ঢাকা বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬

যাত্রী - মালামাল ওঠলেও বিক্রি হয় না টিকিট -রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার


আবদুর রহিম, মনোহরগঞ্জ photo আবদুর রহিম, মনোহরগঞ্জ
প্রকাশিত: ৪-১১-২০২৫ দুপুর ৩:১৩

কুমিল্লার লাকসাম-মনোহরগঞ্জ থেকে রেলপথে নোয়াখালীর দূরত্ব প্রায় ৫২ কিলোমিটার। দীর্ঘ এই রেলপথে অন্তত ৬টি প্রতিনিধি স্টেশনের কার্যক্রম গত প্রায় দুই দশক ধরে বিভিন্ন সময়ে বন্ধ হয়ে গেছে। বিভিন্ন সংকটে বন্ধ হওয়া এসব রেলস্টেশনে এখনো ট্রেন থামে, যাত্রীও ওঠে। তবে বিক্রি হয় না টিকিট। বছরের পর বছর ধরে এভাবে বিনাটিকিটের স্টেশনগুলো চলতে থাকায় বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, জনবল সংকটসহ বিভিন্ন কারণে ক্রমান্বয়ে এসব স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। মানুষের কথা চিন্তা করে এখনো ট্রেন সেবা চালু রাখা হয়েছে।স্টেশন আছে, ট্রেন থামে, যাত্রী ওঠে,  টিকিট বিক্রি হয় না, লাকসাম-নোয়াখালী রেলপথের এমন স্টেশনগুলো হচ্ছে- কুমিল্লার লাকসামের দৌলতগঞ্জ, মনোহরগঞ্জের খিলা,  নাথের পেটুয়া , নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর বজরা, নোয়াখালী সদরের মাইজদী, হরিনারায়ণ পুর। এসব স্টেশনে বিনাটিকিটে যাত্রী ওঠার পাশাপাশি বুকিং ছাড়াই মালামালও পারাপার হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।লাকসাম রেলওয়ে জংশন স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, লাকসাম থেকে নোয়াখালীর সোনাপুর পর্যন্ত ৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথে মোট ১২টি স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে দৌলতগঞ্জ, খিলা, নাথের পেটুয়া বজরা, মাইজদী, হরিনারায়ণ পুর- এই ছয়টি স্টেশনের কার্যক্রম ২০০৩ সালের পর থেকে পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে যেতে শুরু করে। সর্বশেষ ২০১৭ সালে লাকসাম পৌর শহরের দৌলতগঞ্জ স্টেশনটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। আগে এই রেলপথে প্রতিদিন আন্তঃনগর, এক্সপ্রেস, লোকাল, ডেমুসহ অন্তত ১২টি ট্রেন চলাচল করতো। বর্তমানে ঢাকা-নোয়াখালী রেলপথে আন্তঃনগর উপকূল এক্সপ্রেস নামে একটি ট্রেন চলাচল করে। আর তিনটি ভিন্ন নামে, এক্সপ্রেস' ট্রেন চলাচল করে।  মোট চারটি ট্রেন চলাচল করছে। ওই এক্সপ্রেস ট্রেনটি কখনো ঢাকা এক্সপ্রেস, কখনো নোয়াখালী এক্সপ্রেস আবার কখনো সমতট এক্সপ্রেস নামে চলাচল করছে। যদিও স্থানীয়দের কাছে এটি লোকাল ট্রেন নামে পরিচিত।যাত্রী ও রেল সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নোয়াখালী থেকে সকাল ৭টায় লাকসামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে সমতট এক্সপ্রেস। লাকসামে এসে পৌঁছায় সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে। সারাদিন লাকসামে অপেক্ষা করে একইদিন সন্ধ্যা ৬টায় একই নামে নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে যায় সেখানে গিয়ে পৌঁছে রাত ৭টার ৫০ মিনিটে। এরপর রাত ৮টা ৪০ মিনিটে নোয়াখালী এক্সপ্রেস হিসেবে ছেড়ে গিয়ে পরদিন ভোরে ঢাকা পৌঁছে। সারাদিন ঢাকায় অপেক্ষা করে ওইদিন সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ঢাকা এক্সপ্রেস হিসেবে নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে ট্রেনটি। ঢাকা থেকে নোয়াখালী গামী ঢাকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে লাকসামে এসে যাত্রাবিরতি করে।যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত ট্রেনটি ভিন্ন নামে চলাচল করে এক্সপ্রেস ট্রেনটিতে টিকিট ছাড়াই লাকসাম-নোয়াখালী রেলপথের ছয়টি স্টেশন থেকে যাত্রী ওঠানামা করছে। দৌলতগঞ্জ থেকে হরিনারায়ণ পুর পর্যন্ত এসব স্টেশনে চলাচলের ক্ষেত্রে ট্রেনটিতে সর্বনিম্ন ২০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা ভাড়া নেওয়ার কথা। কিন্তু স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধসহ টিকিট বিক্রেতা না থাকায় শতাধিক যাত্রী প্রতিনিয়ত বিনাটিকিটে যাতায়াত করছেন।মনোহরগঞ্জের কাটুনিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বলেন, খিলা -নাথের পেটুয়া স্টেশন আমাদের গ্রামের দুইদিকে কাছাকাছি। এক সময় এই স্টেশনগুলো জমজমাট ছিলো। দিনে রাতে ট্রেনের হুইসেল বাজতো। স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় রাতে সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডাসহ অসামাজিক কার্যক্রম ছলে।মনোহরগঞ্জের খিলা এলাকার বাসিন্দা সাহাব উদ্দিন বলেন, নৌপথের পরে এক সময় ট্রেনই ছিলো এ অঞ্চলের প্রধান বাহন। অথচ এখন রেলই বেশি অবহেলিত। স্টেশনগুলো সংস্কার করে চালুর দাবি জানাচ্ছি।লাকসাম রেলওয়েতে কর্মরত একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দৌলতগঞ্জ স্টেশনে এক সময় তিনজন স্টেশন মাস্টার, তিনজন সহকারী স্টেশন মাস্টার, বুকিং ক্লার্ক, টালি ক্লার্ক, নিরাপত্তা বাহিনী, পোর্টারসহ বিভিন্ন পদে লোকবল নিয়োগ ছিলো। বাকি স্টেশনগুলোতেও এভাবে কমবেশি লোকবল ছিলো। কিন্তু সব পদই এখন শূন্য। লোকবলের সংকটে এসব স্টেশন বন্ধ হয়ে রয়েছে। দৌলতগঞ্জ স্টেশনটি দেড় দশক আগেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। এই স্টেশনটি ডাকাতিয়া নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় নদীপথে আসা মালামাল ট্রেনে আনা-নেওয়ার জন্য এটিকে ব্যবহার করা হতো।সরেজমিনে দৌলতগঞ্জ স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, টিকিট বেচা ও মালামাল পরিবহনে বুকিং কার্যক্রম বন্ধ। স্টেশন মাস্টারের কক্ষে ঝুলছে তালা। স্টেশনের উত্তর-পশ্চিম দিকে মূল লাইন ও লুপ লাইনের জায়গাটি বেশ কয়েক বছর আগেই দখল হয়ে গেছে। কুমিল্লায় রেলের ইতিহাস এটি সবচেয়ে বড় দখল। সেখানে নির্মিত হয়েছে কয়েক’শ অস্থায়ী দোকান। গড়ে উঠেছে লাকসামের বৃহৎ কাঁচাবাজার। প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ হকাররা দোকান বসিয়েছেন।এ প্রসঙ্গে জানতে ঊড়দদদচাইলে পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) এ বি এম কামরুজ্জামান বলেন, জনবল সংকটের কারণে ওই স্টেশনগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এজন্য সেখানে টিকিট বিক্রি হচ্ছে না। আমরা মানুষের দুর্ভোগ কথা চিন্তা করে  পরিবহন সেবা চালু রেখেছি। স্টেশন থেকে যাত্রী ওঠলে ট্রেনে থাকা টিটিই (ট্রেন টিকিট পরীক্ষক) যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করছেন।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজালা পারভীন রুহি জানান, আমি সরেজমিন গিয়ে দেখব এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করব । 

