কুরআন শরিফের অনন্য বৈশিষ্ট্য
পৃথিবীতে মানবজাতির হেদায়েতের জন্য আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন। হেদায়েতের গাইড হিসেবে অনেক নবী-রাসুলকে আল্লাহ তায়ালা আসমানি কিতাবও দিয়েছেন। সেগুলোর মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ও বিশুদ্ধ কিতাব কুরআন। কেয়ামত পর্যন্ত আগত মানুষ ও জিন জাতির হেদায়েতের জন্য সবশেষ নাজিলকৃত কিতাব কুরআন। সবশেষ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর তা আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। কুরআনের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যেগুলো অন্য কোনো আসমানি কিতাবের নেই।
অধিক প্রভাব সৃষ্টিকারী : আসমানি গ্রন্থগুলোর মধ্যে সর্বাধিক ক্রিয়া ও প্রভাব সৃষ্টিকারী গ্রন্থ হচ্ছে আল কুরআন। কুরআনের ক্রিয়া ও প্রভাব এতটাই যে, একজন কাফেরও যখন এ কুরআন শোনে, তখন সে দুনিয়ার সবকিছু ভুলে একনিষ্ঠভাবে কুরআনের প্রতি মনোযোগী হয়ে যায়। কুরআন প্রভাব সৃষ্টির ক্ষেত্রে অনেক শক্তিশালী। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অভ্যাস ছিল, যখনই কেউ তাঁর কাছে আসত, তিনি তার সামনে কুরআন তেলাওয়াত করতেন আর কুরআন তেলাওয়াত শুনে আগন্তুক এতটাই মুগ্ধ ও প্রভাবিত হতো যে, পৃথিবীর অপরাপর কোনো কিতাবের ক্ষেত্রে তা পাওয়া যায় না।
মুখস্থ করা সহজ : মহান আল্লাহ মানুষের জন্য কুরআন শেখা সহজ করেছেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘কুরআন আমি সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য; অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?’ (সুরা কামার : ১৭)। ইমাম কুরতুবি (রহ.) উপরোক্ত আয়াতের অর্থ এভাবে করেছেন, ‘আমি তা সহজ করেছি মুখস্থের জন্য, যে মুখস্থ করতে চায় তাকে সাহায্য করি। সুতরাং তা মুখস্থ করতে আগ্রহী কেউ আছে কি? যাকে সাহায্য করা হবে’ (তাফসিরে কুরতুবি : ১৭/১৩৪)। ‘উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?’ বাক্যের ব্যাখ্যায় ইমাম সুয়ুতি (রহ.) লেখেন, তা দ্বারা উপদেশ গ্রহণকারী ও তা মুখস্থকারী কেউ আছে কি? এখানে প্রশ্নবোধক বাক্য দ্বারা আদেশ বোঝানো উদ্দেশ্য। অর্থাৎ তোমরা তা মুখস্থ করো এবং তা দ্বারা উপদেশ গ্রহণ করো। (তাফসিরে জালালাইন, পৃষ্ঠা ৭০৬)
অধিক তেলাওয়াত : কুরআন পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বাধিক পঠিত গ্রন্থ। যা প্রতি মুহূর্তে কোটি কোটি মানুষ তেলাওয়াত করেন। কেউ নামাজে তেলাওয়াত করেন, কেউ স্বাভাবিকভাবে তেলাওয়াত করেন, কেউ মুখস্থ করেন, কেউ অধ্যয়ন করেন, কেউ গবেষণা করেন, কেউ শিক্ষা দেন, অনেক মানুষ অনেক পদ্ধতিতে কুরআন তেলাওয়াতের সঙ্গে জড়িত থাকেন। কুরআন পৃথিবীর একমাত্র গ্রন্থ যা পাঠ করলে সওয়াব হয়, প্রতিটি বর্ণে একটি করে নেকি লাভ হয়। আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত বর্ষিত হয়। