ঈমান ধ্বংসকারী ফেতনা থেকে আত্মরক্ষা
পৃথিবীতে মানুষকে পাঠানো হয়েছে পরীক্ষার জন্য। আল্লাহ কষ্ট এবং আনন্দ দিয়ে মানুষকে পরীক্ষা করেন। মানুষ সুখের সময় আল্লাহকে কীভাবে স্মরণ করে এবং দুঃখের সময় কীভাবে স্মরণ করে- আল্লাহ এটা দেখতে চান। এই পরীক্ষার কথা আল্লাহ তায়ালা কুরআনে ‘ফেতনা’ শব্দে ব্যক্ত করেছেন। এই ফেতনায় যে উত্তীর্ণ হতে পারবে, সে পরকালে অফুরন্ত পুরস্কার লাভ করবে।
আর যে ফেতনায় জড়িয়ে যাবে, তার জন্য রয়েছে কঠিন পরিণাম। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সময় যত গড়াবে, মানুষের সামনে ফেতনার পরিমাণ ততই বাড়তে থাকবে। এমনকি তসবির দানা ছিঁড়ে গেলে যেভাবে দ্রুত তা ঝরে পড়তে থাকে, একসময় এমন দ্রুততার সঙ্গে ফেতনার পর ফেতনা আসতে থাকবে। বান্দার কাজ ফেতনাকে চিহ্নিত করা এবং তা ঈমান-আমলের সঙ্গে উতরে যাওয়ার চেষ্টা করা।
মানবজাতির পিতা হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টির পর যখন তাঁর সম্মানার্থে সেজদার আদেশ অমান্য করে ইবলিশ শয়তান অস্বীকার ও অহংকার করে অভিশপ্ত হলো এবং চিরতরে জান্নাত থেকে বিতাড়িত হলো, তখন সে তার মতো করে কয়েকটি স্বার্থ আল্লাহর কাছ থেকে আদায় করে নিয়েছিল। তন্মধ্যে একটি চ্যালেঞ্জ ছিল যা পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বর্ণনা করেছেন, ‘আমি তাদের (আদম সন্তানের) সম্মুখ দিয়ে, পেছন দিয়ে, ডানদিক দিয়ে এবং বামদিক দিয়ে আসব। আর আপনি তাদের অধিকাংশকেই কৃতজ্ঞ পাবেন না’ (সুরা আরাফ : ১৭)।
এ আয়াতে শয়তান এটা বোঝায়নি যে, সে সরাসরি মানুষের সামনে এসে দাঁড়াবে। বরং সে চতুর্দিক থেকে বিভিন্ন ঈমান বিধ্বংসী কার্যকলাপ নিয়ে হাজির হবে, যাতে মানুষকে চিরতরে জাহান্নামি বানিয়ে দিতে পারে।
সে ধারাবাহিকতায় বাস্তবে আমরা দেখি বর্তমানে ঠিকই শয়তান চতুর্দিক দিক থেকে বিভিন্ন ধরনের ঈমান বিধ্বংসী বিষয় নিয়ে আসছে। উপভোগ, উদযাপন, সামাজিক কালচারের নামে বিধর্মীদের কালচার ও বিশ্বাস মুসলিম সমাজে প্রবেশ করাচ্ছে। বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের মনেপ্রাণে বদ্ধমূল হয়ে যাচ্ছে যে, হ্যাঁ এসব কালচার-আচার অনুষ্ঠানই আমার সফলতা ও সুখময় জীবনযাপনের মাধ্যম। বহু মানুষ দলে দলে সে ফাঁদে পড়ে ঈমান হারাচ্ছে। আর রাসুল (সা.)-এর সে বাণী বাস্তব রূপ নিচ্ছে যে, তিনি বলেছিলেন, ‘একটা যুগ আসবে যখন হাতে অঙ্গার রাখার মতোই ঈমান রক্ষা কঠিন হয়ে যাবে।’ (মেশকাত)
এ জন্য ফেতনার সময় করণীয় সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) শিক্ষা দিয়ে গেছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) বলেন, ‘একদা আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চারপাশে বসা ছিলাম। তখন তিনি ফেতনা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, তোমরা যখন দেখবে মানুষের ওয়াদা নষ্ট হয়ে গেছে, তাদের আমানতদারি কমে গেছে এবং তারা এরূপ হয়ে গেছে, এ বলে তিনি তাঁর হাতের আঙুলগুলো পরস্পরের মধ্যে মিলালেন। বর্ণনাকারী বলেন, একথা শুনে আমি দাঁড়িয়ে তাঁকে বললাম আল্লাহ আমাকে আপনার জন্যে উৎসর্গিত করুন! আমি তখন কী করব?
তিনি বললেন, তুমি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে তোমার ঘরে অবস্থান করো, তোমার জিহ্বা সংযত রাখো; যা জানাশোনা আছে তাই গ্রহণ করো এবং অজানাকে পরিত্যাগ করো। আর তোমাদের নিজের ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্ক হও এবং সাধারণের সম্পর্কে বিরত থাকো।’ (আবু দাউদ)
Aminur / Aminur
রিজিকে বরকত লাভে করণীয়
রমজান শেষ হওয়ার আগে যে কাজগুলো করা জরুরি
সদকাতুল ফিতরের প্রয়োজনীয় মাসআলা
সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াতের ফজিলত
আই নিউজ বিডি কার্যালয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত: বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় আপস না করার অঙ্গীকার
অসহায়দের পাশে দিয়ামনি ই কমিউনিকেশন, রমজানে কোরআন ও জায়নামাজ বিতরণ
রোজা অবস্থায় চোখ, কান ও নাকে ড্রপ দেওয়া যাবে কি?
রমজানের শিক্ষা
জুমার দিন যা করলে মিলবে উট কোরবানির সওয়াব
রমজানে কখন সবচেয়ে বেশি দোয়া কবুল হয়
রোজা রেখে ইনজেকশন ব্যবহার
সেহরি না খেলে কী রোজা রাখা যাবে?