Aminur / Aminur

নজরুল বর্ষ উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে ময়মনসিংহে মতবিনিময় সভা

নেত্রকোণার কেন্দুয়া পৌরসভার অনুমোদন ছাড়াই বাসা নির্মাণকাজ--নির্বাহী কর্মকর্তার পরিদর্শনে কাজ বন্ধ 

লোকালয় থেকে উদ্ধারকৃত অজগর কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত

উত্তরাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থায় আরেকটি মাইলফলক

সুবর্ণচরে নারী, শিশু, ব্রাককর্মীসহ ৩ মরদেহ উদ্ধার

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে ইউএনও শিক্ষার মান উন্নয়ন ও ৪টি ক্লাব গঠনের নির্দেশ

কুড়িগ্রামে জমিজমা নিয়ে সংঘর্ষ, স্বামী-স্ত্রীসহ আহত ৫

হানিট্রাপের অভিযোগ সেনাসদস্যের সম্মানহানি তদন্ত দাবি

চাঁদপুর যাত্রী টার্মিনাল প্রকল্প নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে মায়ার লিমিটেড ও কবিরস সিন্ডিকেট জেভি

ভূরুঙ্গামারী থানা জেলার শ্রেষ্ঠ, সেরা সার্কেল এএসপি মুনতাসির ও ওসি আজিম

শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কাটার টাকা ফেরত দিলেন বিএনপি নেতা

মেহেরপুরে ৭০ মেধাবী শিক্ষার্থীকে জেলা পরিষদের বৃত্তি প্রদান

কেডিএর সেবা ও মাস্টার প্ল্যান নিয়ে অভয়নগরে মতবিনিময়