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আর যারা আল্লাহর ঘরে একত্র হয়ে আল্লাহর কিতাব তেলাওয়াত করে এবং পারস্পরিক কুরআনের চর্চা করে, তাদের প্রতি ‘সাকিনা’ তথা এক ধরনের বিশেষ প্রশান্তি বর্ষিত হয়, রহমত তাদের আচ্ছাদিত করে নেয় এবং আল্লাহ তাঁর কাছের ফেরেশতাদের মাঝে তাদের আলোচনা করেন’ (মুসলিম : ২৬৯৯)। আরেকটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ পড়ল তার জন্য রয়েছে একটি নেকি। আর একটি নেকি দশ নেকি সমতুল্য। নবীজি বলেন, আমি বলছি না যে, আলিফ-লাম-মিম একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মিম একটি হরফ। (তিরমিজি : ২৯১০)
আরোপিত আপত্তি দূরীকরণ : যুগে যুগে অবুঝ মানুষরা নবী-রাসুলদের ওপর যেসব আপত্তি তুলেছে, পবিত্র কুরআন সেই আপত্তির বলিষ্ঠ জবাব দিয়েছে। স্বজাতিরা আপত্তি তুলেছিল, হজরত নুহ (আ.)-এর ওপর, আপত্তি তুলেছিল, হজরত মুসা (আ.)-এর ওপর। এভাবে প্রত্যেক যুগেই স্বজাতি তাদের নবীদের ওপর নানা ধরনের অবাস্তব ও অবান্তর আপত্তি তুলেছিল। কুরআন সেগুলোর স্পষ্ট ও বলিষ্ঠ জবাব দিয়েছে। সবশেষ আমাদের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর যখন এক মিথ্যুক অপবাদ দিল, তখন আল্লাহ তায়ালা তা পরিষ্কার জবাব দিলেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘অত্যধিক কসমকারী হীন ব্যক্তির কথাও চলো না, যে নিন্দা করতে অভ্যস্ত, চোগলখোরি করে বেড়ায়, সৎকাজে বাধাদানকারী, সীমালঙ্ঘনকারী, পাপিষ্ঠ, রূঢ় স্বভাব, তা ছাড়া নিচ বংশীয়।’ (সুরা কালাম : ১৯-১৩)
শক্তিশালী দলিলি গ্রন্থ : শরিয়তের যেকোনো বিষয়ের অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলিল গ্রহণের ক্ষেত্রে কুরআন হচ্ছে তুলনাহীন। যেমন যারা আল্লাহ তায়ালাকে বিশ্বাস করে না; তাদের ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা আল্লাহর সঙ্গে কুফরি কর্মপন্থা কীভাবে অবলম্বন করো, অথচ তোমরা ছিলে নিষ্প্রাণ, অতঃপর তিনিই তোমাদের জীবন দান করেছেন। অতঃপর তিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন, অতঃপর তিনি পুনরায় তোমাদের জীবিত করবেন, তারপর তোমরা তারই কাছে ফিরে যাবে।’ (সুরা বাকারাহ : ২৮)
সান্ত্বনা প্রদানকারী কিতাব : কুরআন নানা কারণে চিন্তা ও পেরেশানগ্রস্ত মানুষকে সান্ত্বনা দিয়ে থাকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই কুরআন পড়েই সান্ত্বনা গ্রহণ করতেন। পবিত্র কুরআন ইরশাদ হয়েছে, ‘কাফেররা বলে, তার প্রতি সম্পূর্ণ কুরআন একবারেই নাজিল করা হলো না কেন? হে নবী! আমি এরূপ করেছি এর মাধ্যমে তোমার অন্তর মজবুত রাখার জন্য। আর আমি তো এটি পাঠ করিয়েছি থেমে থেমে।’ (সুরা ফুরকান : ৩২)
Aminur / Aminur
রবের করুণা অর্জনের প্রেরণা
জ্ঞান ও সভ্যতার চিরন্তন দর্শন
ইসলামের দৃষ্টিতে ক্রয়-বিক্রয়ের লভ্যাংশ
সাহাবিদের ব্যবসায়িক সাফল্যের রহস্য
কুরআন শরিফের অনন্য বৈশিষ্ট্য
মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব
পুরুষের পোশাকের বিধান
শাবান মাসে মুমিনের করণীয়
সালাম জান্নাতের অভিবাদন
ঐক্যবদ্ধ থাকার সুফল
পরকালের বিভীষিকাময় পথ ‘পুলসিরাত’
নবীজির মেরাজের সফর আমাদের শিক্ষা