সালাম জান্নাতের অভিবাদন
মানুষের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও মমত্ব প্রকাশের জন্য পৃথিবীর প্রত্যেক জাতি ও ধর্মের রয়েছে নির্দিষ্ট অভিবাদন ও সম্ভাষণ। মুসলমানরা সম্প্রীতি প্রকাশ করার জন্য সম্বোধনে একজন আরেকজনকে সালাম প্রদান করে। সালাম মানে শান্তির প্রার্থনা। এর মাধ্যমে নিজের বিনয় প্রকাশ পায়, অন্তর অহংকারমুক্ত হয়, পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি পায় এবং পরকালীন পাথেয় অর্জিত হয়। জান্নাতে প্রত্যেকেই অপরের সঙ্গে সালাম বিনিময় করবে। জান্নাতে প্রবেশের সময়ও জান্নাতিদের সালাম দেওয়া হবে।
পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করত তাদের দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা উন্মুক্ত দরজা দিয়ে জান্নাতে পৌঁছাবে এবং জান্নাতের রক্ষীরা তাদের বলবে, তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা সুখে থাকো, অতঃপর সদাসর্বদা বসবাসের জন্য তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো’ (সুরা জুমার : ৭৩)। অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে, সেখানে (সুখময় জান্নাতে) তাদের প্রার্থনা হবে, হে আল্লাহ, আপনি মহান ও পবিত্র এবং তাদের অভিবাদন হবে ‘সালাম’। আর তাদের প্রার্থনার সমাপ্তি হবে এভাবে, সব প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। (সুরা ইউনুস : ১০)
জান্নাতের পবিত্র অভিবাদনের চর্চা পৃথিবীতেও করতে বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমাদের যদি কেউ সালাম করে, তা হলে তোমরাও তাদের সালাম করো; তারচেয়ে উত্তম সালাম অথবা তারই মতো ফিরিয়ে বলো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়ে হিসাব-নিকাশ গ্রহণকারী’ (সুরা নিসা : ৮৬)।
আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা ঈমানদার না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, আর ঈমানদার হতে পারবে না পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা না হলে। তোমাদের কি এমন একটি বিষয়ের কথা বলব, যা করলে পরস্পরে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে? তোমরা পরস্পরের মধ্যে সালামের ব্যাপক প্রসার ঘটাও’ (মুসলিম : ৫৪)। এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করলেন, ইসলামের কোন কাজ সবচেয়ে ভালো? রাসুল (সা.) বললেন, ‘খাবার খাওয়ানো এবং পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দেওয়া।’ (বুখারি : ১২)
সালামের প্রতিটি বাক্যে দশ নেকি। সালামে মোট তিনটি বাক্য আছে। সুতরাং যে পূর্ণ সালাম দেবে তার ত্রিশটি নেকি অর্জন হবে। একবার এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বলল, ‘আসসালামু আলাইকুম’, রাসুল তার উত্তর দিলেন, তারপর সে বসল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘দশ নেকি।’ অতঃপর অন্য এক ব্যক্তি এলো। সে বলল, ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।’ রাসুল (সা.) উত্তর দিলেন। পরে ওই ব্যক্তি বসে পড়ল। রাসুল (সা.) বললেন, ‘বিশ নেকি।’ অতঃপর অন্য একজন এলো। সে বলল, ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু।’ রাসুল (সা.) উত্তর দিলেন। সেও বসে পড়ল। রাসুল (সা.) বললেন, ‘ত্রিশ নেকি।’ (তিরমিজি : ২৬৮৯)
প্রথমে সালাম দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত, উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। যদি সালামের দ্বারা কোনো দলকে উদ্দেশ্য করা হয়, তা হলে তার উত্তর দেওয়া ওয়াজিবে কেফায়া। অর্থাৎ একজন উত্তর দিলে সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে, তবে সবারই উত্তর দেওয়া উত্তম। উত্তর দেওয়ার সময় সালামের চেয়ে বাড়িয়ে উত্তর দেওয়া সুন্নত। যেমন কেউ ‘আসসালামু আলাইকুম’ বললে উত্তরে ‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ বলা। কেউ ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ বললে উত্তরে ‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু বলা’। (তিরমিজি : ২/১০১)
Aminur / Aminur
রিজিকে বরকত লাভে করণীয়
রমজান শেষ হওয়ার আগে যে কাজগুলো করা জরুরি
সদকাতুল ফিতরের প্রয়োজনীয় মাসআলা
সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াতের ফজিলত
আই নিউজ বিডি কার্যালয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত: বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় আপস না করার অঙ্গীকার
অসহায়দের পাশে দিয়ামনি ই কমিউনিকেশন, রমজানে কোরআন ও জায়নামাজ বিতরণ
রোজা অবস্থায় চোখ, কান ও নাকে ড্রপ দেওয়া যাবে কি?
রমজানের শিক্ষা
জুমার দিন যা করলে মিলবে উট কোরবানির সওয়াব
রমজানে কখন সবচেয়ে বেশি দোয়া কবুল হয়
রোজা রেখে ইনজেকশন ব্যবহার
সেহরি না খেলে কী রোজা রাখা যাবে?