাজ শেষ হয়ে যায়৷ আমাদের এখানেই শুধু ৮-৯ বছর সময় লাগে। আমাদের নতুন একাডেমিক বিল্ডিং এরও একই অবস্থা, এতোদিনেও কাজ শেষ হয়না। অন্যান্য জায়গায় এতো সময় লাগেনা, দ্রুতই বিল্ডিং উঠে যায়। জগন্নাথেই শুধু এতোটা সময় কেন লাগে জানিনা। ছাত্রীহলের কাজটা আরও আগে শেষ হলে আমাদের ছাত্রীদের জন্য অনেকটাই সুবিধা হতো।
হলের সিটের জন্য আবেদন প্রক্রিয়ার বিষয় নিয়েও কথা বলেন তিনি। তিনি জানান, ছাত্রীদের তথ্য আইটি দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে গত ১৪ সেপ্টেম্বর। কাজ চলছে, কাজ শেষ হলেই অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি বলেন, তিন চারদিনের মধ্যেই হয়তো কাজ শেষ হয়ে যাবে। ছাত্রীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবে। ৬২৪ জন ছাত্রী হলে সিট পাবে। আমাদের প্রায় ৬-৭ হাজার ছাত্রী। প্রতিটি সিটের জন্য ১০০ জন দাবিদার। আমাদের চেষ্টা থাকবে দূরত্ব ও মেধা অনুযায়ী সিট বরাদ্দ দেয়া। আমার পছন্দ ছিল যেন প্রতিটি রুমে ব্যাচ অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের সিট দিতে পারি। তারা তো নিজেদের সমস্যার কথা ভালো বুঝতে পারবে। কিন্তু অন্য কোথাও তো এমন নিয়ম নেই। তাই সিনিয়র জুনিয়র মিলিয়েই রুমে সিট বরাদ্দ হবে।
হলের কক্ষগুলোর আসবাবপত্রসহ অন্যান্য কাজ শেষ হয়েছে বলেও জানান তিনি। এছাড়াও ক্যান্টিনের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, হলের কমিটির যারা আছেন তাদের সাথে নিয়ে হল পরিদর্শন করেছি। আসবাবপত্রের কাজ শেষ। ক্যান্টিনের কাজও শেষ হয়েছে। আমরা ক্যান্টিনে রান্নার জন্য বাইরে থেকে ক্যাটারিং আনবো। তারা এসে রান্না করে দিবে, এতে ঝামেলা কম হয়। হলের সামনে একটু খালি জায়গা আছে, সেটায় ময়লা ছিল। পরিস্কার করা হয়েছে, সেখানে একটা ফুলের বাগান করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জানা যায়, জবির একমাত্র ছাত্রী হলটি নির্মাণের প্রথম দফায় মেয়াদ ছিল ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত। কাজ শেষ না হলে বাড়ে দ্বিতীয় মেয়াদ ২০১৩ সালের জুন থেকে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত। এরপর তৃতীয় দফায় মেয়াদ ২০১৬ সালের জুন থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। পরে ২০১৮ সালের জুন থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। পুরোপুরি কাজ শেষ না হলেও গতবছরের ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে হলের উদ্বোধন করেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। এরপর বাকি থাকা কাজ শেষ করা হয় ২০২১ সালে এসে।
জামান / জামান
জুলাই শহীদদের স্মরণে পবিপ্রবিতে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন কুবি শাখার সভাপতি ইফতি সাধারণ সম্পাদক শাওন
জুলাই আন্দোলনে শহীদ কাইয়ুমের পরিবারকে আমন্ত্রণ জানাতে সাভারে কুবি প্রশাসন
সরকারি বাঙলা কলেজে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রকল্যাণের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি বন্ধের দাবিতে উপাচার্যের কাছে কুবি ছাত্রশিবিরের স্মারকলিপি
প্রবাসী কর্মীদের পুনর্বাসনে যৌথ উদ্যোগের আহ্বান ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর
জুলাই অভ্যুত্থান ও ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী লড়াইয়ের স্মরণে শেকৃবিতে যুক্ত হলো ‘হাদি চত্বর’
জবির অস্থায়ী হলের ২০ কোটি টাকা, ১০ তলা ভবন প্রকল্প
দুই দশকে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষা-গবেষণায় অগ্রযাত্রা
রমনা রেজিমেন্ট বিএনসিসির ১৪ দিনব্যাপী ব্যান্ড প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠিত
নোবিপ্রবিতে জুলাইয়ের তিন মুখ, আজ তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘পুলিশ-ডিবি’ পরিচয়ে প্রতারণা: টার্গেট অভিভাবক