ভুক্তভোগীর পরিবারকে অবহেলা, রায়গঞ্জে ধর্ষণকাণ্ডে সামাজিক ক্ষোভ
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের পরও পুলিশ এখনো কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের গুনগাতী গ্রামের ওই কিশোরী উপজেলা সদর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী।
প্রায় দুই মাস ধরে একই গ্রামের মৃত আয়ুব আলী আকন্দের ছেলে বায়েজিদ আকন্দ প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিল।
এরই এক পর্যায়ে গত ২৮ অক্টোবর মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই যুবক কৌশলে মেয়েটিকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মেয়েটির পিতা মৃত হৃদয় বাবু বেশ কয়েক বছর আগে মারা গেছেন এবং মা আকলিমা বেগম ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। সংসারের অভাব-অনটনের মধ্যে মেয়েটি গ্রামের বাড়িতেই দাদির কাছে থেকে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছিল। পরিবারের দাবি, আর্থিক ও সামাজিক দুরবস্থার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত যুবক প্রভাব খাটিয়ে ঘটনাটি ঢামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি ‘মীমাংসা’ করার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু ভুক্তভোগীর পরিবারকে ন্যায়বিচার না দিয়ে বৈঠক থেকে অভিযুক্তকে পুলিশ নিয়ে গিয়ে রাস্তায় ছেড়ে দেয়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর চাচা ইমরান হোসেন বাবলু রায়গঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তবে অভিযোগের পরও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে পরিবার অভিযোগ করেছে।
ভুক্তভোগীর চাচা ইমরান হোসেন বাবলু বলেন, “আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। বরং স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানিয়েছেন, এ ঘটনায় পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টায় সালিশি বৈঠক বসানো হয়েছিল। সেখানে অভিযুক্ত যুবক তার অপরাধ স্বীকারও করেছে। বৈঠক চলাকালে থানা পুলিশ এসে ওই যুবককে অপহরণ করে বাল্যবিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে তাকে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানা পুলিশ পরে আর তদন্তে এলাকায় আসেনি।
এদিকে, ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় নারী ও শিশু অধিকার কর্মীরা বলছেন, “ধর্ষণের মতো ঘটনায় প্রশাসনের নীরবতা হতাশাজনক। দ্রুত আইনি ব্যবস্থা না নিলে এর প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে।”
বর্তমানে ভুক্তভোগী কিশোরী সিরাজগঞ্জ শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে.এম. মাসুদ রানা ও ঘটনার দিন সালিশি বৈঠক থেকে অভিযুক্তকে উদ্ধার করা এসআইয়ের মুঠোফোন বারবার ফোন করা হলেও তাদের ফোনটি রিসিভ হয়নি।
রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় পুরো গুনগাতী ও আশপাশের এলাকায় ক্ষোভের পাশাপাশি উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও মানবাধিকার কর্মীরা দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
Aminur / Aminur
টঙ্গীতে অপপ্রচার ও মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে যুবদল নেতার সংবাদ সম্মেলন
বেনাপোলে কেমিক্যাল পণ্য চালানে কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি উদঘাটন
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের তীর রক্ষা বাঁধে ধস,
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও কীটনাশক প্রয়োগ কর্মসূচি পালিত
দাউদকান্দিতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গাছ কাটা ও খামার ভাঙচুরের অভিযোগ
মনপুরায় ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক
প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী জনবল সংকটে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
নাসিরনগরে গলায় ফাঁস দিয়ে তরুণের আত্মহত্যা
টাঙ্গাইলে স্মৃতি-আড্ডা আর আনন্দে ব্যবস্থাপনা বিভাগের অ্যালামনাই
ভারতের চোরাই মালসহ গ্রেফতার -১
ধামইরহাট উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে সমাবেশ ও মিছিল
কুড়িগ্রামে ৭ম কাব ক্যামপুরি অনুষ্ঠিত