রাস্তার হক আদায়ে সওয়াব
একজন মুমিনের পুরোটা জীবনই হওয়া চাই কুরআন-সুন্নাহর আলোয় সাজানো। এমনকি রাস্তা-ঘাটে হাঁটাচলাও যেন হয় সুন্নত মোতাবেক। জীবন-জীবিকার তাগিদে সবাইকেই পথে চলতে হয়। একান্ত অক্ষম না হলে প্রায় সবাই প্রতিদিন ঘরের বাইরে বের হন। পথচলা যেন নিরাপদ ও আরামদায়ক হয় সে জন্য ইসলাম কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছে। এসব মেনে চললে সমাজে শান্তিময় প্রভাব পড়বে।
রাস্তার হক আদায় করা : রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা রাস্তার ওপর বসা থেকে বিরত থাকো। লোকজন বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ, এ ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই। কেননা এটাই আমাদের ওঠা-বসার জায়গা এবং এখানে আমরা কথাবার্তা বলে থাকি। রাসুল (সা.) বললেন, যদি তোমাদের সেখানে বসতেই হয়, তবে রাস্তার হক আদায় করবে। তারা বলল, রাস্তার হক কী? নবীজি বললেন, দৃষ্টি অবনমিত রাখা, কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা, সালামের জবাব দেওয়া, সৎকাজের আদেশ দেওয়া এবং অন্যায় কাজে নিষেধ করা। (বুখারি : ২৪৬৫)
নম্রভাবে চলাচল করা : এমনভাবে চলাচল করা সমীচীন নয়, যাতে গর্ব-অহংকার প্রকাশ পায়। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা জমিনে উদ্ধতভাবে চলাফেরা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো দাম্ভিক ও অহংকারীকে ভালোবাসেন না।’ (সুরা লোকমান : ১৮)
রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস সরানো : হজরত আবু বারজা আল-আসলামি (রা.) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে এমন একটি কাজের নির্দেশ দিন যার দ্বারা আমি উপকৃত হতে পারি। তিনি বলেন, ‘মুসলমানদের যাতায়াতের পথ থেকে কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে ফেলো’ (মুসলিম : ২৬১৮)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘এক ব্যক্তি কখনো কোনো ভালো কাজ করেনি, শুধু একটি কাঁটাযুক্ত ডাল রাস্তা থেকে সরিয়ে ছিল। হয়তো ডালটি গাছেই ছিল, কেউ তা কেটে ফেলে রেখেছিল অথবা রাস্তায়ই পড়ে ছিল। সে তা সরিয়ে ফেলেছিল। আল্লাহ তার এ কাজ সাদরে গ্রহণ করলেন এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালেন।’ (আবু দাউদ : ৫২৪৫)
পথ প্রদর্শন করা : নতুন কোনো আগন্তুক বা মুসাফির যে রাস্তাঘাট ভালোভাবে চিনতে পারছে না কিংবা পথ হারিয়ে ফেলেছে, এমন ব্যক্তিদের সঠিক ঠিকানা ও রাস্তা দেখিয়ে উপকৃত করা। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা পথে বা রাস্তায় বসা থেকে বিরত থাকো। আর যদি তোমরা সেখানে বসতে বাধ্য হও, তা হলে রাস্তার হক আদায় করবে। বলা হলো রাস্তার হক কী? তিনি বললেন, দৃষ্টি নিম্নগামী রাখা, সালামের উত্তর দেওয়া এবং পথহারাকে পথ প্রদর্শন করা।’ (আল-আদাবুল মুফরাদ : ১১৪৯)
বোঝা বহনকারীকে সাহায্য করা : ইসলাম সবসময় অন্যকে উপকার করার শিক্ষা দেয়। নানা শ্রেণিপেশার মানুষ পথে চলাফেরা করে। যাদের সঙ্গে ভারী বোঝা থাকে সাধ্যমতো তাদের সাহায্য করা। রাসুল (সা.) বলেন, ‘রাস্তার ওপর বসা ভালো নয়। তবে সে ব্যক্তির জন্য ভালো, যে রাস্তা দেখিয়ে দেয়, সালামের জবাব দেয়, দৃষ্টি অবনত রাখে এবং বোঝা বহনকারীকে সাহায্য করে।’ (মেশকাত : ৪৬৬১)
বাহন দ্রুত চালনা না করা : যানবাহনে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ বিভিন্ন ধরনের যাত্রী থাকে। ফলে যানবাহন দ্রুত চালালে তাদের কষ্ট হয়। এতে যানবাহন নিয়ন্ত্রণেও সমস্যা হয়। তাই যানবাহন ধীরে ও সতর্কতার সঙ্গে চালাতে হবে। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার উম্মে সুলাইম (রা.) সফরের সামগ্রীবাহী উটে সওয়ার ছিলেন। আর রাসুল (সা.)-এর গোলাম আনজাশা উটগুলোকে দ্রুত হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন রাসুল (সা.) তাকে বললেন, ‘হে আনজাশা, তুমি কাচের পাত্র বহনকারী উটগুলো আস্তে আস্তে হাঁকাও।’ (বুখারি : ৬২০২)
Aminur / Aminur
রিজিকে বরকত লাভে করণীয়
রমজান শেষ হওয়ার আগে যে কাজগুলো করা জরুরি
সদকাতুল ফিতরের প্রয়োজনীয় মাসআলা
সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াতের ফজিলত
আই নিউজ বিডি কার্যালয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত: বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় আপস না করার অঙ্গীকার
অসহায়দের পাশে দিয়ামনি ই কমিউনিকেশন, রমজানে কোরআন ও জায়নামাজ বিতরণ
রোজা অবস্থায় চোখ, কান ও নাকে ড্রপ দেওয়া যাবে কি?
রমজানের শিক্ষা
জুমার দিন যা করলে মিলবে উট কোরবানির সওয়াব
রমজানে কখন সবচেয়ে বেশি দোয়া কবুল হয়
রোজা রেখে ইনজেকশন ব্যবহার
সেহরি না খেলে কী রোজা রাখা যাবে?