ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

সোনালি ধানের মৌসুমেও কাঙ্ক্ষিত দাম মিলছে না, যশোরের কৃষকদের মুখে হতাশার সুর


মতিন গাজী, অভয়নগর photo মতিন গাজী, অভয়নগর
প্রকাশিত: ১-১২-২০২৫ দুপুর ৪:১০

যশোরে মাঠজুড়ে এখন সোনালি রঙের উচ্ছ্বাস। সদ্য কাটা আমন ধানের সুবাসে ম-ম করছে গ্রামাঞ্চল। ভোরের শিশিরে কিংবা বিকেলের নরম রোদে ধানের গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে দিচ্ছে এক মৌসুমী আনন্দঘন বার্তা। জেলার চৌগাছা থেকে শার্শা—সব জায়গায় ধান কাটার উৎসবমুখর কর্মযজ্ঞ চলছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, জেলার ৭০ শতাংশ জমির ধান ইতোমধ্যে কাটা শেষ হয়েছে।
চৌগাছা, ঝিকরগাছা, মনিরামপুর, কেশবপুর, বাঘারপাড়া ও শার্শায় সর্বত্রই এখন ধান কাটার ব্যস্ততা। বাজারগুলোতেও উঠতে শুরু করেছে নতুন ধান, আর সেই সাথে মিলেছে মৌসুমের প্রথম আতপ চালের সুবাস। তবে এই আনন্দের মাঝেই দুশ্চিন্তায় কৃষকের মন—কারণ বাজারে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত দাম।
মৌসুমের শুরুতে কয়েকদিন টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে নিচু জমির কিছু ধান নষ্ট হয়। মনিরামপুর, কেশবপুর ও শার্শার কৃষকেরা জানান, অতিবৃষ্টির কারণে ধানের কুঁড়ি নষ্ট হয় এবং কিছু জায়গায় শিকড়ে পচন ধরে। তবে মাঠপর্যায়ের কৃষিবিদদের মতে, এসব ক্ষতি সামগ্রিক উৎপাদনে বড় প্রভাব ফেলেনি। সময়মতো বৃষ্টি, রোগবালাই কম থাকা এবং উন্নত জাত ব্যবহারের ফলে এবার আমনের ফলন সন্তোষজনক।
চৌগাছা, নওয়াপাড়া ও কেশবপুরের বাজারে নতুন ধান মণপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১২৫০–১৩০০ টাকায়। কোথাও কোথাও দাম আরও কম। ফলে হতাশ কৃষকরা বলছেন, উৎপাদন খরচ বিবেচনায় দাম ১৭০০–১৮০০ টাকা হলে তবেই লাভবান হওয়া সম্ভব।
ঝিকরগাছার কৃষক আনোয়ার হোসেন জানান, দেড় একর জমিতে ধান রোপণ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। তিনি বলেন, “ইঁদুর কিছুটা নষ্ট করলেও ১৬-১৭ মণ ধান উঠবে।”
মনিরামপুরের কৃষক নাসিম শেখ বলেন, “ফলন ভালো, তবে দামের ওপরই নির্ভর করছে লাভ-লোকসানের হিসাব।”
অভয়নগরের কৃষক মোঃ ছামাদ মোল্লা জানান, ছয় একর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান লাগিয়ে প্রতি একরে ৪২ থেকে ৫০ মণ ফলনের আশা করছেন। তার ভাষায়, “রোগবালাই কম ছিল, তাই খরচও কম। কিন্তু বাজারে দাম সন্তোষজনক নয়।”
শার্শার কৃষক মজনু মিয়া বলেন, “এক একরে ১৮-১৯ হাজার টাকা খরচ। মণপ্রতি ১২০০-১৩৫০ টাকায় বিক্রি করলে লাভ থাকে না। দামটা একটু বাড়লে কৃষকের মুখে হাসি ফুটত।”
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন জানান, মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টিতে সামান্য ক্ষতি হলেও জেলায় বাম্পার ফলন হয়েছে। নতুন উচ্চফলনশীল জাত—ব্রি-১০৩ ও ব্রি-১০৮—ভালো ফলন দিয়েছে এবং বাজারে সাধারণত এসব জাতের দামও তুলনামূলক বেশি।
গ্রামের মাঠে ঘুরে দেখা যায়, নারী-পুরুষ মিলে ধান কাটার ব্যস্ততা। শ্রমিক দল, স্থানীয় যুবকরা মিলেমিশে ধান কাটা, বাঁধা, আনা—সব মিলিয়ে পুরো গ্রামজুড়ে পড়ে আছে উৎসবের আমেজ। অনেক পরিবার ধান ঘরে তুলেই নতুন চালের পিঠা-পায়েস বানিয়ে মৌসুমকে উদ্যাপন করছে।
চলতি মৌসুমে যশোর জেলায় ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে—যা জেলার কৃষি অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। তবে উৎপাদন ভালো হলেও দাম কম থাকায় কৃষকের চোখে-মুখে এখনও স্পষ্ট উদ্বেগ। মৌসুমের এই সোনালি আনন্দ ধরে রাখতে বাজারে ন্যায্য দাম—এটাই এখন যশোরের কৃষকদের একমাত্র চাওয়া।

এমএসএম / এমএসএম

লোহাগড়ার সিডি বাজারে গাঁজা বিক্রির সময় জনতার হাতে মাদক কারবারি আটক

ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর পশ্চিম কমিটিতে আইন বিষয়ক সম্পাদক চৌগাছার জাফর ইকবাল

রৌমারীতে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

কুষ্টিয়ায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান

​রাণীনগরে পাইকারি দোকানের টিন কেটে দেড় লাখ টাকার সিগারেট চুরি, থানায় অভিযোগ

নওয়াপাড়ায় ব্যবসায়ী হত্যা মামলার প্রধান আসামি যশোর থেকে গ্রেফতার

মেঘনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ: “তিন মাসে চার খুন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করছেনঃ হাসনাত আবদুল্লাহ

ফরিদগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজে অনিয়মের অভিযোগে আলোচনায় অধ্যাপক শাহ মোঃ মাছুম মিয়া

শিবপুর থেকে চুরি করা শিশু ৪ হাজার টাকায় বিক্রি

মান্দায় গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

পিরোজপুরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ

পিরোজপুরে ২৫টি হারানো মোবাইল উদ্ধারকরে মালিকদের হাতে তুলে দিল জেলা পুলিশ

অভয়নগরে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে একাধিক সিদ্ধান্ত